গাজীপুর , সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সোনাপুর ইউনিয়ন মেম্বার প্রার্থী ছাব্বির হোসেনের উন্নয়ন ও প্রতিশ্রুতি নওগাঁয় ব্র্যাক প্রাইজ প্রকল্পের কারিগরি প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ ব্র্যাকের প্রশিক্ষণে দুধ উৎপাদন ও গাভী পালনে দক্ষতা বৃদ্ধি ধনবাড়ীতে ৫ বছরে ১২ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত কালিয়াকৈরে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু: নলুয়া এলাকায় হৃদয়বিদারক ঘটনা নাসিরনগরে অটোরিকশা চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চালকের মৃ/ত্যু ঢাকা ডিসি অফিস পিয়ন ফিরোজ: চাঁদাবাজি-জমি দখল তদন্ত শুরু কালিয়াকৈরে প্রিপেইড মিটার সমস্যায় পল্লী বিদ্যুৎ ভোগান্তি চরমে গণরায় বাস্তবায়ন ও চট্টগ্রাম সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমানের কঠোর বার্তা বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশের সিভিল টিমের চমকপ্রদ সাফল্য অর্জন

পাটগ্রামে ভুয়া মাদ্রাসার কার্যক্রম, প্রতারণা ও সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৫ Time View

পাটগ্রামে ভুয়া মাদ্রাসার কার্যক্রম, প্রতারণা ও সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

আব্দুস সামাদ

লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ভুয়া মাদ্রাসা কার্যক্রম, প্রতারণা ও সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী জমিদাতা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আমিনুর রহমান। তিনি পাটগ্রাম উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আশোয়ারপাড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আমিনুর রহমান বলেন, তিনি জগতবেড় দাখিল মাদ্রাসার একজন জমিদাতা সদস্য। ২০০৫ সালে স্থানীয় ছেলে-মেয়েদের ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে তিনি, হাজেরা খাতুন, কাজী আনোয়ার হোসেন ও সফিকুল ইসলাম মিলে মোট ১০২ শতক জমি দান করে একটি মাদ্রাসা স্থাপনের উদ্যোগ নেন। প্রাথমিকভাবে একটি উদ্যোক্তা কমিটি গঠন করে টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয় এবং ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

তিনি আরও জানান, মাদ্রাসা অধিদপ্তর ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেও পাঠদানের অনুমোদন না পাওয়ায় ২০০৮ সালে মাদ্রাসাটির কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে সেখানে কোনো শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। মাদ্রাসা বন্ধ হওয়ার পর তিনি নিজ দানকৃত জমিতে নিয়মিত চাষাবাদ করে আসছিলেন। উল্লেখ্য, তিনি ও তার মা মিলে মোট ৫৮ শতক জমি দান করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তার মায়ের দানকৃত জমির সমপরিমাণ জমি অন্য স্থানে মায়ের নামে লিখে দেন।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ২০২৫ সালে রাতের আঁধারে কাজী আনোয়ার হোসেন ও কাজী ইউনূছ আলী অবৈধভাবে মাদ্রাসার সাইনবোর্ড স্থাপন করে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেন। এ সময় অন্য জমিদাতাদের সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়। তারা চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এবং ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে মাদ্রাসা অধিদপ্তর ও বোর্ডে পাঠদানের অনুমতির আবেদন করেছেন।

এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ সকাল ১১টার দিকে তার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। একইসঙ্গে ১৪ ডিসেম্বর তার ৫০ শতক জমির ফসল সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করে দেওয়া হয়, যাতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এছাড়া তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন। সর্বশেষ ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রায় ২০টি গাছ জোরপূর্বক কেটে নিয়ে অন্যদের দিয়ে বসতঘর নির্মাণ করে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।

তিনি জানান, এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ পাটগ্রাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তবে জিডি করার পরদিনই তাকে থানায় ডেকে নিয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়, যা তার ভাষায় চরম হয়রানি ও সম্মানহানিকর।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অবিলম্বে ভুয়া মাদ্রাসা কার্যক্রম বন্ধ, ভুয়া কাগজপত্র ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, সন্ত্রাসী হামলা ও জমি নষ্টের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং থানায় আটক রাখার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। একইসঙ্গে গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং সাধারণ মানুষকে ভুয়া মাদ্রাসা ও চাকরির নামে প্রতারণার ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Motaleb Hossain

Popular Post

সোনাপুর ইউনিয়ন মেম্বার প্রার্থী ছাব্বির হোসেনের উন্নয়ন ও প্রতিশ্রুতি

পাটগ্রামে ভুয়া মাদ্রাসার কার্যক্রম, প্রতারণা ও সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

Update Time : ০৭:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

পাটগ্রামে ভুয়া মাদ্রাসার কার্যক্রম, প্রতারণা ও সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

আব্দুস সামাদ

লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ভুয়া মাদ্রাসা কার্যক্রম, প্রতারণা ও সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী জমিদাতা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আমিনুর রহমান। তিনি পাটগ্রাম উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আশোয়ারপাড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আমিনুর রহমান বলেন, তিনি জগতবেড় দাখিল মাদ্রাসার একজন জমিদাতা সদস্য। ২০০৫ সালে স্থানীয় ছেলে-মেয়েদের ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে তিনি, হাজেরা খাতুন, কাজী আনোয়ার হোসেন ও সফিকুল ইসলাম মিলে মোট ১০২ শতক জমি দান করে একটি মাদ্রাসা স্থাপনের উদ্যোগ নেন। প্রাথমিকভাবে একটি উদ্যোক্তা কমিটি গঠন করে টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয় এবং ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

তিনি আরও জানান, মাদ্রাসা অধিদপ্তর ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেও পাঠদানের অনুমোদন না পাওয়ায় ২০০৮ সালে মাদ্রাসাটির কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে সেখানে কোনো শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। মাদ্রাসা বন্ধ হওয়ার পর তিনি নিজ দানকৃত জমিতে নিয়মিত চাষাবাদ করে আসছিলেন। উল্লেখ্য, তিনি ও তার মা মিলে মোট ৫৮ শতক জমি দান করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তার মায়ের দানকৃত জমির সমপরিমাণ জমি অন্য স্থানে মায়ের নামে লিখে দেন।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ২০২৫ সালে রাতের আঁধারে কাজী আনোয়ার হোসেন ও কাজী ইউনূছ আলী অবৈধভাবে মাদ্রাসার সাইনবোর্ড স্থাপন করে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেন। এ সময় অন্য জমিদাতাদের সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়। তারা চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এবং ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে মাদ্রাসা অধিদপ্তর ও বোর্ডে পাঠদানের অনুমতির আবেদন করেছেন।

এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ সকাল ১১টার দিকে তার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। একইসঙ্গে ১৪ ডিসেম্বর তার ৫০ শতক জমির ফসল সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করে দেওয়া হয়, যাতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এছাড়া তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন। সর্বশেষ ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রায় ২০টি গাছ জোরপূর্বক কেটে নিয়ে অন্যদের দিয়ে বসতঘর নির্মাণ করে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।

তিনি জানান, এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ পাটগ্রাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তবে জিডি করার পরদিনই তাকে থানায় ডেকে নিয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়, যা তার ভাষায় চরম হয়রানি ও সম্মানহানিকর।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অবিলম্বে ভুয়া মাদ্রাসা কার্যক্রম বন্ধ, ভুয়া কাগজপত্র ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, সন্ত্রাসী হামলা ও জমি নষ্টের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং থানায় আটক রাখার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। একইসঙ্গে গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং সাধারণ মানুষকে ভুয়া মাদ্রাসা ও চাকরির নামে প্রতারণার ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানান।