
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় লবণ শিল্প এলাকায় শ্রমিকদের সঞ্চিত অর্থ নিয়ে সমিতির ক্যাশিয়ার উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রায় তিন কোটি টাকা নিয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন সমিতির ক্যাশিয়ার মো. শামীম। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কর্মবিরতি ঘোষণা করলে বুধবার সকাল থেকে এলাকার প্রায় ৪০টি লবণ মিল কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পটিয়া উপজেলার ইন্দ্রপুল লবণ শিল্প এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৪০টি লবণ মিল পরিচালিত হয়ে আসছে। এসব কারখানায় কাঁচা লবণ সংগ্রহ করে তা প্রক্রিয়াজাত করা হয় এবং পরে বাজারে সরবরাহ করা হয়। এখানে প্রায় ১২০০ শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেন। শ্রমিকদের কল্যাণের জন্য একটি সমিতি গঠন করা হয়েছে, যেখানে সদস্যদের কাছ থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করা হয় এবং তা ব্যাংকে জমা রাখার কথা।
সমিতির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছর পবিত্র রমজান মাসের ২০ তারিখে সদস্যদের মধ্যে এই জমাকৃত অর্থ বিতরণ করা হয়। তবে চলতি বছর অর্থ বিতরণের সময় দেখা যায় বড় ধরনের অনিয়ম। শ্রমিকদের অভিযোগ, সমিতির ক্যাশিয়ার মো. শামীম প্রথমে কয়েকজন সদস্যকে অল্প কিছু টাকা দেন। পরে তিনি প্রায় তিন কোটি টাকা নিয়ে হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যান।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পটিয়া লবণ মিল শ্রমিকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শ্রমিকরা বুধবার সকাল থেকে কর্মবিরতি পালন শুরু করেন। ফলে পুরো লবণ শিল্প এলাকায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ৪০টি কারখানায় লবণ ক্রাশিং বা প্রক্রিয়াজাতকরণ বন্ধ থাকায় মালিকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
খবর পেয়ে দুপুরের দিকে পটিয়া থানার একটি পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পুলিশ শ্রমিকদের শান্ত করার পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেয়। বর্তমানে মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং পুলিশের মধ্যে বৈঠক চলছে বলে জানা গেছে।
পটিয়া লবণ মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফজলুজ হক আল্লাই বলেন, “শ্রমিক সমিতির ক্যাশিয়ার টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগের কারণে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এ কারণেই তারা কাজে যোগ দেয়নি। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য আমরা শ্রমিক ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করছি।”
এদিকে লবণ মিল ক্যাশিয়ার উধাও হওয়ার ঘটনায় শ্রমিকরা তাদের পাওনা টাকা দ্রুত ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট করে উপার্জিত টাকা সমিতিতে জমা দিয়েছিলেন। সেই টাকা নিয়ে যদি কেউ পালিয়ে যায়, তাহলে তা শ্রমিকদের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
স্থানীয়রা মনে করছেন, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে পটিয়ার লবণ শিল্পে বড় ধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। কারণ, এই শিল্পের ওপর নির্ভর করে এলাকার শত শত শ্রমিক পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। তাই শ্রমিকদের দাবি, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাদের সঞ্চিত অর্থ উদ্ধার এবং অভিযুক্ত ক্যাশিয়ারকে আইনের আওতায় আনুক।

Reporter Name 















