
নিজ দলের কেউ দুর্বৃত্তায়ন বা অপরাধে জড়ালেও ছাড় নয়: মির্জা ফখরুল
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি | রহমত আরিফ
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা কোনো ধরনের দুর্বৃত্তায়ন বা অপরাধে জড়িত থাকলে নিজ দলের নেতাকর্মীদেরও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমার দলের কেউ যদি অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে, আমাদের জানাবেন। আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেব। আওয়ামী লীগ যা করেছে, আমার দলের লোককে তা করতে দেব না।”
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি হাই স্কুল মাঠ ও চেরাডাঙ্গী এলাকায় গণসংযোগের চতুর্থ দিনে পৃথক দুটি পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ভোটারদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “আগে আমরা সবসময় নৌকা আর ধানের শীষের লড়াই দেখেছি। এখন নতুন করে দাঁড়িপাল্লা নামের একটি মার্কা সামনে এসেছে, যা এ অঞ্চলের মানুষের কাছে ততটা পরিচিত নয়। জামায়াত পুরনো দল হলেও এই এলাকায় তাদের প্রভাব অতীতে তেমন ছিল না।”
বিএনপি ও জামায়াতের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিএনপি একটি পরীক্ষিত দল, যারা পাঁচবার সুনামের সঙ্গে সরকার পরিচালনা করেছে। আমরা রাজনীতি করে সম্পদ বানাইনি; বরং অনেকেই বাপ-দাদার জমি বিক্রি করে রাজনীতি করেছে।”
বিগত সরকারের সময়কে ‘তাড়া খাওয়ার সময়’ উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “গত ১৫ বছর পুলিশ আমাদের তাড়িয়ে বেড়িয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার প্রায় ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আমার নিজের বিরুদ্ধেই ১১১টি মামলা হয়েছে, ১১ বার কারাগারে যেতে হয়েছে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ৬ বছর কারাবন্দি ছিলেন এবং তারেক রহমান ১৮ বছর নির্বাসনে ছিলেন। জুলাই আন্দোলনের পর সেই দমবন্ধ করা পরিস্থিতি থেকে আমরা মুক্তি পেয়েছি।”
চেরাডাঙ্গীর পথসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “জুলাই আন্দোলনের পর আমরা মুক্ত বাতাস পেয়েছি। এখন আমাদের দায়িত্ব সুন্দর একটি দিন তৈরি করা, হানাহানি বন্ধ করা। ওরা মামলাবাজি করেছে বলে আমাদেরও তা করতে হবে—এমনটা ভাবা যাবে না। এটি কোনো আপস নয়, বরং ভ্রাতৃত্ববোধের একটি নতুন সমাজ গড়ার লড়াই। একে অপরের বিরুদ্ধে হিংসা ছড়ানো বন্ধ করতে হবে।”
এ সময় বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী, স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ, সমর্থক ও সাধারণ ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন।

Reporter Name 









