গাজীপুর , সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সোনাপুর ইউনিয়ন মেম্বার প্রার্থী ছাব্বির হোসেনের উন্নয়ন ও প্রতিশ্রুতি নওগাঁয় ব্র্যাক প্রাইজ প্রকল্পের কারিগরি প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ ব্র্যাকের প্রশিক্ষণে দুধ উৎপাদন ও গাভী পালনে দক্ষতা বৃদ্ধি ধনবাড়ীতে ৫ বছরে ১২ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত কালিয়াকৈরে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু: নলুয়া এলাকায় হৃদয়বিদারক ঘটনা নাসিরনগরে অটোরিকশা চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চালকের মৃ/ত্যু ঢাকা ডিসি অফিস পিয়ন ফিরোজ: চাঁদাবাজি-জমি দখল তদন্ত শুরু কালিয়াকৈরে প্রিপেইড মিটার সমস্যায় পল্লী বিদ্যুৎ ভোগান্তি চরমে গণরায় বাস্তবায়ন ও চট্টগ্রাম সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমানের কঠোর বার্তা বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশের সিভিল টিমের চমকপ্রদ সাফল্য অর্জন

গৌরীপুরে ৫০ হাজার লিটার পেট্রল উধাও, ম্যানেজার গ্রেপ্তার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪৯ Time View

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় একটি ফিলিং স্টেশন থেকে বিপুল পরিমাণ পেট্রল গায়েব হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। “গৌরীপুরে পেট্রল গায়েব” ঘটনাটি এখন স্থানীয়দের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত স্টেশনের ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করেছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা মনির। অভিযানে ফিলিং স্টেশনের নথিপত্র যাচাই করে বড় ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১, ২ ও ৪ এপ্রিল ভৈরব বাজার ডিপো থেকে মোট ৪০ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রল আনা হয়। পরে ৬ ও ৭ এপ্রিল আরও ১৮ হাজার লিটার পেট্রল মজুদ করা হয়। সব মিলিয়ে ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রল স্টেশনে থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা পাওয়া যায়নি। স্টেশনে তখন “তেল নেই” লেখা সাইনবোর্ড ঝুলানো ছিল।

অভিযানের সময় ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাত (৩০)-কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। ফলে তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে “ফিলিং স্টেশন দুর্নীতি” নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

এ ঘটনায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেছেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী আফসারুল ইসলাম।

অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনের মালিক বিএনপি নেতা হাফেজ আজিজুল হক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, প্রতিদিন নিয়ম অনুযায়ী পেট্রল বিক্রি করা হয়েছে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত ভুল তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়েছে।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান জানান, গ্রেপ্তারকৃতকে আদালতে পাঠানো হবে এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।

এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও কঠোর নজরদারির দাবি উঠেছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সোনাপুর ইউনিয়ন মেম্বার প্রার্থী ছাব্বির হোসেনের উন্নয়ন ও প্রতিশ্রুতি

গৌরীপুরে ৫০ হাজার লিটার পেট্রল উধাও, ম্যানেজার গ্রেপ্তার

Update Time : ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় একটি ফিলিং স্টেশন থেকে বিপুল পরিমাণ পেট্রল গায়েব হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। “গৌরীপুরে পেট্রল গায়েব” ঘটনাটি এখন স্থানীয়দের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত স্টেশনের ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করেছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা মনির। অভিযানে ফিলিং স্টেশনের নথিপত্র যাচাই করে বড় ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১, ২ ও ৪ এপ্রিল ভৈরব বাজার ডিপো থেকে মোট ৪০ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রল আনা হয়। পরে ৬ ও ৭ এপ্রিল আরও ১৮ হাজার লিটার পেট্রল মজুদ করা হয়। সব মিলিয়ে ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রল স্টেশনে থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা পাওয়া যায়নি। স্টেশনে তখন “তেল নেই” লেখা সাইনবোর্ড ঝুলানো ছিল।

অভিযানের সময় ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাত (৩০)-কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। ফলে তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে “ফিলিং স্টেশন দুর্নীতি” নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

এ ঘটনায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেছেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী আফসারুল ইসলাম।

অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনের মালিক বিএনপি নেতা হাফেজ আজিজুল হক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, প্রতিদিন নিয়ম অনুযায়ী পেট্রল বিক্রি করা হয়েছে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত ভুল তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়েছে।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান জানান, গ্রেপ্তারকৃতকে আদালতে পাঠানো হবে এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।

এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও কঠোর নজরদারির দাবি উঠেছে।