
মোঃ মনজুরুল ইসলাম
গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ, মারধর ও টাকা আদায়ের অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন— কোনাবাড়ি থানার এএসআই আজিজুল হক, কনস্টেবল নাজমুল হোসেন এবং মামুন হোসেন। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. দেলোয়ার হোসেন তার লিখিত অভিযোগে জানান, তিনি চৌরাস্তা এলাকায় একটি প্রেস ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি রুবেল ফিলিং স্টেশনের বিপরীত পাশে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, অপহরণের পর তাকে বাইমাইল হরিণচালা এলাকার কাশেম কটনের পূর্ব পাশে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। তল্লাশির আগেই তাকে চড়-থাপ্পড় মারা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে একটি পলিথিনে রাখা ইয়াবা ট্যাবলেট দেখিয়ে তাকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়।
এভাবে ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে নগদ ২৮ হাজার ৪০০ টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময় সিএনজিতে থাকা সিফাত নামের আরেক যুবককেও আটকে রাখা হয়। তার মোবাইলে অনলাইন জুয়ার অ্যাপ থাকার অভিযোগ তুলে তাকেও ভয় দেখানো হয় এবং টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়। পরে তার ভাইয়ের মাধ্যমে দেলোয়ারের মোবাইলে ২ হাজার ৪০০ টাকা পাঠানো হয় বলে জানা গেছে।
এরপর অভিযুক্তরা দেলোয়ারকে বাইমাইল মসজিদ মার্কেট এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তার মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট (বিকাশ) থেকে আরও প্রায় ৭ হাজার ২০০ টাকা তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী আরও জানান, টাকা নেওয়ার পর অভিযুক্তরা তার ছবি তুলে রাখে এবং ঘটনাটি কাউকে জানালে বড় ধরনের ক্ষতির হুমকি দেয়। পরে তাকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি নামিয়ে দেওয়া হয় এবং মাত্র ৪০০ টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার পর রাত আনুমানিক ২টার দিকে প্রায় ৮ জন পুলিশ সদস্য তার বাসায় গিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করে। সে সময় তারা জোরপূর্বক ৫ হাজার টাকা ফেরত দেয় বলে দাবি করা হয়েছে।
এই ঘটনায় “গাজীপুর কোনাবাড়ি অপহরণ” নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ খুবই উদ্বেগজনক। অপরদিকে “পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার” সিদ্ধান্তকে প্রাথমিক ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হলেও দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এদিকে পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা জনমনে ভয় ও অনাস্থা তৈরি করে। তাই দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। এতে সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

Reporter Name 
















