
এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ
গণরায় বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ। শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে নগরীর ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে আয়োজিত এই সমাবেশে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জনরায় মানে না যে সরকার, সে জনগণের সরকার হতে পারে না।” তিনি দাবি করেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের মতামত উপেক্ষা করা গণতন্ত্রের মূল চেতনার পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। দেশে দলীয়করণ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তার মতে, একটি নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ঘোষিত বাজেট সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে জনগণ চরম দুর্ভোগে রয়েছে।
এ সময় কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সামাজিক অস্থিরতা জনগণকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তিনি জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের সংস্কার ও সংরক্ষণের দাবি জানান।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন মামুনুল হক, জাগপার মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।
সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ শেষে বক্তারা বলেন, গণরায় বাস্তবায়ন ও চট্টগ্রাম সমাবেশ থেকে জনগণের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। তারা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সমাবেশ ১১ দলীয় ঐক্যের একটি বড় শক্তি প্রদর্শন এবং আসন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

Reporter Name 
















