
অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী।
রাজশাহীতে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন। নগরীর পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে প্রথমবারের মতো নগরবাসীর মাঝে বিনামূল্যে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ বিতরণ ও ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ কার্যক্রম শুরু করেছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর দরগাপাড়া এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। উদ্বোধনের সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও ব্লিচিং পাউডার তুলে দেন। পরে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গিয়ে নাগরিকদের পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতার বার্তাও দেন।
রাসিক সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের আওতায় মহানগরীর প্রায় ৮২ হাজার হোল্ডিংয়ের প্রতিটি মুসলিম পরিবারকে তিনটি করে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ দেওয়া হবে। এছাড়া গরু বা মহিষ কোরবানিদাতাদের জন্য দুটি বড় ব্যাগ ও এক কেজি ব্লিচিং পাউডার এবং ছাগল বা ভেড়া কোরবানিদাতাদের জন্য একটি ব্যাগ ও ৫০০ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, কোরবানির সময় নগরীতে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, পলিথিনের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা যে ব্যাগগুলো বিতরণ করছি সেগুলো পচনশীল এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়। কোরবানির মাংস সংরক্ষণের পাশাপাশি বর্জ্য অপসারণেও এগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে রাজশাহীকে পলিথিনমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।”
রাসিক প্রশাসক জানান, ঈদের দিন থেকেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কাজ শুরু করবেন। দ্রুত বর্জ্য অপসারণে প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ১০ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যেই কোরবানির সব বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হবে।
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোরবানির পশুর রক্ত ও বর্জ্য যেন ড্রেন বা খোলা স্থানে ফেলা না হয়। রাসিকের দেওয়া ব্যাগে বর্জ্য ভরে নির্ধারিত স্থানে রাখার অনুরোধ জানান তিনি। পাশাপাশি দুর্গন্ধ ও জীবাণু প্রতিরোধে ব্লিচিং পাউডার ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
রাসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন ডলার বলেন, দেশের সিটি কর্পোরেশনগুলোর মধ্যে রাজশাহী প্রথমবারের মতো এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। তার মতে, এটি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ যা নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

Reporter Name 









