
শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল কালিয়াকৈর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থা এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও কালিয়াকৈর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডজুড়ে লাখো গ্রাহক প্রতিনিয়ত সার্ভার জট, মিটার ত্রুটি, লোড সমস্যা এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশেষ করে বৃহস্পতিবার রাতের পর থেকে রিচার্জ সার্ভার প্রায়ই অচল হয়ে পড়ে। বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করলেও অনেক সময় ২০ ডিজিটের রিচার্জ কোড পাওয়া যায় না। ফলে টাকা কেটে গেলেও মিটারে বিদ্যুৎ যোগ হয় না। এতে শুক্র ও শনিবার বিদ্যুৎ অফিস বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
কালিয়াকৈর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের এক ভুক্তভোগী জানান, রিচার্জ করার পরও বিদ্যুৎ না থাকায় তার শিশু সন্তান গরমে কষ্ট পেয়েছে এবং বাসায় ফ্যান পর্যন্ত চালানো সম্ভব হয়নি। একইভাবে বড়ইবাড়ি ইউনিয়নের এক গৃহিণী জানান, মিটার নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর কয়েকদিন অপেক্ষা করেও কোনো সমাধান পাননি, ফলে ফ্রিজের খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
অন্যদিকে সফিপুর বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে দোকানের ফ্রিজে থাকা আইসক্রিম ও কোল্ড ড্রিংকস নষ্ট হয়ে প্রতিদিনই হাজার হাজার টাকার ক্ষতি হচ্ছে। প্রিপেইড মিটারের সীমিত লোড ব্যবস্থাও বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। একাধিক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেন, দুই-তিনটি ফ্যান ও লাইট চালালেই মিটার ট্রিপ করে যাচ্ছে, ফলে বারবার অফিসে গিয়ে লোড বাড়াতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদেরও এই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। রাতে ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। গার্মেন্টস কর্মীদের অভিযোগ, রান্না ও দৈনন্দিন কাজের সময় মিটার হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপ-মহাব্যবস্থাপক জানান, সার্ভারের ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে মাঝে মাঝে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এছাড়া জনবল সংকট ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে মিটার পরিবর্তন বা সেবা দিতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তিনি গ্রাহকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিচার্জ করার পরামর্শ দেন এবং জরুরি সেবা উন্নয়নে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর কথাও জানান।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল মনে করেন, এই সংকট নিরসনে দ্রুত জরুরি সেবা সেল চালু করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার অন্তত কয়েক ঘণ্টার জন্য জরুরি সেবা চালু না হলে জনগণের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

Reporter Name 
















