গাজীপুর , শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
এনজিও অর্থ আত্মসাৎ: ১ কোটি ২৭ লাখ টাকায় মামুন মিয়া গ্রেপ্তার বাংলাদেশে কোয়ান্টাম অগ্রগতি: Kepler Q-Max V2.0 সফল ট্রেনিং গোবিন্দগঞ্জে মন্দির সম্পত্তি আত্মসাৎ প্রতিবাদে মানববন্ধন নরসিংদী পৌরসভায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে যুক্ত হলো ৫ ড্রাম ট্রাক পীরগঞ্জে টাঙ্গন নদীতে সেতু সমীক্ষা শুরু সাপাহারে কৃষি প্রণোদনা: ২২০০ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ চট্টগ্রামে মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে বিক্ষোভের মুখে হাসনাত আবদুল্লাহ ত্রিশালে ওসি বদলি নিয়ে সমালোচনা, পুলিশ প্রশাসন প্রশ্নবিদ্ধ অবৈধ বালু উত্তোলন অভিযান সাঘাটা: নদী থেকে দুইজন গ্রেফতার কৃষ্টপুর গ্রামে জমি বিরোধে হামলা: গুরুতর আহত ৩, শ্লীলতাহানির অভিযোগ
ভোটের হাওয়া

এনজিও অর্থ আত্মসাৎ: ১ কোটি ২৭ লাখ টাকায় মামুন মিয়া গ্রেপ্তার

  • Reporter Name
  • Update Time : ৩ মিনিট আগে
  • ১১ Time View

মল্লিক এম.আই বুলবুল সোহেল, পাথরঘাটা প্রতিনিধি
বরিশাল বিভাগে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) “সংগ্রাম”-এর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত শাখা ব্যবস্থাপক মামুন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাত প্রায় ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, গ্রেপ্তারের সময় মামুন মিয়া মাদক সেবন অবস্থায় ছিলেন। এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। মামুন মিয়া গ্রেপ্তার হওয়ায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

সংস্থার অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ টাকার এনজিও অর্থ আত্মসাৎ-এর সঙ্গে তিনি জড়িত। তিনি পটুয়াখালীর গলাচিপা শাখায় শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, মাঠ কর্মকর্তা আলমগীরের সঙ্গে যোগসাজশে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।

জানা গেছে, মামুন মিয়া ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর গলাচিপা শাখায় যোগদান করেন। চলতি বছরের ৪ মার্চ হঠাৎ করেই কাউকে কিছু না জানিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। পরদিন মাঠ কর্মকর্তা আলমগীর কিস্তি আদায়ের কথা বলে বের হয়ে আর ফেরেননি। পরে জানা যায়, তিনি পরিবারসহ পালিয়ে গেছেন।

এ ঘটনায় গলাচিপা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং–২১৭) করা হয়। সংস্থার প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, আলমগীরের তত্ত্বাবধানে থাকা ১৩টি সমিতির মধ্যে প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ ৭৪৩ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষ হলে এই পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, মামুন মিয়া অন্যান্য মাঠ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অনাপত্তিপত্রে স্বাক্ষর নিয়েছিলেন। এছাড়া নিজের নামে বেনামী ঋণ নেওয়ার অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আত্মসাতের পর পলাতক থাকলেও তিনি এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রকাশ্যে চলাফেরা করছিলেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

তার বিরুদ্ধে গলাচিপার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছিল। অবশেষে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।

মামুন মিয়ার বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাড়িটানা গ্রামে। তিনি আ. রশিদের ছেলে।

গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পলাতক মাঠ কর্মকর্তা আলমগীরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

এনজিও অর্থ আত্মসাৎ: ১ কোটি ২৭ লাখ টাকায় মামুন মিয়া গ্রেপ্তার

এনজিও অর্থ আত্মসাৎ: ১ কোটি ২৭ লাখ টাকায় মামুন মিয়া গ্রেপ্তার

Update Time : ৩ মিনিট আগে

মল্লিক এম.আই বুলবুল সোহেল, পাথরঘাটা প্রতিনিধি
বরিশাল বিভাগে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) “সংগ্রাম”-এর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত শাখা ব্যবস্থাপক মামুন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাত প্রায় ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, গ্রেপ্তারের সময় মামুন মিয়া মাদক সেবন অবস্থায় ছিলেন। এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। মামুন মিয়া গ্রেপ্তার হওয়ায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

সংস্থার অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ টাকার এনজিও অর্থ আত্মসাৎ-এর সঙ্গে তিনি জড়িত। তিনি পটুয়াখালীর গলাচিপা শাখায় শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, মাঠ কর্মকর্তা আলমগীরের সঙ্গে যোগসাজশে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।

জানা গেছে, মামুন মিয়া ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর গলাচিপা শাখায় যোগদান করেন। চলতি বছরের ৪ মার্চ হঠাৎ করেই কাউকে কিছু না জানিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। পরদিন মাঠ কর্মকর্তা আলমগীর কিস্তি আদায়ের কথা বলে বের হয়ে আর ফেরেননি। পরে জানা যায়, তিনি পরিবারসহ পালিয়ে গেছেন।

এ ঘটনায় গলাচিপা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং–২১৭) করা হয়। সংস্থার প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, আলমগীরের তত্ত্বাবধানে থাকা ১৩টি সমিতির মধ্যে প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ ৭৪৩ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষ হলে এই পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, মামুন মিয়া অন্যান্য মাঠ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অনাপত্তিপত্রে স্বাক্ষর নিয়েছিলেন। এছাড়া নিজের নামে বেনামী ঋণ নেওয়ার অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আত্মসাতের পর পলাতক থাকলেও তিনি এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রকাশ্যে চলাফেরা করছিলেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

তার বিরুদ্ধে গলাচিপার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছিল। অবশেষে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।

মামুন মিয়ার বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাড়িটানা গ্রামে। তিনি আ. রশিদের ছেলে।

গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পলাতক মাঠ কর্মকর্তা আলমগীরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।