গাজীপুর , সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
সিলেট রেঞ্জে শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হলেন সুনামগঞ্জ সদর রতন শেখ রামিসা হত্যা মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ড, সন্তুষ্ট দেশবাসী ও পরিবার বাসন থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে অস্ত্রসহ ১০ আসামি গ্রেফতার কিশোরগঞ্জে উজ্জ্বল মিয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা ও বিভ্রান্তি ছড়াল বাসন থানা পুলিশের অভিযানে অস্ত্র-মাদকসহ ৫ আসামি গ্রেফতার ইসলামী ব্যাংক নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে কালিয়াকৈরে মানববন্ধন উখিয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে গোলাগুলি, উদ্ধার অস্ত্র ও ইয়াবা চাঁদার দাবিতে হুমকি, মৎস্য খামার নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি কর্ণফুলীতে জাতীয় ছাত্রশক্তির সংগঠকসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার, এলাকায় চাঞ্চল্য যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় চট্টগ্রামে আটকে স্ক্র্যাপ জাহাজ, সংকটে শিল্প
ভোটের হাওয়া
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর নতুন সিদ্ধান্তে তরিকুল ইসলাম সজিব নেত্রকোণা ছাত্রদল কমিটিতে সহ-সভাপতি হলেন গোলাম কিবরিয়া বিএমডিএ চেয়ারম্যান হিসেবে হাসান জাফির তুহিন যোগদান রাঙ্গামাটিতে ছাত্রদল কমিটি বাতিলের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগ এসআইআর বিতর্কে পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক ভোটগ্রহণ ঢাকা উত্তর সিটিতে বিএনপি নেতার ত্যাগ ও অবদান পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ নির্বাচন: প্রধানমন্ত্রীর কাছে সমঅধিকার দাবি কালিয়াকৈরে মানবিক নেতা সাইজুদ্দিন আহমেদ কালিয়াকৈর পৌরসভা: দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত উদ্যোগে জসিম উদ্দিন চট্টগ্রামে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মিদের খুঁজছে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় চট্টগ্রামে আটকে স্ক্র্যাপ জাহাজ, সংকটে শিল্প

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • ৩১ Time View

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রামে ভাঙার জন্য আমদানি করা একটি স্ক্র্যাপ জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকে যাওয়ায় দেশের শিপব্রেকিং শিল্পে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স ও নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত ঝুঁকি যথাযথভাবে যাচাই না করলে ভবিষ্যতে এ খাত আরও বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

জানা গেছে, ‘মেমেই’ নামের একটি কেমিক্যাল ট্যাংকার জাহাজ ভাঙার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামে আনা হয়েছিল। তবে জাহাজটি ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত হওয়ায় এটি বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আটকে রয়েছে। ফলে জাহাজটি ভাঙার ইয়ার্ডে নেওয়া বা স্ক্র্যাপিং কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাহাজটি আমদানি করেছে শওকত আলী চৌধুরীর মালিকানাধীন এসএন করপোরেশন। নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পরে সামনে আসায় প্রতিষ্ঠানটি এখন জাহাজটি মূল মালিকের কাছে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আগে থেকে এ তথ্য জানা থাকলে প্রতিষ্ঠানটি জাহাজটি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিত না।

আন্তর্জাতিক জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ৪৪ হাজার ৮০০ টন ধারণক্ষমতার ‘মেমেই’ জাহাজটি গত ২২ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। ১৯৯৭ সালে নির্মিত পালাউ-পতাকাবাহী এই জাহাজ দীর্ঘদিন ধরে তেল ও রাসায়নিক পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

গত ২৮ মে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) জাহাজটিকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে জাহাজটি ইরান থেকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল। একইসঙ্গে জাহাজটির নিবন্ধিত মালিক হংকংভিত্তিক এভার শাইনিং লিমিটেডকেও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটির স্ক্র্যাপ মূল্য প্রায় ৪৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০ কোটি ৮৮ লাখ টাকার সমপরিমাণ। ফলে জাহাজটি ভাঙা সম্ভব না হওয়ায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের শিপব্রেকিং শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই জাহাজ ক্রয়ের আগে মালিকানা, পূর্ববর্তী কার্যক্রম, নিষেধাজ্ঞা ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত তথ্য আরও গভীরভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনায় শিল্পখাতের সুনাম ও ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ঘটনা দেশের শিপব্রেকিং শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যবসা পরিচালনা করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

সিলেট রেঞ্জে শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হলেন সুনামগঞ্জ সদর রতন শেখ

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় চট্টগ্রামে আটকে স্ক্র্যাপ জাহাজ, সংকটে শিল্প

Update Time : ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রামে ভাঙার জন্য আমদানি করা একটি স্ক্র্যাপ জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকে যাওয়ায় দেশের শিপব্রেকিং শিল্পে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স ও নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত ঝুঁকি যথাযথভাবে যাচাই না করলে ভবিষ্যতে এ খাত আরও বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

জানা গেছে, ‘মেমেই’ নামের একটি কেমিক্যাল ট্যাংকার জাহাজ ভাঙার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামে আনা হয়েছিল। তবে জাহাজটি ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত হওয়ায় এটি বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আটকে রয়েছে। ফলে জাহাজটি ভাঙার ইয়ার্ডে নেওয়া বা স্ক্র্যাপিং কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাহাজটি আমদানি করেছে শওকত আলী চৌধুরীর মালিকানাধীন এসএন করপোরেশন। নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পরে সামনে আসায় প্রতিষ্ঠানটি এখন জাহাজটি মূল মালিকের কাছে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আগে থেকে এ তথ্য জানা থাকলে প্রতিষ্ঠানটি জাহাজটি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিত না।

আন্তর্জাতিক জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ৪৪ হাজার ৮০০ টন ধারণক্ষমতার ‘মেমেই’ জাহাজটি গত ২২ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। ১৯৯৭ সালে নির্মিত পালাউ-পতাকাবাহী এই জাহাজ দীর্ঘদিন ধরে তেল ও রাসায়নিক পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

গত ২৮ মে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) জাহাজটিকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে জাহাজটি ইরান থেকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল। একইসঙ্গে জাহাজটির নিবন্ধিত মালিক হংকংভিত্তিক এভার শাইনিং লিমিটেডকেও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটির স্ক্র্যাপ মূল্য প্রায় ৪৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০ কোটি ৮৮ লাখ টাকার সমপরিমাণ। ফলে জাহাজটি ভাঙা সম্ভব না হওয়ায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের শিপব্রেকিং শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই জাহাজ ক্রয়ের আগে মালিকানা, পূর্ববর্তী কার্যক্রম, নিষেধাজ্ঞা ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত তথ্য আরও গভীরভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনায় শিল্পখাতের সুনাম ও ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ঘটনা দেশের শিপব্রেকিং শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যবসা পরিচালনা করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।