
ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত এবং আরেকজন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি সাধারণ দুর্ঘটনা নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। শুক্রবার (২৩ মে) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ঢাকা-জয়দেবপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কুচাভাঙ্গা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তি হলেন জামালপুর সদর উপজেলার মাইনপুর গ্রামের মৃত শামসুল হকের ছেলে আজমল (৩৩)। গুরুতর আহত হয়েছেন শেখের ভিটা এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে সজিব (১৭)। বর্তমানে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
আহত সজিব জানান, শুক্রবার রাতে তিনি ও তার তিন বন্ধু জামালপুরের ফৌজদারি মোড়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় একটি ড্রাম ট্রাক সেখানে এসে থামে। ট্রাকের ভেতর থেকে এক নারীর চিৎকার শুনতে পান তারা। পরে তিনি ও তার এক বন্ধু ট্রাকটির দিকে এগিয়ে গেলে ট্রাকটি দ্রুত টাঙ্গাইলের দিকে চলে যায়।
সজিবের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে দুই মোটরসাইকেল আরোহীর সহযোগিতায় তারা ট্রাকটির পিছু নেন। কিছুদূর যাওয়ার পর অন্যরা ফিরে গেলেও তিনি এবং মোটরসাইকেল চালক আজমল ট্রাকটিকে অনুসরণ করতে থাকেন। ধনবাড়ী এলাকায় পৌঁছে ট্রাকটিকে না পেয়ে ফেরার পথে কী ঘটেছে, তা তার মনে নেই বলে জানান তিনি।
এদিকে নিহত আজমলের পরিবারের দাবি, পুরো ঘটনাটি সন্দেহজনক। আজমলের বোন বলেন, “যদি এটি সাধারণ বাইক দুর্ঘটনা হতো, তাহলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত থাকত। কিন্তু আমার ভাইয়ের শুধু ঠোঁট ও ভ্রুতে আঘাত পাওয়া গেছে। মোটরসাইকেলেরও তেমন ক্ষতি হয়নি। পাশের ছেলেটিরও বড় ধরনের আঘাত নেই। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”
তিনি আরও বলেন, “ফৌজদারি মোড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা ও পুলিশ উপস্থিত থাকে। সেখানে কীভাবে একজন নারী অপহরণের শিকার হন? আমরা মনে করি, এটি পরিকল্পিত খুন হতে পারে।”
নিহতের বন্ধু শিমুলও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “এখানে অন্য কোনো ঘটনা জড়িত থাকতে পারে। প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।”
ধনবাড়ী থানার এসআই জাকির হোসেন জানান, টহল ডিউটির সময় কুচাভাঙ্গা ব্রিজ এলাকায় একটি মোটরসাইকেল সড়কে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আজমলকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, আহত সজিবের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং নিহতের পরিবারের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

Reporter Name 


















