
নওগাঁর নিয়ামতপুরে জনসাধারণের দোরগোড়ায় দ্রুত ও সহজে ভূমি সংক্রান্ত সেবা পৌঁছে দিতে “ভূমি সেবা মেলা ২০২৬” এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমধর্মী মেলায় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। ভূমি সংক্রান্ত নানা জটিলতা নিরসন, সেবার মান উন্নয়ন এবং জনগণের ভোগান্তি কমাতে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ভূমি সেবা গ্রহণকারী জনগণ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় “ভূমি সেবা মেলা ২০২৬” সাধারণ মানুষের জন্য একটি কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে কাজ করবে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ভূমি সহকারী তহসিলদার মোঃ রুবেল ইসলাম (বাহাদুরপুর-শ্রীমন্তপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস) বলেন, জনগণকে হয়রানিমুক্ত এবং স্বচ্ছ ভূমি সেবা নিশ্চিত করাই এই মেলার মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভূমি সংক্রান্ত নানা জটিলতা ও দালালচক্রের কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছে। এই সমস্যা দূর করতে সরকার ডিজিটাল ভূমি সেবা সম্প্রসারণে জোর দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মেলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, খতিয়ান ও পর্চা সংগ্রহসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা এক জায়গা থেকেই পাচ্ছেন। এতে সময় যেমন বাঁচছে, তেমনি মানুষের অতিরিক্ত খরচ ও হয়রানিও কমছে। এছাড়া ভূমি সংক্রান্ত সঠিক তথ্য জানাতে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।
মেলায় আগত সেবাগ্রহণকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। অনেকেই জানান, আগে একটি কাজের জন্য একাধিকবার অফিসে যেতে হতো। কিন্তু এখন একই স্থানে দ্রুত সেবা পাওয়ায় তাদের সময় ও দুর্ভোগ দুটোই কমেছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা স্মার্ট ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি ব্যবস্থাপনা চালু হলে দুর্নীতি কমবে এবং জনগণ আরও সহজে সেবা পাবে। পাশাপাশি অনলাইন আবেদন ও ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণের মাধ্যমে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধও অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
মেলার বিভিন্ন স্টলে উপস্থিত কর্মকর্তারা আগতদের ভূমি সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের উত্তর দেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পরে অতিথিরা বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং সেবাগ্রহণকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় সেবার মান উন্নয়নে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভূমি বিষয়ক সচেতনতা আরও বাড়বে। পাশাপাশি সরকারি সেবার প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
“ভূমি সেবা মেলা ২০২৬” শুধু একটি সেবামূলক আয়োজন নয়, বরং আধুনিক ও জনবান্ধব ভূমি প্রশাসন গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেও মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

Reporter Name 

















