গাজীপুর , শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
কালিয়াকৈরে পিচ্চি আকাশ গ্রেপ্তার, ১৮ মামলার আসামির অস্ত্র উদ্ধার নাসিরনগরে জাল টাকা উদ্ধার: ১২টি নোটসহ একজন গ্রেপ্তার মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান হলেন চট্টগ্রাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতে ২৪৫ কোটি টাকার প্রস্তাব গাজীপুরে ড্রেন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, দ্রুত ব্যবস্থা চাইলেন এলাকাবাসী উত্তরায় বাস দুর্ঘটনায় দুই সাংবাদিক নিহত, নিরাপদ সড়কের দাবিতে ক্ষোভ দোয়ারাবাজারে রেজাউল করিমকে ঘিরে বাড়ছে জনআলোচনা রাঙ্গামাটি হাসপাতালে ইএনটি বিশেষজ্ঞ ডা. ওমর ফারুকের অবসর ২০ জুলাই কারফিউ: বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সেনা মোতায়েন, স্তব্ধ ময়মনসিংহে জুলাই শহিদ দিবস ২০২৬ উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত
ভোটের হাওয়া
দোয়ারাবাজারে রেজাউল করিমকে ঘিরে বাড়ছে জনআলোচনা সোনাপুরে মানবিক কর্মকাণ্ডে জনসমর্থন পাচ্ছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ছারোয়ার সরিকল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম মৃধাকে ঘিরে আলোচনা ২৩ জুনকে ঘিরে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন আহমদ শফিক শুভ বাসন থানায় পুলিশের জালে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন মন্ডল মান্দা যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল: অপপ্রচার ও অশিষ্ট রাজনীতির প্রতিবাদ গাজীপুরে তারেক জিয়া পরিষদের ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা নাসিরনগরে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন, থানায় মামলা দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর নতুন সিদ্ধান্তে তরিকুল ইসলাম সজিব নেত্রকোণা ছাত্রদল কমিটিতে সহ-সভাপতি হলেন গোলাম কিবরিয়া

মিরপুর-১০ নম্বর ফুটপাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ ভিত্তিহীন, দাবি ব্যবসায়ীদের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • ২৬ Time View

স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকা মিরপুর-১০ নম্বর ফুটপাতকে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও গুজব বলে দাবি করেছেন স্থানীয় হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাদের ভাষ্য, বর্তমানে ফুটপাত এলাকায় আগের তুলনায় অনেক বেশি শৃঙ্খলাপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে জোরপূর্বক অর্থ দিতে হচ্ছে না।

সরেজমিনে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও আশপাশের ফুটপাত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা করছেন শতাধিক হকার। পোশাক, ফলমূল, চা-নাশতা, কসমেটিকস, জুতা, খেলনা ও দৈনন্দিন ব্যবহার্য নানা পণ্যের দোকানে ক্রেতাদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন পর তারা এখন কিছুটা স্বস্তি নিয়ে ব্যবসা করতে পারছেন।

একজন ফল বিক্রেতা বলেন,

“আগে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা ছিল। মাঝে মাঝে অযথা ভয়ভীতি দেখানো হতো। এখন পরিবেশ অনেক ভালো। আমরা শান্তিতে ব্যবসা করতে পারছি।”

আরেকজন হকার বলেন,

“বর্তমানে আমরা নিরাপদে ব্যবসা করছি। কেউ এসে চাঁদা দাবি করে না। প্রতিদিন যা বিক্রি হয়, সেটাই আমাদের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস।”

ব্যবসায়ীরা জানান, সন্ধ্যার পর দোকানপ্রতি ৩০ টাকা করে বিদ্যুৎ বিল বাবদ অর্থ হকার সমিতির কাছে জমা দেওয়া হয়। ফুটপাতের দোকানে ব্যবহৃত লাইটের বিদ্যুৎ খরচ, পরিচ্ছন্নতা ও কিছু যৌথ ব্যবস্থাপনার জন্যই এ অর্থ নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তারা।

একজন পোশাক বিক্রেতা বলেন,

“আমরা শুধু লাইটের বিল হিসেবে ৩০ টাকা দিই। এটা সমিতির নিয়ম অনুযায়ী নেওয়া হয়। এর বাইরে কোনো ধরনের অবৈধ চাঁদা নেই।”

হকার সমিতির এক সদস্য বলেন,

“এখানে যারা ব্যবসা করেন, তাদের সুবিধার জন্য সীমিত পরিসরে কিছু যৌথ খরচ রয়েছে। আলো, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার জন্যই কিছু অর্থ সংগ্রহ করা হয়। এটাকে চাঁদাবাজি বলা সম্পূর্ণ ভুল।”

তিনি আরও বলেন,

“সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে, তার বেশিরভাগই বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই। অনেকেই যাচাই না করেই বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছেন।”

ফুটপাতের এক চা বিক্রেতা বলেন,

“আমরা সবাই মিলেমিশে ব্যবসা করি। এখানে কেউ কাউকে জোর করে টাকা দিতে বাধ্য করছে না। কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা চাপের মুখেও পড়তে হয় না।”

আরেকজন ব্যবসায়ী বলেন,

“যদি সত্যিই কোনো সমস্যা থাকত, তাহলে আমরা নিজেরাই প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিতাম। কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি অনেক ভালো। তাই এসব অভিযোগ শুনে অবাক লাগে।”

স্থানীয় কয়েকজন দোকানদার জানান, সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটপাত এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগসংক্রান্ত কিছু পোস্ট তারা দেখেছেন। তবে বাস্তবে তাদের কাছে কখনও কেউ অবৈধভাবে অর্থ দাবি করেনি।

একজন দোকানদার বলেন,

“কিছু মানুষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়াচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে। ব্যবসার ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।”

একজন ভ্যানচালক বলেন,

“আমরা সারাদিন রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কাজ করি। আমাদের নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হলে সেটা খুব কষ্টের বিষয়।”

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগের তুলনায় ফুটপাত এখন অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত ও গোছানো। ব্যবসায়ীরাও নির্দিষ্ট জায়গা মেনে ব্যবসা করছেন বলে জানিয়েছেন পথচারীরা।

একজন পথচারী বলেন,

“আগে এখানে হাঁটাচলা করতে খুব সমস্যা হতো। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। ফুটপাত তুলনামূলকভাবে ফাঁকা ও গোছানো মনে হয়।”

আরেকজন বলেন,

“সন্ধ্যার পর আলো থাকায় পরিবেশ নিরাপদ লাগে। এখন পরিবার নিয়ে চলাচল করতেও আগের মতো ভয় লাগে না।”

ফুটপাতের এক পুরনো ব্যবসায়ী বলেন,

“আগে বিশৃঙ্খলা বেশি ছিল। এখন সবাই নিয়ম মেনে ব্যবসা করছে। পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে।”

স্থানীয়দের মতে, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার করা হলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন। কারণ গুজব ছড়ালে ক্রেতাদের মধ্যেও নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়, যা সরাসরি ব্যবসার ওপর প্রভাব ফেলে।

একজন ব্যবসায়ী বলেন,

“আমাদের অনুরোধ, কেউ যেন যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করেন। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হয়।”

এদিকে, হকাররা প্রশাসনের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। তাদের দাবি, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, তাহলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

হকারদের ভাষ্য,

“আমরা চাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকুক। কেউ যেন গুজব ছড়িয়ে আমাদের জীবিকার ক্ষতি করতে না পারে। প্রশাসন এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ালে আমরা আরও স্বস্তিতে ব্যবসা করতে পারব।”

স্থানীয়দের আশা, ভবিষ্যতেও মিরপুর-১০ নম্বর ফুটপাতে বর্তমান স্বাভাবিক, নিয়ন্ত্রিত ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকবে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কালিয়াকৈরে পিচ্চি আকাশ গ্রেপ্তার, ১৮ মামলার আসামির অস্ত্র উদ্ধার

মিরপুর-১০ নম্বর ফুটপাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ ভিত্তিহীন, দাবি ব্যবসায়ীদের

Update Time : ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকা মিরপুর-১০ নম্বর ফুটপাতকে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও গুজব বলে দাবি করেছেন স্থানীয় হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাদের ভাষ্য, বর্তমানে ফুটপাত এলাকায় আগের তুলনায় অনেক বেশি শৃঙ্খলাপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে জোরপূর্বক অর্থ দিতে হচ্ছে না।

সরেজমিনে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও আশপাশের ফুটপাত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা করছেন শতাধিক হকার। পোশাক, ফলমূল, চা-নাশতা, কসমেটিকস, জুতা, খেলনা ও দৈনন্দিন ব্যবহার্য নানা পণ্যের দোকানে ক্রেতাদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন পর তারা এখন কিছুটা স্বস্তি নিয়ে ব্যবসা করতে পারছেন।

একজন ফল বিক্রেতা বলেন,

“আগে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা ছিল। মাঝে মাঝে অযথা ভয়ভীতি দেখানো হতো। এখন পরিবেশ অনেক ভালো। আমরা শান্তিতে ব্যবসা করতে পারছি।”

আরেকজন হকার বলেন,

“বর্তমানে আমরা নিরাপদে ব্যবসা করছি। কেউ এসে চাঁদা দাবি করে না। প্রতিদিন যা বিক্রি হয়, সেটাই আমাদের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস।”

ব্যবসায়ীরা জানান, সন্ধ্যার পর দোকানপ্রতি ৩০ টাকা করে বিদ্যুৎ বিল বাবদ অর্থ হকার সমিতির কাছে জমা দেওয়া হয়। ফুটপাতের দোকানে ব্যবহৃত লাইটের বিদ্যুৎ খরচ, পরিচ্ছন্নতা ও কিছু যৌথ ব্যবস্থাপনার জন্যই এ অর্থ নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তারা।

একজন পোশাক বিক্রেতা বলেন,

“আমরা শুধু লাইটের বিল হিসেবে ৩০ টাকা দিই। এটা সমিতির নিয়ম অনুযায়ী নেওয়া হয়। এর বাইরে কোনো ধরনের অবৈধ চাঁদা নেই।”

হকার সমিতির এক সদস্য বলেন,

“এখানে যারা ব্যবসা করেন, তাদের সুবিধার জন্য সীমিত পরিসরে কিছু যৌথ খরচ রয়েছে। আলো, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার জন্যই কিছু অর্থ সংগ্রহ করা হয়। এটাকে চাঁদাবাজি বলা সম্পূর্ণ ভুল।”

তিনি আরও বলেন,

“সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে, তার বেশিরভাগই বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই। অনেকেই যাচাই না করেই বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছেন।”

ফুটপাতের এক চা বিক্রেতা বলেন,

“আমরা সবাই মিলেমিশে ব্যবসা করি। এখানে কেউ কাউকে জোর করে টাকা দিতে বাধ্য করছে না। কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা চাপের মুখেও পড়তে হয় না।”

আরেকজন ব্যবসায়ী বলেন,

“যদি সত্যিই কোনো সমস্যা থাকত, তাহলে আমরা নিজেরাই প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিতাম। কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি অনেক ভালো। তাই এসব অভিযোগ শুনে অবাক লাগে।”

স্থানীয় কয়েকজন দোকানদার জানান, সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটপাত এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগসংক্রান্ত কিছু পোস্ট তারা দেখেছেন। তবে বাস্তবে তাদের কাছে কখনও কেউ অবৈধভাবে অর্থ দাবি করেনি।

একজন দোকানদার বলেন,

“কিছু মানুষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়াচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে। ব্যবসার ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।”

একজন ভ্যানচালক বলেন,

“আমরা সারাদিন রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কাজ করি। আমাদের নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হলে সেটা খুব কষ্টের বিষয়।”

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগের তুলনায় ফুটপাত এখন অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত ও গোছানো। ব্যবসায়ীরাও নির্দিষ্ট জায়গা মেনে ব্যবসা করছেন বলে জানিয়েছেন পথচারীরা।

একজন পথচারী বলেন,

“আগে এখানে হাঁটাচলা করতে খুব সমস্যা হতো। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। ফুটপাত তুলনামূলকভাবে ফাঁকা ও গোছানো মনে হয়।”

আরেকজন বলেন,

“সন্ধ্যার পর আলো থাকায় পরিবেশ নিরাপদ লাগে। এখন পরিবার নিয়ে চলাচল করতেও আগের মতো ভয় লাগে না।”

ফুটপাতের এক পুরনো ব্যবসায়ী বলেন,

“আগে বিশৃঙ্খলা বেশি ছিল। এখন সবাই নিয়ম মেনে ব্যবসা করছে। পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে।”

স্থানীয়দের মতে, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার করা হলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন। কারণ গুজব ছড়ালে ক্রেতাদের মধ্যেও নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়, যা সরাসরি ব্যবসার ওপর প্রভাব ফেলে।

একজন ব্যবসায়ী বলেন,

“আমাদের অনুরোধ, কেউ যেন যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করেন। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হয়।”

এদিকে, হকাররা প্রশাসনের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। তাদের দাবি, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, তাহলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

হকারদের ভাষ্য,

“আমরা চাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকুক। কেউ যেন গুজব ছড়িয়ে আমাদের জীবিকার ক্ষতি করতে না পারে। প্রশাসন এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ালে আমরা আরও স্বস্তিতে ব্যবসা করতে পারব।”

স্থানীয়দের আশা, ভবিষ্যতেও মিরপুর-১০ নম্বর ফুটপাতে বর্তমান স্বাভাবিক, নিয়ন্ত্রিত ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকবে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।