
বুলবুল আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় একটি মসজিদে ফজরের নামাজ চলাকালে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় সেজদায় থাকা অবস্থায় ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ মুসল্লিকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (৩ মে) ভোরে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের পশ্চিম লইয়ারকুল জামে মসজিদে প্রতিদিনের মতো জামায়াতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করতে যান হাফিজ উল্লাহ (৮০) নামে এক বৃদ্ধ। তিনি নামাজের সময় সেজদায় গেলে হঠাৎ এক ব্যক্তি পেছন দিক থেকে এসে তার ওপর হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারী দ্রুত মসজিদের ভেতরে ঢুকে বৃদ্ধ মুসল্লির মাথা, চোখ ও মুখে আঘাত করতে থাকে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মসজিদের ভেতরেই অচেতন হয়ে পড়েন। নামাজ শেষে অন্যান্য মুসল্লিরা বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
এই মসজিদে হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এই ঘটনাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অমানবিক বলে উল্লেখ করেছেন।
ঘটনার পরপরই শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তি ও অভিযুক্ত একই গ্রামের বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে জসিম মিয়া নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
শ্রীমঙ্গল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সজিব চৌধুরী বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে একজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। এই শ্রীমঙ্গল হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ গোপন ও প্রকাশ্যভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে নিহত হাফিজ উল্লাহর পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকলকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, একটি পবিত্র স্থানে এমন সহিংস ঘটনা সমাজের জন্য বড় ধরনের হুমকি। তাই দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান জরুরি।
সব মিলিয়ে, মসজিদে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য উদ্বেগজনক একটি ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের শাস্তির দাবি এখন সবার মুখে মুখে।

Reporter Name 











