
শামীম মীর গৌরনদী প্রতিনিধি:
বরিশালের গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মোঃ ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং এসব অপপ্রচার অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গৌরনদী ইউএনও মোঃ ইব্রাহীম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই স্বচ্ছতা, সততা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তার মানবিক আচরণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জনবান্ধব মনোভাবের কারণে তিনি অল্প সময়েই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
স্থানীয়রা জানান, দায়িত্ব পালনের শুরু থেকেই তিনি উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দেন। উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা এবং জনসেবামূলক কার্যক্রমে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে।
তবে সম্প্রতি একটি বিশেষ মহল তার বিরুদ্ধে একের পর এক ভিত্তিহীন অভিযোগ ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় একটি বেসরকারি এনজিও সম্প্রতি ইউএনও মোঃ ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠায়, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল মনে করছেন, এই নোটিশ এবং অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। তারা বলেন, একজন দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এ ধরনের মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
গৌরনদী উপজেলা এনজিও সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইউএনও মোঃ ইব্রাহীম একজন সৎ, নিরপেক্ষ এবং দক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। বরং এটি একটি সংগঠিত অপপ্রচারের অংশ, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
এনজিও সমন্বয় কমিটির সমন্বয়কারী প্রেমানন্দ ঘরামী বলেন, ইউএনও ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে যে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি আরও বলেন, একজন মানবিক ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
সমষ্টি উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জহুরুল ইসলাম জহির বলেন, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল প্রশাসনিক সুবিধা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ইব্রাহীম একজন সৎ, নিষ্ঠাবান এবং জনকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তা।
অন্যদিকে, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ সরোয়ার আলম বলেন, একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এদিকে ইউএনও মোঃ ইব্রাহীম এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, তিনি সবসময় আইন ও নিয়মের মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা চাপ তাকে তার দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও আইন অনুযায়ী সব কাজ পরিচালিত হবে।
তিনি জানান, যদি কেউ মিথ্যা অভিযোগ বা অপপ্রচার চালায়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তিনি সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তারা আরও বলেন, প্রশাসনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার রোধে দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন এবং প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা উচিত। এতে ভবিষ্যতে কেউ আর এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ করতে সাহস পাবে না।
বর্তমানে গৌরনদী এলাকায় এ ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সাধারণ মানুষও মনে করছেন, একজন সৎ ও মানবিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়। তারা প্রশাসনের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, গৌরনদী ইউএনও মোঃ ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগকে স্থানীয়রা একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন এবং দ্রুত সত্য উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছেন।

Reporter Name 
















