
এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় ঝাড়ফুঁকের নামে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক কথিত বৈদ্য ও তিনজন কথিত সাংবাদিকসহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্বামীকে ফিরে পাওয়ার আশায় এক নারী ঝাড়ফুঁক করাতে যান। ওই নারীকে কেঁওচিয়া ইউনিয়নের একটি বাড়িতে নিয়ে যায় অভিযুক্ত সজল কান্তি দাশ, যিনি নিজেকে বৈদ্য হিসেবে পরিচয় দিতেন। সেখানে তাবিজ-কবচ ও ঝাড়ফুঁকের কথা বলে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী এই ঘটনায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত সজল বৈদ্যকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়।
এদিকে, একই ঘটনায় নতুন মোড় নেয় যখন তিনজন ব্যক্তি নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ঘটনাস্থলে প্রবেশ করেন। তারা গোপনে ভিডিও ধারণ করে পরে সেই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তারা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই তিনজনকে আটক করে। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন— জাহাঙ্গীর আলম, নুরুল আবছার ও জয়নাল উদ্দিন।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। একটিতে ধর্ষণের অভিযোগ এবং অন্যটিতে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে। চারজনকেই আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
এই চট্টগ্রাম ধর্ষণ ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, ঝাড়ফুঁকের নামে প্রতারণা ও অপরাধ সমাজে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরনের অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

Reporter Name 









