
টুটুল তালুকদার গাজীপুর:
গাজীপুর মহানগরীর ব্যস্ততম বাইপাস থেকে বোর্ড বাজার পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন আতঙ্কের আরেক নাম—শুটার রকি ও হিটার খান (বাবু)। অভিযোগ রয়েছে, “গাজীপুর কিশোর গ্যাং” নামে পরিচিত এই সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে সন্ত্রাস চালিয়েও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপের মুখোমুখি হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন পার করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শুটার রকির নেতৃত্বে একটি বেপরোয়া কিশোর গ্যাং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের নামে ভয়ঙ্কর অপরাধচক্র গড়ে তুলেছে। এই চক্রের সদস্যরা নিয়মিতভাবে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মারামারি, ইভটিজিং, এমনকি ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধেও জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। “শুটার রকি” নামটি এখন স্থানীয়দের কাছে আতঙ্কের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, এই গ্যাংয়ের সদস্যরা প্রকাশ্যে মাদক সেবন করে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেইসব ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে এক ধরনের অপরাধ সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করছে। সাইলেন্সারবিহীন মোটরসাইকেলে বিকট শব্দ তুলে তারা এলাকাজুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা তাদের কারণে প্রতিনিয়ত বুলিং ও র্যাগিংয়ের শিকার হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভয়াবহ বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাইপাস থেকে বোর্ড বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এই গ্যাং নিয়মিতভাবে চাঁদাবাজি চালায়। ব্যবসায়ী, পথচারী এমনকি পরিবহন চালকদের কাছ থেকেও জোরপূর্বক টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন কিংবা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
শুধু তাই নয়, শুটার রকি ও হিটার খান (বাবু) গ্যাংয়ের সদস্যরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দেয় এবং সুযোগ পেলেই সংঘবদ্ধ হামলা চালায়। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তারা একাধিকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ভীতি বিরাজ করছে।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই চক্রটি ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী হিসেবেও কাজ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্থের বিনিময়ে তারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে হামলা, দখলদারিত্ব কিংবা প্রতিপক্ষকে দমন করার মতো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। ফলে তাদের অপরাধের বিস্তৃতি শুধু একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতির চেষ্টা, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, অস্ত্রসহ নানা অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। তবুও তারা কিভাবে এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠছে—এই প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বাসন থানা ও গাছা থানা পুলিশ যদি দ্রুত কঠোর অভিযান না চালায়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। কিশোর গ্যাংয়ের এই লাগামহীন দৌরাত্ম্য শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্য নয়, পুরো সমাজ ব্যবস্থার জন্যই বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে “গাজীপুর কিশোর গ্যাং” দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে শুটার রকি ও তার সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় এই সন্ত্রাসী চক্র ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে এবং গাজীপুরকে একটি অপরাধপ্রবণ নগরীতে পরিণত করবে।
প্রশাসনের নীরবতা এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের একটাই প্রত্যাশা—দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এই ত্রাসের রাজত্বের অবসান ঘটানো হোক।

Reporter Name 

















