
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার আওলাই ইউনিয়নের হরিপুর খারিয়াপাড়া গ্রামে দুর্বৃত্তদের বিষ প্রয়োগে একটি বাণিজ্যিক মাছের পুকুরের সব মাছ মারা গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত মাছ চাষি প্রায় ১০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাঁচবিবিতে পুকুরে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন ঘটনাটি ঘটে গত ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখ দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে। ওই সময় দুর্বৃত্তরা গোপনে হরিপুর খারিয়াপাড়া গ্রামের একটি পুকুরে বিষ ঢেলে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষাক্ত পদার্থ পানিতে ছড়িয়ে পড়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই পুকুরের অধিকাংশ মাছ মারা যেতে শুরু করে।
ভুক্তভোগী মাছ চাষি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান আওলাই ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সুনামের সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করে আসছেন। স্থানীয়দের মতে, তার পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছিল এবং সেগুলো বাজারজাত করার উপযোগী হয়ে উঠেছিল। কিন্তু হঠাৎ করে দুর্বৃত্তদের বিষ প্রয়োগের ঘটনায় তার সব পরিশ্রম নষ্ট হয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুকুরের পানির ওপর ভেসে আছে অসংখ্য মরা মাছ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের অন্ধকারে কেউ বা কারা পরিকল্পিতভাবে পুকুরে বিষ ঢেলে দেয়। সকালে মাছগুলো মরে ভেসে উঠলে বিষয়টি সবাই জানতে পারে। এতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তিনি প্রায় কয়েক বছর ধরে এই পুকুরে মাছ চাষ করছেন। সম্প্রতি তিনি নতুন করে পোনা মাছ ছেড়ে নিয়মিত পরিচর্যা করে আসছিলেন। তার পুকুরে রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছিল। কিন্তু হরিপুর খারিয়াপাড়ায় মাছ চাষির ক্ষতি করে দুর্বৃত্তরা তার বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি করেছে।
তিনি আরও বলেন, “রাতের অন্ধকারে কেউ বা কারা আমার পুকুরে বিষ ঢেলে দিয়েছে। সকালে এসে দেখি প্রায় সব মাছ মরে ভেসে উঠেছে। এতে আমার প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে সঠিক তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করছি।”
এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঁচবিবি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় মাছ চাষ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কার্যক্রম। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে অনেক চাষিই আতঙ্কের মধ্যে পড়বেন। তাই দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে পুকুরের পানিতে বিষাক্ত পদার্থ মিশে যাওয়ায় পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মরা মাছের কারণে দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে এবং আশপাশের পরিবেশের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে পাঁচবিবি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজ মোঃ রায়হান মুঠোফোনে জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মাছ চাষির ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

Reporter Name 


















