“সালথা বাজারে যানজট নিরসনে পুলিশের সচেতনতা অভিযান”
মোঃ ইলিয়াছ খান (সালথা উপজেলা) প্রতিনিধি, ফরিদপুর:
ফরিদপুরের সালথা থানা পুলিশ পবিত্র মাহে রমজান এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সালথা সদর বাজারে যানজট নিরসনে এক বিশেষ সচেতনতা মূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। শনিবার (৭ মার্চ) বেলা ৩টায় এই কার্যক্রমটি সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ বাবলুর রহমান খানের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। এই মহড়ায় সালথা থানার উপ-পরিদর্শক এসআই সুমিত মজুমদারসহ থানা পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সালথা সদর বাজারসহ আশেপাশের বাজারগুলোতে পরিচালিত এই কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো, সাধারণ মানুষের চলাচলে যাতে কোনো ধরনের অসুবিধা না হয় এবং রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে বাজার এলাকা ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় থাকে।
ওসি মোঃ বাবলুর রহমান খান বলেন, “আমরা চাই সালথা উপজেলার মানুষ যেন পবিত্র মাহে রমজান এবং ঈদুল ফিতর উদযাপনের সময় যাতায়াতে কোনো সমস্যার সম্মুখীন না হয়। এজন্য আমাদের থানা পুলিশ সক্রিয়ভাবে সচেতনতা মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আমাদের লক্ষ্য হলো যানজট নিরসন, জনসাধারণকে নিরাপদ পরিবেশ প্রদান এবং বাজার এলাকার সাধারণ মানুষের জান-মাল রক্ষা করা। পুলিশ সব সময় জনগণের পাশে রয়েছে। আমরা জনগণের সেবায় সর্বদায় নিয়োজিত।”
সালথা থানা পুলিশের এই উদ্যোগে বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতারা প্রশংসা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে ক্রমবর্ধমান যানজট জনজীবনকে ব্যাহত করছিল। তবে পুলিশের এই সচেতনতা মূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে যানজট নিয়ন্ত্রণে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে বলে মনে করছেন তারা।
জানা যায়, এই মহড়ায় পুলিশ প্রথমে প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ কমানোর জন্য ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে মনোনিবেশ করেছে। তারা গাড়ি চালকদের সচেতন করে নিরাপদ পার্কিংয়ের নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়াও, বাজার এলাকায় পায়ে চলা মানুষদের জন্য নির্দিষ্ট পথ নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে তারা সহজে এবং নিরাপদভাবে বাজারে চলাচল করতে পারে।
উপ-পরিদর্শক এসআই সুমিত মজুমদার জানান, “আমরা শুধু ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণই করছি না, সাধারণ মানুষকে সচেতন করাও আমাদের কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা গাড়ি চালকদের জানাচ্ছি কীভাবে তারা বাজার এলাকা দিয়ে নিরাপদভাবে চলাচল করতে পারে এবং সাধারণ মানুষকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য নির্দেশনা দিচ্ছি। এই ধরনের সচেতনতা মূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা আশা করছি সামগ্রিকভাবে যানজট কমানো সম্ভব হবে।”
এছাড়াও পুলিশ সদস্যরা বাজার এলাকায় দোকানদার ও ক্রেতাদের কাছে ট্রাফিক সচেতনতা এবং নিরাপদ চলাচলের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রচারণামূলক বার্তা প্রদান করেছেন। সাধারণ মানুষকে বলা হয়েছে, যানজট এড়াতে সময়মতো বাজারে আসা, পার্কিং নিয়ম মেনে চলা এবং ট্রাফিক নির্দেশনা মেনে চলার মাধ্যমে সকলের সুবিধা নিশ্চিত করা যায়।
সালথা থানার উদ্যোগকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, পবিত্র রমজান এবং ঈদকে সামনে রেখে বাজার এলাকায় ক্রেতাদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তাই এই ধরনের সচেতনতা মূলক কার্যক্রম জনজীবনকে সহজ করবে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে।
নিরাপত্তা ও যানজট কমানোর পাশাপাশি এই মহড়া একটি প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রম হিসেবেও দেখা যায়। পুলিশ সদস্যরা একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন, যাতে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। এছাড়াও জরুরি অবস্থায় কীভাবে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, সে সম্পর্কে সকলকে সচেতন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা মনে করেন, এই ধরনের উদ্যোগ জনমনে পুলিশ প্রতি আস্থা বাড়ায়। এটি শুধু ট্রাফিক সমস্যার সমাধান করছে না, বরং সমাজে পুলিশের ইতিবাচক উপস্থিতি এবং জনসেবা মনোভাবকে দৃঢ় করছে।
সালথা থানার এই সচেতনতা মূলক কার্যক্রমটি চলতি মাসের রমজান এবং ঈদ উদযাপনের জন্য আরও কিছুবার পুনরায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। পুলিশ পরিকল্পনা করছে, প্রতিটি বাজারে পর্যায়ক্রমে এই ধরনের মহড়া করা হবে, যাতে পুরো উপজেলার মানুষের চলাচল এবং বাজারের কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চলে।
উল্লেখ্য, ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলা একাধিক বাজার ও রাস্তা নিয়ে গঠিত। প্রতি বছর রমজান ও ঈদ উদযাপনের সময় এই এলাকায় যানজটের মাত্রা বেড়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষ প্রায়ই বিপদে পড়েন। সালথা থানার উদ্যোগে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং মানুষের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সালথা থানার এই ধরনের সচেতনতা মূলক কার্যক্রম স্থানীয় সমাজের জন্য উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে। এটি প্রমাণ করে যে পুলিশ শুধুমাত্র আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নয়, বরং জনসেবায় নিবেদিত প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় জনগণকে সচেতন করা এবং তাদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা পুলিশের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব।
সর্বশেষ, সালথা থানার কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা আশ্বাস দিয়েছেন যে, ঈদ পর্যন্ত এই ধরনের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলবে এবং জনসাধারণ যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, তার জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
