
মকবুল হোসেন, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি
ময়মনসিংহ: ‘যেখানে আমি, সেখানেই পরিচ্ছন্নতা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে ক্লিন ময়মনসিংহ ও ক্লিন সানডে কর্মসূচি। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এই ব্যতিক্রমী কার্যক্রম ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
রোববার (২ আগস্ট) সকালে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ ইউসি উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জেলা প্রশাসন এবং শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা একসঙ্গে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও মাঠ পরিষ্কার করেন। অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে উৎসবের আমেজে পরিণত করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ূন কবির সরকার। তিনি শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন ধরনের ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেন। এ সময় তিনি বলেন, সুস্থ জীবন গঠনে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সবুজ প্রকৃতির কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং বৃক্ষরোপণ শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সরকারের চলমান সবুজায়ন কর্মসূচিকে সফল করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাছ লাগানো এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, পরিবেশ সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধ আরও শক্তিশালী হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহছিনা খাতুনসহ জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা।
জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান জানান, ক্লিন ময়মনসিংহ কর্মসূচির আওতায় জেলার আড়াই হাজারেরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতি রোববার ক্লিন সানডে উদ্যোগের মাধ্যমে একটি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং বৃক্ষরোপণ অব্যাহত থাকবে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, এমন কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজন করা হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ আরও সুন্দর হবে এবং শিক্ষার্থীরা পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব বাস্তবভাবে শিখতে পারবে।

Reporter Name 









