
মিরসরাই, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ১২ নম্বর খৈয়াছড়া ইউনিয়নে মিরসরাইয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়াল নির্মাণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় একটি দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ বন্ধ করে সেখানে দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা বৈধভাবে ক্রয় করা জমির মালিক এবং আদালতেই তাদের মালিকানার বৈধতা প্রমাণ করবেন।
অভিযোগকারী মোহাম্মদ সেলিম, পূর্ব খৈয়াছড়া ভূঁইয়াপাড়া (৪ নম্বর ওয়ার্ড) এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি দাবি করেন, পূর্ব মঘাদিয়া মৌজার আরএস খতিয়ান নং ৩৪-এর আরএস দাগ নং ৯২৩৬, ৯২৩৮ ও ৯২৪০ এবং সংশ্লিষ্ট বিএস খতিয়ান নং ১৮৫৯-এর বিএস দাগ নং ৯৮৩৭, ৯৮৩৮ ও ৯৮৩৯-এর মোট ১৪ শতক জমির ওপর বহু বছর ধরে তাদের চলাচলের রাস্তা রয়েছে।
তার অভিযোগ, মোহাম্মদ রফিক, মোহাম্মদ তারেক, মোহাম্মদ তসলিম, মোহাম্মদ নবী ও মো. শাহাবুদ্দিনসহ কয়েকজন জোরপূর্বক ওই রাস্তা বন্ধ করে দেয়াল নির্মাণ করেছেন। এ ঘটনায় তিনি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, চট্টগ্রাম উত্তর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৭ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর ৫৫৬/২০২৬ এবং দায়েরের তারিখ ১৪ জুন ২০২৬।
বাদীপক্ষের দাবি, আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে চলাচলের রাস্তা বাধামুক্ত করার বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানান।
অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষ জানায়, তারা ১৯৭৭ সালের ২৭ এপ্রিল নিবন্ধিত ২২৩৩ নম্বর কবলা দলিলের মাধ্যমে জমিটি বৈধভাবে ক্রয় করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নূর মোহাম্মদ, সিরাজুল হক, জালাল আহমদ, ফয়েজ আহমদ, আজব খাতুন, বাগিচা খাতুন, বামজা খাতুন ও সকিনা খাতুনসহ উত্তরাধিকারীদের কাছ থেকে ১০ দশমিক ৫০ শতক জমি কেনা হয়। ওই জমির মধ্যে আরএস দাগ নং ৯২৪০ এবং সংশ্লিষ্ট বিএস দাগ নং ৯৮৩৭ ও ৯৮৩৮ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে বাদীপক্ষ দাবি করছে, প্রতিপক্ষ যে দলিলের ভিত্তিতে মালিকানা দাবি করছে সেটি জাল। যদিও অভিযুক্তরা এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, দলিলের বৈধতা বা অবৈধতার বিষয়টি আদালতেই নির্ধারিত হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আহমেদুর রহমান, মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন ও আলাউদ্দিন অভিযোগ করেন, চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়াল নির্মাণ করায় সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তারা বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, আদালতের নির্দেশনা তারা পেয়েছেন। নির্দেশনা অনুযায়ী ঘটনাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, বিচারাধীন মামলায় দেয়াল নির্মাণ এবং জমির মালিকানা, দলিলের বৈধতা ও চলাচলের রাস্তার অধিকার—এসব বিষয় বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন রয়েছে। ফলে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো পক্ষের দাবিই আদালতের রায়ের বিকল্প নয়।

Reporter Name 
















