গাজীপুর , বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
শিবপুরে সরকারি স্কুল শিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, শোক নেমে এসেছে বৃষ্টি ভালোবাসি কবিতা: তাছলিমা মুক্তার হৃদয়ছোঁয়া প্রকৃতি প্রেম লালমনিরহাট শিশু হত্যা: দ্রুত বিচার দাবি ত্রাণমন্ত্রীর ময়মনসিংহে এসডিজি ও পরিসংখ্যান সক্ষমতা বৃদ্ধির সেমিনার অনুষ্ঠিত হোমনায় সংবাদ প্রকাশে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ঠাকুরগাঁও জব ফেয়ারে সিভি জমা দিয়ে মিলছে চাকরির সুযোগ মাদক সেবনের কথিত ভিডিওতে আক্কেলপুরে চা”ঞ্চ’ল্য, তদন্ত দাবি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্রাফিক অভিযানে হেলমেট সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার ঠাকুরগাঁও টাঙ্গন নদীতে স্কুল ছাত্র নিখোঁজের পর মরদেহ উদ্ধার কালাকৈরে মতবিনিময় সভা শেষে উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রশাসক

হোমনায় সংবাদ প্রকাশে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ২ ঘন্টা আগে
  • ২০ Time View

কুমিল্লার হোমনায় সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিকের ওপর হামলা, মারধর, মোবাইল ফোন ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় সাংবাদিক মহল, সচেতন নাগরিক এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. আবু রায়হান হোমনা থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানান, গত ১২ জুন শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মদিনা চক্ষু অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল ভবনে অবস্থিত নিজের কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। এ সময় সংবাদ প্রকাশ নিয়ে বিরোধের জেরে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর অফিসে প্রবেশ করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত সেলিম মাস্টার, রনি মিয়া এবং তাঁদের সহযোগীরা প্রথমে সাংবাদিককে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। পরে তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়। এ সময় অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র তছনছ করা হয় এবং তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলার অভিযোগও করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, হামলাকারীরা অফিস ত্যাগ করার আগে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশিত সংবাদ প্রত্যাহার অথবা তার প্রমাণ উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। অন্যথায় আরও কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।

সাংবাদিক আবু রায়হান বলেন, “জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশ করা একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব। কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে আইনগত পথ খোলা রয়েছে। কিন্তু কার্যালয়ে এসে হামলা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক। আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

এদিকে সাংবাদিকের ওপর হামলা এবং ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সেলিম মাস্টার ও রনি মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁদের দাবি, তাঁদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলেও কোনো ধরনের মারধর বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি।

স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা বলছেন, হোমনা সাংবাদিক হামলা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তারা মনে করেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ বজায় রাখা গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ বিষয়ে হোমনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানান, সাংবাদিকের দেওয়া লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও গণমাধ্যমকর্মীরা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

শিবপুরে সরকারি স্কুল শিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, শোক নেমে এসেছে

হোমনায় সংবাদ প্রকাশে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ

Update Time : ২ ঘন্টা আগে

কুমিল্লার হোমনায় সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিকের ওপর হামলা, মারধর, মোবাইল ফোন ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় সাংবাদিক মহল, সচেতন নাগরিক এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. আবু রায়হান হোমনা থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানান, গত ১২ জুন শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মদিনা চক্ষু অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল ভবনে অবস্থিত নিজের কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। এ সময় সংবাদ প্রকাশ নিয়ে বিরোধের জেরে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর অফিসে প্রবেশ করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত সেলিম মাস্টার, রনি মিয়া এবং তাঁদের সহযোগীরা প্রথমে সাংবাদিককে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। পরে তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়। এ সময় অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র তছনছ করা হয় এবং তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলার অভিযোগও করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, হামলাকারীরা অফিস ত্যাগ করার আগে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশিত সংবাদ প্রত্যাহার অথবা তার প্রমাণ উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। অন্যথায় আরও কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।

সাংবাদিক আবু রায়হান বলেন, “জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশ করা একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব। কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে আইনগত পথ খোলা রয়েছে। কিন্তু কার্যালয়ে এসে হামলা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক। আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

এদিকে সাংবাদিকের ওপর হামলা এবং ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সেলিম মাস্টার ও রনি মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁদের দাবি, তাঁদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলেও কোনো ধরনের মারধর বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি।

স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা বলছেন, হোমনা সাংবাদিক হামলা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তারা মনে করেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ বজায় রাখা গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ বিষয়ে হোমনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানান, সাংবাদিকের দেওয়া লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও গণমাধ্যমকর্মীরা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।