
এনামুল হক রাশেদী, স্টাফ রিপোর্টারঃ
চট্টগ্রাম বন্দর ইস্যুতে জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগর শাখা। দলটির নেতারা বলেছেন, দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করে বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হলে তা দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
শুক্রবার (১২ জুন) সকালে নগরীর জামালখানে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ে আয়োজিত ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মহানগর সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী। এতে বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের বন্দর গড়ে তোলার উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হলেও জাতীয় স্বার্থ ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠান কিংবা ফ্যাসিবাদের দোসরদের হাতে বন্দরের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়ার যে কোনো অপচেষ্টা দেশপ্রেমিক জনগণ প্রতিহত করবে। বন্দর পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের উচিত দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ বিবেচনা করা।
নজরুল ইসলাম শ্রমিক রাজনীতির নামে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের প্রবণতারও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, কিছু অসাধু শ্রমিক নেতা রাজনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রকৃত শ্রমিক আন্দোলনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে কলুষমুক্ত রাখতে হবে এবং শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের সংগ্রামকে শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি নগরীতে মাদক, চাঁদাবাজি ও অবৈধ আধিপত্য বিস্তারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার দাবি, শ্রমিক রাজনীতির আড়ালে কিছু ব্যক্তি সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে এসব খাতকে সিন্ডিকেটমুক্ত ও জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে এস এম লুৎফর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির হৃদস্পন্দন এবং এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর। তিনি নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের দাবি জানান।
তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশেষ সুবিধা প্রদর্শনের মাধ্যমে বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের দোসররা বিভিন্ন খাতে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে এবং চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
সম্মেলনে শ্রমিকদের নামে সংঘটিত চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও সহিংসতার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানান বক্তারা।
এ সময় বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লিগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মজুমদার, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মো. নুরুন্নবী, দপ্তর সম্পাদক স. ম. শামীম, প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহিম মানিক, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Reporter Name 


















