
এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ আংশিক) সংসদীয় এলাকায় দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিনে ৩২৯টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সড়ক, সেতু-কালভার্ট, খাল খনন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি, বিদ্যুৎ ও সেচব্যবস্থার পাশাপাশি ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
চট্টগ্রামে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১৮০ দিনের মধ্যে মোট ৪৫০টি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৩২৯টির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আরও ৪৮টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি বরাদ্দে নেওয়া ২৭টি প্রকল্পের সবগুলোর কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। চলমান প্রকল্পগুলোর গড় অগ্রগতি প্রায় ৬৪ শতাংশ।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের উদ্যোগ ও নির্দেশনায় এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জনগণের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন জানান, সংসদীয় এলাকায় মসজিদ ও ঈদগাহে ৩৮টি, মাদ্রাসা ও হেফজখানায় ২৫টি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। খাল ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৯টি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে নির্মাণ করা হয়েছে ১২টি সেতু ও কালভার্ট।
পানি, বিদ্যুৎ ও সেচ খাতে সরকারি বরাদ্দে নেওয়া ৪৮টি প্রকল্পের সবগুলোর কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। ভূমি ও সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধারেও নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
উন্নয়ন কার্যক্রম শুধু চট্টগ্রাম-৫ আসনে সীমাবদ্ধ নেই। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকাতেও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সুপেয় পানির সংকট দূর করতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাটহাজারী পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক জাকের হোসেন দাবি করেন, গত ছয় মাসে হাটহাজারীতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে। বিশেষ করে হাটহাজারী বাসস্টেশনে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের পর যানজট কিছুটা কমেছে। বিভিন্ন এলাকায় খাল খনন ও নালা-নর্দমা পরিষ্কার করায় জলাবদ্ধতাও আগের তুলনায় কমেছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে হাটহাজারীতে ৬০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, ১৮০ দিন সময়ের হিসাবে অল্প হলেও মানুষের প্রতি দায়িত্ব অনেক বেশি। মানুষের আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতি সৎ ও নিবেদিত থেকে কাজ করার চেষ্টা করা হয়েছে। উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য ধাপে ধাপে সমন্বিত ডাটাবেইসে সংরক্ষণ ও হালনাগাদ করা হবে। এর মাধ্যমে জনগণ প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে পারবেন।
এ ছাড়া স্বয়ংক্রিয় ভূমিসেবা অ্যাপ চালুর মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন কর, নামজারি ফি, খতিয়ান ও ডিসিআর প্রতিলিপি, সার্টিফায়েড কপি, মৌজা ম্যাপ সংগ্রহসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাটহাজারী-রাঙামাটি মহাসড়কে সৌরবিদ্যুৎচালিত স্মার্ট স্ট্রিট লাইট স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাটহাজারী পৌরসভায় নাগরিকসেবা সহজ করতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
চলমান প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে চারিয়া বিলে কৃষকদের সেচ প্রকল্পের পাইপলাইন নির্মাণ, বাথুয়া এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন, আনিস খালসংলগ্ন রাস্তা মেরামত এবং হারিয়াননালা খাল পুনঃখনন। এছাড়া বিভিন্ন সড়ক সংস্কার, নালা পরিষ্কার ও খাল খননের কাজও চলছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, হাটহাজারীর বিভিন্ন ইউনিয়ন, পৌরসভার ওয়ার্ড, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ৩ লাখ ৬২ হাজার গাছের চারা রোপণের কার্যক্রমও চলছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায়ও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Reporter Name 



















