
মোঃ সোহেল রানা, রাজশাহী:
সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে চোরাচালান ও বিভিন্ন ধরনের পণ্য পাচার ঠেকাতে রাজশাহীতে অভিযান ও নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরই ধারাবাহিকতায় রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি) এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ৫ হাজার পিস ভারতীয় ইলেকট্রিক রেজিস্টেন্স জব্দ করেছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদকদ্রব্যের পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মহাপরিচালক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির সদস্যরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ ভোর আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি)-এর অধীনস্থ শাহাপুর বিওপির একটি নিয়মিত টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাচালানের একটি চালান সম্পর্কে তথ্য পায়।
গোপন তথ্যে জানা যায়, কাটাখালী থানাধীন শ্যামপুর বালুরঘাট এলাকার একটি নির্দিষ্ট পথ দিয়ে চোরাকারবারীরা ভারতীয় পণ্য পাচারের চেষ্টা করতে পারে। তথ্য পাওয়ার পর বিজিবির টহল দল দ্রুত ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। চোরাচালানিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য সদস্যরা একটি আমবাগানের মধ্যে কৌশলগতভাবে অবস্থান নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন।
দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পর বিজিবির সদস্যরা দেখতে পান, একজন ব্যক্তি আমবাগানের দিকে এগিয়ে আসছেন। তার গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় টহল দল তাকে আটক করার জন্য এগিয়ে যায়। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ওই ব্যক্তি দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন।
এ সময় তাকে ধরতে বিজিবির সদস্যরা ধাওয়া করলে তার কাছে থাকা একটি পলিথিনের প্যাকেট মাটিতে ফেলে তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরে বিজিবির টহল দল পলিথিনের প্যাকেটটি উদ্ধার করে তল্লাশি চালায়। প্যাকেট খুলে সেখানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ইলেকট্রিক রেজিস্টেন্স দেখতে পাওয়া যায়।
গণনা শেষে বিজিবি সদস্যরা মোট ৫ হাজার পিস ভারতীয় ইলেকট্রিক রেজিস্টেন্স জব্দ করেন। জব্দ করা পণ্যের কোনো বৈধ মালিক পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে এগুলো চোরাচালানের মাধ্যমে সীমান্ত পার করে আনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজশাহী সীমান্তে বিজিবি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ করায় সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির তৎপরতা আবারও সামনে এসেছে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিজিবি জানায়, জব্দ করা ভারতীয় ইলেকট্রিক রেজিস্টেন্স শুল্ক গুদাম, রাজশাহীতে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
রাজশাহীর সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিভিন্ন সময় চোরাচালানের মাধ্যমে ভারতীয় পণ্য আনার চেষ্টা করা হয়। এসব তৎপরতা ঠেকাতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সচেতন থাকার প্রয়োজন রয়েছে। সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা পণ্যের গতিবিধি নজরে এলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দেওয়ার আহ্বানও গুরুত্বপূর্ণ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সীমান্তে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং দ্রুত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে চোরাচালান অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিজিবির সাম্প্রতিক এই অভিযানও সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে তাদের সক্রিয় ভূমিকার একটি উদাহরণ।
এদিকে জব্দ করা পণ্য শুল্ক গুদামে জমা দেওয়ার পর প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক ব্যক্তিকে শনাক্ত ও আটক করতে বিজিবির পক্ষ থেকে তদন্ত এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

Reporter Name 



















