
মস্ত মিয়া বিশেষ প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পশু চিকিৎসার নামে অনিয়ম, লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অভিযোগে দুটি ভেটেরিনারি ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটিকে পৃথক দুটি মামলায় মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাসরিন।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভেটেরিনারি ফার্মেসিগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ছিল। এর মধ্যে বৈধ লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা, চিকিৎসকদের জন্য নির্ধারিত ‘ফিজিশিয়ান স্যাম্পল’ ওষুধ বিক্রি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া যায়।
অভিযানের সময় এসব অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয়। বিশেষ করে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পশু চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। কারণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করলে পশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে এসব ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা ও খাদ্যশৃঙ্খলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাগজপত্র ও ওষুধের বৈধতা যাচাই করা হয়। অনিয়মের সত্যতা পাওয়ার পর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করা হয়। পরে তাদের মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. শাকিল আহমেদ। এছাড়া অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা পুলিশের একটি দল দায়িত্ব পালন করে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পশু চিকিৎসা ও ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। বৈধ লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা, নিষিদ্ধ বা নির্ধারিত নয় এমন ওষুধ বিক্রি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ বা বিক্রির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পশুর চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের মান ও বৈধতা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ অনিয়মের মাধ্যমে নিম্নমানের বা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বাজারজাত হলে একদিকে যেমন পশুর ক্ষতি হতে পারে, অন্যদিকে এর প্রভাব মানুষের খাদ্যনিরাপত্তার ওপরও পড়তে পারে।
প্রশাসনের এই অভিযানকে তাই জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

Reporter Name 



















