
এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ
জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা। চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ছয়টি ইতোমধ্যে বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে আরও সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। এতে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ বাড়ার পাশাপাশি নগর ও গ্রামাঞ্চলে ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ থাকা ছয়টি কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে হাটহাজারী বিদ্যুৎকেন্দ্র, ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াটের কাপ্তাই সোলার, ২১০ মেগাওয়াট করে রাউজান-১ ও রাউজান-২, ২০ মেগাওয়াটের টেকনাফ সোলার এবং ৫০ মেগাওয়াটের ইউনাইটেড পাওয়ার। এসব কেন্দ্র বন্ধ থাকায় স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব পড়েছে।
এ ছাড়া আনলিমা এনার্জি, আনোয়ারা ইউনাইটেড, বারাকা, বারাকা কর্ণফুলী, জুলদা-১, জুলদা-২ এবং জুডিয়াক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার একটি বড় অংশ বর্তমানে পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
তবে পিডিবির হিসাবে বর্তমানে চট্টগ্রামে বিদ্যুতের ঘাটতি নেই। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ১ হাজার ৬৮ দশমিক ৭৯ মেগাওয়াট এবং সরবরাহও একই পরিমাণ। অফ-পিক সময়ে চাহিদা ৯৫৮ দশমিক ৮৭ মেগাওয়াট এবং সরবরাহও সমপরিমাণ। অর্থাৎ সরকারি হিসাবে লোডশেডিং শূন্য।
বাস্তব চিত্র অবশ্য ভিন্ন বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ উঠেছে। রসুলবাগ আবাসিক এলাকায় বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পাথরঘাটা, আসকারদিঘির পাড়, হালিশহর, কালুরঘাট, আগ্রাবাদ, পতেঙ্গা-ইপিজেড ও বায়েজিদ বোস্তামী এলাকাতেও ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগ রয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানাতেও। বায়েজিদ বোস্তামীসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠানকে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে।
অন্যদিকে গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)। গত ৩ মার্চ প্রতিষ্ঠানটি সর্বশেষ উৎপাদনে ছিল। পরদিন থেকে গ্যাসের অভাবে সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
সিইউএফএল চালু রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ এমএমসিএফডি গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু প্রয়োজনীয় গ্যাস না পাওয়ায় কারখানাটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি এক হাজারের বেশি শ্রমিক-কর্মচারীর জীবন-জীবিকা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সিইউএফএলের উপব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সমীরন মারমা জানান, গ্যাস সংকটের কারণে ৪ মার্চ থেকে সার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। তবে চলতি মাসের শেষ দিকে গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এতে নগরজীবন, শিল্প উৎপাদন, পানি সরবরাহ ও কৃষি খাতে সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Reporter Name 



















