গাজীপুর , শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
নেত্রকোনা এসপির উদ্যোগে ১৫ দিনে হারানো মোবাইল উদ্ধার। গৌরনদী ইউএনও ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার অভিযোগ রাঙ্গামাটিতে বিশেষ অভিযানে ৪ মাদকসেবী গ্রেফতার গাজীপুর কোনাবাড়িতে ব্যবসায়ী অপহরণ, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার কালীগঞ্জে মোবাইল কোর্ট: ইভটিজিংয়ে জেল, মাটি কাটায় জরিমানা নিয়ামতপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৮০০ ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার রাঙামাটিতে জিরো টলারেন্সে ইয়াবাসহ আটক ১ শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা সভা মিরপুরে অনুষ্ঠিত ধনবাড়ীতে সাংবাদিকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি আদমদিঘী শ্রমিক ইউনিয়নে আলিফ মাহমুদের দায়িত্ব গ্রহণ

চট্টগ্রাম কাস্টমসে কোটি টাকার জালিয়তি: ১০ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৩ Time View

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে প্রায় ৩৮ কোটি ৮৬ লাখ ৪৮ হাজার ১৪৭ টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর সহকারী পরিচালক ধীরাজ চন্দ্র বর্মন মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর উপসহকারী পরিচালক আপেল মাহমুদ বিপ্লব।

মামলার আসামিরা হলেন— হাসান শরিফ (৬২), জিয়া উদ্দিন (৪৫), খাজা শাহাদতউল্লাহ (৫৪), জিয়াউর রহমান (৪৮), আদিল রিজওয়ান (৪১), খায়রুজ্জামান (৪৬), শহিদুল হক (৫৭), হাসান শাহীন (৫০), দীপান্বিতা বড়ুয়া (৬৯) ও সুরীত বড়ুয়া (৭০)।

মামলাটি দণ্ডবিধির ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪২০/১০৯ ধারায় জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস, সময়কাল ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ-তাইওয়ান সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে একটি শতভাগ রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান বন্ড সুবিধার আওতায় চীন থেকে টাইলস আমদানি করেছিল। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৩ সালে বন্ড লাইসেন্স নিয়ে কার্যক্রম শুরু করলেও দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে, ২০১৩ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ৬২টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ২২,৯৪৩.৬৫ মেট্রিক টন টাইলস ‘আনফিনিশ’ ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা হয়েছিল।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর চালান খালাস স্থগিত করে নমুনা সংগ্রহ করে। পরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) গ্লাস অ্যান্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পাঠানো নমুনা পরীক্ষায় পণ্যগুলো ফিনিশড টাইলস হিসেবে শনাক্ত হয়।

দুদকের অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি ৮০টি বিল অব এক্সপোর্টের মাধ্যমে রফতানি দেখালেও সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্টরা এগুলো জাল বলে নিশ্চিত করেছে। এছাড়া চালান পরীক্ষণকারী দুই রাজস্ব কর্মকর্তার সই জাল করা হয়েছে বলেও উল্লেখ রয়েছে। বন্ড কমিশনারেটের অডিট রিপোর্টে আমদানি করা টাইলসের মজুত এবং স্থানীয় বাজারে বিক্রির প্রমাণও পাওয়া গেছে।

দুদক জানিয়েছে, তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নেত্রকোনা এসপির উদ্যোগে ১৫ দিনে হারানো মোবাইল উদ্ধার।

চট্টগ্রাম কাস্টমসে কোটি টাকার জালিয়তি: ১০ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

Update Time : ১১:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে প্রায় ৩৮ কোটি ৮৬ লাখ ৪৮ হাজার ১৪৭ টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর সহকারী পরিচালক ধীরাজ চন্দ্র বর্মন মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর উপসহকারী পরিচালক আপেল মাহমুদ বিপ্লব।

মামলার আসামিরা হলেন— হাসান শরিফ (৬২), জিয়া উদ্দিন (৪৫), খাজা শাহাদতউল্লাহ (৫৪), জিয়াউর রহমান (৪৮), আদিল রিজওয়ান (৪১), খায়রুজ্জামান (৪৬), শহিদুল হক (৫৭), হাসান শাহীন (৫০), দীপান্বিতা বড়ুয়া (৬৯) ও সুরীত বড়ুয়া (৭০)।

মামলাটি দণ্ডবিধির ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪২০/১০৯ ধারায় জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস, সময়কাল ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ-তাইওয়ান সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে একটি শতভাগ রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান বন্ড সুবিধার আওতায় চীন থেকে টাইলস আমদানি করেছিল। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৩ সালে বন্ড লাইসেন্স নিয়ে কার্যক্রম শুরু করলেও দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে, ২০১৩ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ৬২টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ২২,৯৪৩.৬৫ মেট্রিক টন টাইলস ‘আনফিনিশ’ ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা হয়েছিল।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর চালান খালাস স্থগিত করে নমুনা সংগ্রহ করে। পরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) গ্লাস অ্যান্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পাঠানো নমুনা পরীক্ষায় পণ্যগুলো ফিনিশড টাইলস হিসেবে শনাক্ত হয়।

দুদকের অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি ৮০টি বিল অব এক্সপোর্টের মাধ্যমে রফতানি দেখালেও সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্টরা এগুলো জাল বলে নিশ্চিত করেছে। এছাড়া চালান পরীক্ষণকারী দুই রাজস্ব কর্মকর্তার সই জাল করা হয়েছে বলেও উল্লেখ রয়েছে। বন্ড কমিশনারেটের অডিট রিপোর্টে আমদানি করা টাইলসের মজুত এবং স্থানীয় বাজারে বিক্রির প্রমাণও পাওয়া গেছে।

দুদক জানিয়েছে, তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।