গাজীপুর , শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
কালিয়াকৈরে পিচ্চি আকাশ গ্রেপ্তার, ১৮ মামলার আসামির অস্ত্র উদ্ধার নাসিরনগরে জাল টাকা উদ্ধার: ১২টি নোটসহ একজন গ্রেপ্তার মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান হলেন চট্টগ্রাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতে ২৪৫ কোটি টাকার প্রস্তাব গাজীপুরে ড্রেন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, দ্রুত ব্যবস্থা চাইলেন এলাকাবাসী উত্তরায় বাস দুর্ঘটনায় দুই সাংবাদিক নিহত, নিরাপদ সড়কের দাবিতে ক্ষোভ দোয়ারাবাজারে রেজাউল করিমকে ঘিরে বাড়ছে জনআলোচনা রাঙ্গামাটি হাসপাতালে ইএনটি বিশেষজ্ঞ ডা. ওমর ফারুকের অবসর ২০ জুলাই কারফিউ: বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সেনা মোতায়েন, স্তব্ধ ময়মনসিংহে জুলাই শহিদ দিবস ২০২৬ উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত
ভোটের হাওয়া
দোয়ারাবাজারে রেজাউল করিমকে ঘিরে বাড়ছে জনআলোচনা সোনাপুরে মানবিক কর্মকাণ্ডে জনসমর্থন পাচ্ছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ছারোয়ার সরিকল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম মৃধাকে ঘিরে আলোচনা ২৩ জুনকে ঘিরে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন আহমদ শফিক শুভ বাসন থানায় পুলিশের জালে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন মন্ডল মান্দা যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল: অপপ্রচার ও অশিষ্ট রাজনীতির প্রতিবাদ গাজীপুরে তারেক জিয়া পরিষদের ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা নাসিরনগরে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন, থানায় মামলা দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর নতুন সিদ্ধান্তে তরিকুল ইসলাম সজিব নেত্রকোণা ছাত্রদল কমিটিতে সহ-সভাপতি হলেন গোলাম কিবরিয়া

গাজীপুরে অবৈধ কারখানায় তৈরি হচ্ছিল ভীম সাবান ও ওয়াশিং পাউডার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ৬১ Time View

ক্রাইম রিপোর্টার :

গাজীপুর মহানগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের আমবাগ পশ্চিমপাড়া এলাকায় একটি অবৈধ ও অনুমোদনহীন কারখানায় ভীম সাবান ও ওয়াশিং পাউডার তৈরির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেখানে নিম্নমানের রাসায়নিক ব্যবহার করে এসব পণ্য তৈরি করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, করিমের ৫ তলা ভবনের পাশের বাগান মার্কেট এলাকায় গড়ে ওঠা এই কারখানায় দিন-রাত সাবান ও ওয়াশিং পাউডার উৎপাদন করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কারখানাটির কোনো বৈধ অনুমোদন নেই। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, বিএসটিআই, ট্রেড লাইসেন্স কিংবা ভ্যাট সংক্রান্ত কাগজপত্রও দেখাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল ও রং ব্যবহার করে সাবান ও ওয়াশিং পাউডার তৈরি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব রাসায়নিক মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। উৎপাদিত পণ্য পরে বিভিন্ন প্যাকেটে বাজারজাত করা হয়।

আরও জানা যায়, কারখানাটিতে অধিকাংশ শ্রমিকই শিশু ও কিশোর বয়সী। তারা কম মজুরিতে কাজ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছে কারখানাটি।

কারখানার কয়েকজন কর্মচারী জানান, তারা মাসিক বেতনে কাজ করেন এবং মালিকের নির্দেশ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন। এ বিষয়ে কারখানার মালিক মো. সুলতান আহমেদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি প্রথমে বিভিন্ন অজুহাত দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই কারখানার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ঝুঁকি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদনহীন কারখানায় তৈরি নিম্নমানের সাবান ও ওয়াশিং পাউডার ব্যবহার করলে ত্বকের ক্ষতি, অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বাজারে বিক্রি হওয়া পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কালিয়াকৈরে পিচ্চি আকাশ গ্রেপ্তার, ১৮ মামলার আসামির অস্ত্র উদ্ধার

গাজীপুরে অবৈধ কারখানায় তৈরি হচ্ছিল ভীম সাবান ও ওয়াশিং পাউডার

Update Time : ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

ক্রাইম রিপোর্টার :

গাজীপুর মহানগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের আমবাগ পশ্চিমপাড়া এলাকায় একটি অবৈধ ও অনুমোদনহীন কারখানায় ভীম সাবান ও ওয়াশিং পাউডার তৈরির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেখানে নিম্নমানের রাসায়নিক ব্যবহার করে এসব পণ্য তৈরি করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, করিমের ৫ তলা ভবনের পাশের বাগান মার্কেট এলাকায় গড়ে ওঠা এই কারখানায় দিন-রাত সাবান ও ওয়াশিং পাউডার উৎপাদন করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কারখানাটির কোনো বৈধ অনুমোদন নেই। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, বিএসটিআই, ট্রেড লাইসেন্স কিংবা ভ্যাট সংক্রান্ত কাগজপত্রও দেখাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল ও রং ব্যবহার করে সাবান ও ওয়াশিং পাউডার তৈরি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব রাসায়নিক মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। উৎপাদিত পণ্য পরে বিভিন্ন প্যাকেটে বাজারজাত করা হয়।

আরও জানা যায়, কারখানাটিতে অধিকাংশ শ্রমিকই শিশু ও কিশোর বয়সী। তারা কম মজুরিতে কাজ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছে কারখানাটি।

কারখানার কয়েকজন কর্মচারী জানান, তারা মাসিক বেতনে কাজ করেন এবং মালিকের নির্দেশ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন। এ বিষয়ে কারখানার মালিক মো. সুলতান আহমেদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি প্রথমে বিভিন্ন অজুহাত দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই কারখানার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ঝুঁকি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদনহীন কারখানায় তৈরি নিম্নমানের সাবান ও ওয়াশিং পাউডার ব্যবহার করলে ত্বকের ক্ষতি, অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বাজারে বিক্রি হওয়া পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।