গাজীপুর , শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
ভারতে মুসলিম নির্যাতন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের প্রতিবাদ মিছিল কালিয়াকৈরে খেলার মাঠের পাশে নবজাতকের লাশ উদ্ধার কিশোরগঞ্জ শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি ও টিন বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত আড়াইহাজারে ভুল সিলেবাসে এসএসসি, ৫৪ শিক্ষার্থী অনিশ্চিত ঈশ্বরদীতে চিকিৎসক নিবিড়ের মানবিক ভূমিকা, শতাধিক শিক্ষার্থী সুস্থ গাজীপুরে অবৈধ কারখানায় তৈরি হচ্ছিল ভীম সাবান ও ওয়াশিং পাউডার সাবেক স্ত্রী লিপির বিরুদ্ধে বাসায় হামলা, টাকা-স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ ধনবাড়ী ভূমি অফিসে দালালমুক্ত সেবার জোরালো ঘোষণা রাজশাহীতে রিপ্রেজেন্টেটিভদের প্রতিবাদ ও মানববন্ধন আড়াইহাজারে যুবকের ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড
ভোটের হাওয়া
নেত্রকোণা ছাত্রদল কমিটিতে সহ-সভাপতি হলেন গোলাম কিবরিয়া বিএমডিএ চেয়ারম্যান হিসেবে হাসান জাফির তুহিন যোগদান রাঙ্গামাটিতে ছাত্রদল কমিটি বাতিলের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগ এসআইআর বিতর্কে পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক ভোটগ্রহণ ঢাকা উত্তর সিটিতে বিএনপি নেতার ত্যাগ ও অবদান পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ নির্বাচন: প্রধানমন্ত্রীর কাছে সমঅধিকার দাবি কালিয়াকৈরে মানবিক নেতা সাইজুদ্দিন আহমেদ কালিয়াকৈর পৌরসভা: দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত উদ্যোগে জসিম উদ্দিন চট্টগ্রামে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মিদের খুঁজছে পুলিশ গাজীপুরে ঝুট ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা, লুটপাট ও ককটেল

গাজীপুরে অবৈধ কারখানায় তৈরি হচ্ছিল ভীম সাবান ও ওয়াশিং পাউডার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ৩৩ Time View

ক্রাইম রিপোর্টার :

গাজীপুর মহানগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের আমবাগ পশ্চিমপাড়া এলাকায় একটি অবৈধ ও অনুমোদনহীন কারখানায় ভীম সাবান ও ওয়াশিং পাউডার তৈরির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেখানে নিম্নমানের রাসায়নিক ব্যবহার করে এসব পণ্য তৈরি করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, করিমের ৫ তলা ভবনের পাশের বাগান মার্কেট এলাকায় গড়ে ওঠা এই কারখানায় দিন-রাত সাবান ও ওয়াশিং পাউডার উৎপাদন করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কারখানাটির কোনো বৈধ অনুমোদন নেই। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, বিএসটিআই, ট্রেড লাইসেন্স কিংবা ভ্যাট সংক্রান্ত কাগজপত্রও দেখাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল ও রং ব্যবহার করে সাবান ও ওয়াশিং পাউডার তৈরি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব রাসায়নিক মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। উৎপাদিত পণ্য পরে বিভিন্ন প্যাকেটে বাজারজাত করা হয়।

আরও জানা যায়, কারখানাটিতে অধিকাংশ শ্রমিকই শিশু ও কিশোর বয়সী। তারা কম মজুরিতে কাজ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছে কারখানাটি।

কারখানার কয়েকজন কর্মচারী জানান, তারা মাসিক বেতনে কাজ করেন এবং মালিকের নির্দেশ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন। এ বিষয়ে কারখানার মালিক মো. সুলতান আহমেদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি প্রথমে বিভিন্ন অজুহাত দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই কারখানার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ঝুঁকি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদনহীন কারখানায় তৈরি নিম্নমানের সাবান ও ওয়াশিং পাউডার ব্যবহার করলে ত্বকের ক্ষতি, অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বাজারে বিক্রি হওয়া পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ভারতে মুসলিম নির্যাতন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের প্রতিবাদ মিছিল

গাজীপুরে অবৈধ কারখানায় তৈরি হচ্ছিল ভীম সাবান ও ওয়াশিং পাউডার

Update Time : ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

ক্রাইম রিপোর্টার :

গাজীপুর মহানগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের আমবাগ পশ্চিমপাড়া এলাকায় একটি অবৈধ ও অনুমোদনহীন কারখানায় ভীম সাবান ও ওয়াশিং পাউডার তৈরির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেখানে নিম্নমানের রাসায়নিক ব্যবহার করে এসব পণ্য তৈরি করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, করিমের ৫ তলা ভবনের পাশের বাগান মার্কেট এলাকায় গড়ে ওঠা এই কারখানায় দিন-রাত সাবান ও ওয়াশিং পাউডার উৎপাদন করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কারখানাটির কোনো বৈধ অনুমোদন নেই। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, বিএসটিআই, ট্রেড লাইসেন্স কিংবা ভ্যাট সংক্রান্ত কাগজপত্রও দেখাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল ও রং ব্যবহার করে সাবান ও ওয়াশিং পাউডার তৈরি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব রাসায়নিক মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। উৎপাদিত পণ্য পরে বিভিন্ন প্যাকেটে বাজারজাত করা হয়।

আরও জানা যায়, কারখানাটিতে অধিকাংশ শ্রমিকই শিশু ও কিশোর বয়সী। তারা কম মজুরিতে কাজ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছে কারখানাটি।

কারখানার কয়েকজন কর্মচারী জানান, তারা মাসিক বেতনে কাজ করেন এবং মালিকের নির্দেশ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন। এ বিষয়ে কারখানার মালিক মো. সুলতান আহমেদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি প্রথমে বিভিন্ন অজুহাত দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই কারখানার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ঝুঁকি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদনহীন কারখানায় তৈরি নিম্নমানের সাবান ও ওয়াশিং পাউডার ব্যবহার করলে ত্বকের ক্ষতি, অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বাজারে বিক্রি হওয়া পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।