গাজীপুর , মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
হাতিবান্ধায় জিয়া খাল পুনঃখনন উদ্বোধন: কৃষি ও জলাবদ্ধতায় স্বস্তির আশা ডিপিএস প্রতারণায় গাইবান্ধায় ভুয়া কাজী চক্রের বিয়ে ভাঙার ফাঁদ নিয়ামতপুরে দুর্যোগ সহায়তা: ঢেউটিন ও অনুদান বিতরণ কালিহাতীতে বাস-সিএনজি দুর্ঘটনায় বৃদ্ধার মৃত্যু, শোক টাঙ্গাইলে চট্টগ্রামে ব্যাংক বিক্ষোভ: ৫ ব্যাংকের শাখায় তালা, গ্রাহকদের উত্তেজনা তেঁতুলিয়ায় চুরি গরু উদ্ধার, আটক ইউপি সদস্যের ভাই পূবাইল চাঞ্চল্যকর ঘটনা: চাচিকে নিয়ে ভাতিজা উধাও, এলাকায় তোলপাড় মসজিদে সেজদায় বৃদ্ধ মুসল্লি খুন, শ্রীমঙ্গলে ঘাতক আটক রাঙ্গামাটিতে ছাত্রদল কমিটি বাতিলের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে ঢাকা প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন ও কর্মসূচি ঘোষণা
ভোটের হাওয়া

অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে পুরোপুরি অচল চট্টগ্রাম বন্দর

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০ Time View

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

জেটিতে পণ্য ওঠানামা, ইয়ার্ড থেকে কার্গো ডেলিভারি, বন্দর দিয়ে জাহাজের আগমন ও বহির্গমনসহ সব ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।

শ্রমিক ও কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সরকারি উদ্যোগের প্রতিবাদে গতকাল ৩ ফেব্রুয়ারী(মঙ্গলবার) সকাল থেকে আজ বুধবার পর্যন্ত কর্মবিরতি চলছে। এই সময়ে জেটিতে পণ্য ওঠানামা, ইয়ার্ড থেকে কার্গো ডেলিভারি, বন্দর দিয়ে জাহাজের আগমন ও বহির্গমনসহ সব ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করেই সরকার এখনো চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো পথ নেই। সরকার চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া বাতিল না করা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে বলেও জানান তিনি।

আন্দোলনের পঞ্চম দিনে আজ ৪ ফেব্রুয়ারী(বুধবার) সকাল থেকে বন্দরের জেটি ও ইয়ার্ড জনশূন্য দেখা গেছে। মানুষ ও যানবাহনের কোনো চলাচল ছিল না। সব শেড ও অফিস বন্ধ ছিল।

আজ সকালে জোয়ারের সময় বন্দরের ছয়টি জাহাজ ছাড়ার কথা ছিল এবং বহির্নোঙর থেকে আটটি জাহাজ জেটিতে ভেড়ার সূচি ছিল। তবে বাস্তবে কোনো জাহাজই চলাচল করতে পারেনি।

বিভিন্ন শিপিং এজেন্ট ও ফিডার অপারেটরদের কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার সকালে কর্তৃপক্ষ পাইলটেজ কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা করলেও আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়। আজ সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা নির্ধারিত জেটিতে অবস্থান নিয়ে টাগবোট, পাইলট বোট ও মুরিং বোটসহ প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস নৌযানের নোঙর ঠেকিয়ে দেন। ফলে পাইলটেজ কার্যক্রম একেবারেই শুরু করা যায়নি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, সকাল ১০টা থেকে জোয়ার শুরু হলেও জাহাজ পরিচালনার জন্য নিযুক্ত সব পাইলট কন্ট্রোল রুমে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু আন্দোলনের কারণে তারা কাজ শুরু করতে পারেননি।

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) মহাসচিব মো. রুহুল আমিন শিকদার জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে বন্দর ও দেশের ১৯টি বেসরকারি ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোর (আইসিডি) মধ্যে আমদানি, রপ্তানি কিংবা খালি কন্টেইনার পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

বন্দর ইয়ার্ডের ডেলিভারি পয়েন্টগুলোও ছিল ফাঁকা। কোনো শ্রমিক বা কর্মচারী কাজে যোগ দেননি। আমদানি পণ্য ছাড় ও রপ্তানি চালান বন্ধ থাকায় বন্দর ইয়ার্ড ও আইসিডিগুলোতে কন্টেইনারের জট ক্রমেই বাড়ছে।

বার্থ অপারেটরস, শিপ-হ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে একরাম চৌধুরী বলেন, এভাবে পুরো বন্দর অচল হয়ে পড়া নজিরবিহীন। তিনি বলেন, বন্দরের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়া দেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এই সংকটের সমাধান প্রয়োজন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

হাতিবান্ধায় জিয়া খাল পুনঃখনন উদ্বোধন: কৃষি ও জলাবদ্ধতায় স্বস্তির আশা

অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে পুরোপুরি অচল চট্টগ্রাম বন্দর

Update Time : ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

জেটিতে পণ্য ওঠানামা, ইয়ার্ড থেকে কার্গো ডেলিভারি, বন্দর দিয়ে জাহাজের আগমন ও বহির্গমনসহ সব ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।

শ্রমিক ও কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সরকারি উদ্যোগের প্রতিবাদে গতকাল ৩ ফেব্রুয়ারী(মঙ্গলবার) সকাল থেকে আজ বুধবার পর্যন্ত কর্মবিরতি চলছে। এই সময়ে জেটিতে পণ্য ওঠানামা, ইয়ার্ড থেকে কার্গো ডেলিভারি, বন্দর দিয়ে জাহাজের আগমন ও বহির্গমনসহ সব ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করেই সরকার এখনো চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো পথ নেই। সরকার চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া বাতিল না করা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে বলেও জানান তিনি।

আন্দোলনের পঞ্চম দিনে আজ ৪ ফেব্রুয়ারী(বুধবার) সকাল থেকে বন্দরের জেটি ও ইয়ার্ড জনশূন্য দেখা গেছে। মানুষ ও যানবাহনের কোনো চলাচল ছিল না। সব শেড ও অফিস বন্ধ ছিল।

আজ সকালে জোয়ারের সময় বন্দরের ছয়টি জাহাজ ছাড়ার কথা ছিল এবং বহির্নোঙর থেকে আটটি জাহাজ জেটিতে ভেড়ার সূচি ছিল। তবে বাস্তবে কোনো জাহাজই চলাচল করতে পারেনি।

বিভিন্ন শিপিং এজেন্ট ও ফিডার অপারেটরদের কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার সকালে কর্তৃপক্ষ পাইলটেজ কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা করলেও আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়। আজ সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা নির্ধারিত জেটিতে অবস্থান নিয়ে টাগবোট, পাইলট বোট ও মুরিং বোটসহ প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস নৌযানের নোঙর ঠেকিয়ে দেন। ফলে পাইলটেজ কার্যক্রম একেবারেই শুরু করা যায়নি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, সকাল ১০টা থেকে জোয়ার শুরু হলেও জাহাজ পরিচালনার জন্য নিযুক্ত সব পাইলট কন্ট্রোল রুমে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু আন্দোলনের কারণে তারা কাজ শুরু করতে পারেননি।

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) মহাসচিব মো. রুহুল আমিন শিকদার জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে বন্দর ও দেশের ১৯টি বেসরকারি ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোর (আইসিডি) মধ্যে আমদানি, রপ্তানি কিংবা খালি কন্টেইনার পরিবহন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

বন্দর ইয়ার্ডের ডেলিভারি পয়েন্টগুলোও ছিল ফাঁকা। কোনো শ্রমিক বা কর্মচারী কাজে যোগ দেননি। আমদানি পণ্য ছাড় ও রপ্তানি চালান বন্ধ থাকায় বন্দর ইয়ার্ড ও আইসিডিগুলোতে কন্টেইনারের জট ক্রমেই বাড়ছে।

বার্থ অপারেটরস, শিপ-হ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে একরাম চৌধুরী বলেন, এভাবে পুরো বন্দর অচল হয়ে পড়া নজিরবিহীন। তিনি বলেন, বন্দরের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়া দেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এই সংকটের সমাধান প্রয়োজন।