গাজীপুর , শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
নেত্রকোণায় কারাতে প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত নন-এমপিও শিক্ষকদের এমপিও দাবি, ৩২ বছর বিনা বেতনে অভিযোগ চট্টগ্রাম বন্দরে আইওএস সাগর, নৌ সহযোগিতায় নতুন নবীগঞ্জে ৪৫ কেজি গাঁজাসহ র‍্যাবের হাতে আটক ২ মাদককারবারী হিলিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর মায়ের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল আরএমপি পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিলেন মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির সাংবাদিক অধিকার আন্দোলন: প্রেস ক্লাবে ১৪ দফা দাবি ও হুঁশিয়ারি কালিয়াকৈরে গ্যাস সংকট: সিএনজিতে ভোগান্তি, যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দিনাজপুরের বিরামপুরে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হলো পার্টনার কংগ্রেস দিনাজপুর চট্টগ্রামে কুকি-চিন আর্মির পোশাক ধ্বংস, ৩১ হাজার ইউনিফর্ম পুড়ানো হলো
ভোটের হাওয়া
নেত্রকোণা ছাত্রদল কমিটিতে সহ-সভাপতি হলেন গোলাম কিবরিয়া বিএমডিএ চেয়ারম্যান হিসেবে হাসান জাফির তুহিন যোগদান রাঙ্গামাটিতে ছাত্রদল কমিটি বাতিলের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগ এসআইআর বিতর্কে পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক ভোটগ্রহণ ঢাকা উত্তর সিটিতে বিএনপি নেতার ত্যাগ ও অবদান পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ নির্বাচন: প্রধানমন্ত্রীর কাছে সমঅধিকার দাবি কালিয়াকৈরে মানবিক নেতা সাইজুদ্দিন আহমেদ কালিয়াকৈর পৌরসভা: দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত উদ্যোগে জসিম উদ্দিন চট্টগ্রামে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মিদের খুঁজছে পুলিশ গাজীপুরে ঝুট ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা, লুটপাট ও ককটেল

রাঙ্গামাটি থেকে মিজোরামে কুকুর পাচার, প্রতিটির দাম ১০–১২ হাজার টাকা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৮ Time View

এনামুল হক রাশেদী, রাঙ্গামাটি:

রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলা–এর বিভিন্ন এলাকা থেকে বেওয়ারিশ কুকুর শিকার করে ভারতের মিজোরাম রাজ্যে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, আকারভেদে প্রতিটি কুকুর ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। বিষয়টি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, লংগদু উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষভাবে তৈরি বাঁশের ফাঁদ ব্যবহার করে কুকুর ধরা হচ্ছে। এরপর নৌকাযোগে কাপ্তাই হ্রদ পার হয়ে সেগুলো বরকল উপজেলায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে সীমান্তবর্তী এলাকা হয়ে কুকুরগুলো মিজোরামে পাচার করা হচ্ছে।

মিজোরামের জনপ্রিয় বসন্ত উৎসব ‘চাপচার কুট’ সাধারণত মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবকে কেন্দ্র করে কুকুরের মাংসের চাহিদা বেড়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, আসন্ন উৎসবকে সামনে রেখে সম্প্রতি পার্বত্য রাঙ্গামাটিতে কুকুর শিকার ও পাচারের কার্যক্রম বেড়েছে।

বাংলাদেশে ২০১৯ সালের প্রাণী কল্যাণ আইন অনুযায়ী মালিকবিহীন কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণী হত্যা বা অপসারণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ভারতের মিজোরামে কুকুর জবাই ও বিক্রিও নিষিদ্ধ; ২০২০ সালের ‘মিজোরাম অ্যানিম্যাল স্লটার (সংশোধন) বিল’ অনুযায়ী কুকুরকে ভোজ্য প্রাণীর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিকারি জানিয়েছেন, তারা বরকল উপজেলা থেকে এসেছেন এবং কেবল নিজেদের খাওয়ার উদ্দেশ্যে কুকুর ধরেছেন।

রাঙ্গামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. দেবরাজ চাকমা বলেন, বসন্ত উৎসবকে কেন্দ্র করে মিজোরামের কিছু এলাকায় কুকুর মাংসের চাহিদা থাকে। তবে এতে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি রয়েছে।

রাঙ্গামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯-এর ধারা অনুযায়ী মালিকবিহীন কুকুর হত্যা বা অপসারণ দণ্ডনীয়। তিনি বলেন, বেওয়ারিশ কুকুর জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন রোগ বহন করতে পারে এবং এগুলো খাদ্য হিসেবে গ্রহণ জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি মানুষকে সচেতন হওয়ার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নেত্রকোণায় কারাতে প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

রাঙ্গামাটি থেকে মিজোরামে কুকুর পাচার, প্রতিটির দাম ১০–১২ হাজার টাকা

Update Time : ০২:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এনামুল হক রাশেদী, রাঙ্গামাটি:

রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলা–এর বিভিন্ন এলাকা থেকে বেওয়ারিশ কুকুর শিকার করে ভারতের মিজোরাম রাজ্যে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, আকারভেদে প্রতিটি কুকুর ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। বিষয়টি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, লংগদু উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষভাবে তৈরি বাঁশের ফাঁদ ব্যবহার করে কুকুর ধরা হচ্ছে। এরপর নৌকাযোগে কাপ্তাই হ্রদ পার হয়ে সেগুলো বরকল উপজেলায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে সীমান্তবর্তী এলাকা হয়ে কুকুরগুলো মিজোরামে পাচার করা হচ্ছে।

মিজোরামের জনপ্রিয় বসন্ত উৎসব ‘চাপচার কুট’ সাধারণত মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবকে কেন্দ্র করে কুকুরের মাংসের চাহিদা বেড়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, আসন্ন উৎসবকে সামনে রেখে সম্প্রতি পার্বত্য রাঙ্গামাটিতে কুকুর শিকার ও পাচারের কার্যক্রম বেড়েছে।

বাংলাদেশে ২০১৯ সালের প্রাণী কল্যাণ আইন অনুযায়ী মালিকবিহীন কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণী হত্যা বা অপসারণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ভারতের মিজোরামে কুকুর জবাই ও বিক্রিও নিষিদ্ধ; ২০২০ সালের ‘মিজোরাম অ্যানিম্যাল স্লটার (সংশোধন) বিল’ অনুযায়ী কুকুরকে ভোজ্য প্রাণীর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিকারি জানিয়েছেন, তারা বরকল উপজেলা থেকে এসেছেন এবং কেবল নিজেদের খাওয়ার উদ্দেশ্যে কুকুর ধরেছেন।

রাঙ্গামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. দেবরাজ চাকমা বলেন, বসন্ত উৎসবকে কেন্দ্র করে মিজোরামের কিছু এলাকায় কুকুর মাংসের চাহিদা থাকে। তবে এতে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি রয়েছে।

রাঙ্গামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯-এর ধারা অনুযায়ী মালিকবিহীন কুকুর হত্যা বা অপসারণ দণ্ডনীয়। তিনি বলেন, বেওয়ারিশ কুকুর জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন রোগ বহন করতে পারে এবং এগুলো খাদ্য হিসেবে গ্রহণ জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি মানুষকে সচেতন হওয়ার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন।