
রাঙামাটি প্রতিনিধি: মো. কামরুল ইসলাম
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ২ নম্বর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খন্তাকা এলাকায় রাইখালীতে পাহাড় কেটে বালু উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে বালু উত্তোলনের কারণে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে ভূমিধসের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভূমির মালিক শহিদুল হক (শইক্যা) এবং তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত মিজান নামে এক ব্যবসায়ীর তত্ত্বাবধানে পাহাড় কেটে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উত্তোলিত বালু প্রতিদিন বিভিন্ন যানবাহনের মাধ্যমে এলাকার বাইরে বিক্রির জন্য পরিবহন করা হচ্ছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।
এলাকাবাসীর মতে, রাইখালীতে পাহাড় কেটে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকায় পাহাড়ের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হচ্ছে। এতে মাটির ক্ষয় বাড়ছে এবং পাহাড় দুর্বল হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে চলমান বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত হলে যেকোনো সময় ভূমিধসের মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে দিন দিন পাহাড় কেটে বালু উত্তোলনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে পরিবেশ ধ্বংস আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে এবং স্থানীয় জননিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পাহাড় কাটা শুধু পরিবেশ ধ্বংস করে না, এটি জীববৈচিত্র্য, বনাঞ্চল, কৃষিজমি এবং আশপাশের বসতবাড়ির জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। পাহাড়ের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ ভূমিধসের পাশাপাশি মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও বাড়বে।
এলাকাবাসী অবিলম্বে ঘটনাটি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাদের দাবি, অবৈধভাবে পাহাড় কেটে বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে পরিবেশ রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শহিদুল হক (শইক্যা) ও মিজানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং অবৈধ পাহাড় কাটা ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

Reporter Name 








