
মল্লিক এম.আই বুলবুল সোহেল, পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি
বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমন, গভীর সাগরে মাছ শিকাররত জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং উপকূলীয় অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবিতে বরগুনার পাথরঘাটায় মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্থানীয় মৎস্যজীবী, ট্রলারমালিক ও সচেতন নাগরিকদের ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী। তিনি বলেন, গভীর সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে আবারও জলদস্যুদের হামলার ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি ডাকাতদের গুলিতে এক জেলে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আরেকজন অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন। তিনি বলেন, “সাগরে যদি জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হয়, তাহলে আমরা জাল ফেলব না। সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরকে সম্পূর্ণ জলদস্যুমুক্ত করতে হবে।”
সমিতির সহসভাপতি আবুল হোসেন ফরাজী বলেন, কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জেলেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গভীর সাগরে যেতে পারবেন না। তিনি কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর যৌথ টহল জোরদার এবং সক্রিয় জলদস্যুদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
সম্প্রতি জলদস্যুদের কবল থেকে ফিরে আসা আহত জেলে শাজাহান মানববন্ধনে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ডাকাতরা হঠাৎ ট্রলারে হামলা চালিয়ে গুলি ছোড়ে এবং জেলেদের মারধর করে। তাঁর অভিযোগ, আগে আত্মসমর্পণ করা কিছু দস্যু আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
বক্তারা বলেন, বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় জলদস্যুদের তৎপরতায় জেলেরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। লুটপাট, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় তাঁদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনাও বাড়ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
মানববন্ধন থেকে সাগরে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর যৌথ টহল জোরদার, অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা, সক্রিয় জলদস্যুদের গ্রেপ্তার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তর দ্রুত ব্যবস্থা নিলে উপকূলীয় অঞ্চলে শান্তি ফিরবে এবং জেলেরা নিরাপদে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।

Reporter Name 









