গাজীপুর , শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
কসবায় পুলিশের অভিযানে ১০ কেজি গাঁজাসহ কারবারি আটক মান্দায় চৌজা ব্রিজ–তেঁতুলিয়া শেখপাড়া সড়ক পাকাকরণ উদ্বোধন নওগাঁতে গোল্ডহাটির মোড় থেকে আরজি নওগাঁ সড়ক উদ্বোধন টেকনাফের আইয়ুব আটক: চট্টগ্রামে ১৭ হাজার ৭২৫ ইয়াবা উদ্ধার অভিযান শিবপুরে সরকারি স্কুল শিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, শোক নেমে এসেছে বৃষ্টি ভালোবাসি কবিতা: তাছলিমা মুক্তার হৃদয়ছোঁয়া প্রকৃতি প্রেম লালমনিরহাট শিশু হত্যা: দ্রুত বিচার দাবি ত্রাণমন্ত্রীর ময়মনসিংহে এসডিজি ও পরিসংখ্যান সক্ষমতা বৃদ্ধির সেমিনার অনুষ্ঠিত হোমনায় সংবাদ প্রকাশে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ঠাকুরগাঁও জব ফেয়ারে সিভি জমা দিয়ে মিলছে চাকরির সুযোগ

জি–৭ এর স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ ছাড়ার ইঙ্গিত, তেলের বাজার স্থিতিশীলের চেষ্টা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • ৭০ Time View

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় বৈশ্বিক তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে জি–৭ ভুক্ত দেশগুলো তাদের স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ বা কৌশলগত তেল মজুত থেকে তেল ছাড়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারকে স্থিতিশীল রাখার একটি কৌশলগত সংকেত।

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়তে শুরু করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ওঠানামা করছে এবং অনেক দেশ ভবিষ্যৎ জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

এই পরিস্থিতিতে জি–৭ ভুক্ত দেশগুলো জানিয়েছে, প্রয়োজনে তারা তাদের স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ থেকে তেল বাজারে ছাড়তে প্রস্তুত। এই ঘোষণা মূলত বাজারে আস্থার পরিবেশ তৈরি করার জন্য দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশ্লেষকরা।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA)-এর নিয়ম অনুযায়ী সদস্য দেশগুলোকে কমপক্ষে ৯০ দিনের তেল চাহিদার সমপরিমাণ মজুত রাখতে হয়। এই মজুত সাধারণত কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হয় না। বরং বিভিন্ন তেল কোম্পানি, টার্মিনাল, স্টোরেজ সুবিধা এবং শোধনাগারে এই তেল সংরক্ষিত থাকে।

উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাজ্যের কথা বলা যায়। সেখানে শেল বা বিপির মতো বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলো বিভিন্ন স্থানে তেল সংরক্ষণ করে রাখে। এই মজুত তেলই মূলত জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৌশলগত তেল মজুত থেকে তেল ছাড়া মানেই যে হঠাৎ করে বাজারে বিপুল পরিমাণ তেলের সরবরাহ বেড়ে যাবে, এমনটা নয়। বাস্তবে এটি অনেক সময় সীমিত আকারে করা হয় এবং মূল উদ্দেশ্য থাকে বাজারে আতঙ্ক কমানো।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে তেল শোধনের সক্ষমতায়ও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে মজুত তেল বাজারে ছাড়া হলেও তা সঙ্গে সঙ্গে পেট্রোল, ডিজেল বা জেট ফুয়েলের মতো পরিশোধিত জ্বালানিতে রূপান্তর করা সব সময় সম্ভব হয় না। তাই এর প্রভাব ধীরে ধীরে বাজারে দেখা যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বে প্রায় ১২০ কোটি ব্যারেলের মতো কৌশলগত তেল মজুত রয়েছে। তবে এই মজুত থেকে বারবার বড় পরিমাণ তেল ছাড়াও সম্ভব নয়। কারণ এসব মজুত মূলত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য রাখা হয়।

অনেক সময় দেখা যায়, সরকারগুলো বাস্তবে তেল ছাড়ার আগেই এই ধরনের ঘোষণা দেয়। এর মাধ্যমে তারা বাজারকে একটি বার্তা দেয় যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

এই ঘোষণার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বিনিয়োগকারী এবং তেল ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের আস্থা তৈরি হয়। ফলে হঠাৎ করে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কিছুটা কমে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক তেলের বাজার বর্তমানে নানা ভূরাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। তাই বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, জি–৭ দেশগুলোর স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ থেকে তেল ছাড়ার প্রস্তুতির ঘোষণা সরাসরি দাম কমানোর জন্য নয়। বরং এটি এমন একটি কৌশল, যা তেলের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে এবং সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কসবায় পুলিশের অভিযানে ১০ কেজি গাঁজাসহ কারবারি আটক

জি–৭ এর স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ ছাড়ার ইঙ্গিত, তেলের বাজার স্থিতিশীলের চেষ্টা

Update Time : ০৭:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় বৈশ্বিক তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে জি–৭ ভুক্ত দেশগুলো তাদের স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ বা কৌশলগত তেল মজুত থেকে তেল ছাড়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারকে স্থিতিশীল রাখার একটি কৌশলগত সংকেত।

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়তে শুরু করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ওঠানামা করছে এবং অনেক দেশ ভবিষ্যৎ জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

এই পরিস্থিতিতে জি–৭ ভুক্ত দেশগুলো জানিয়েছে, প্রয়োজনে তারা তাদের স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ থেকে তেল বাজারে ছাড়তে প্রস্তুত। এই ঘোষণা মূলত বাজারে আস্থার পরিবেশ তৈরি করার জন্য দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশ্লেষকরা।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA)-এর নিয়ম অনুযায়ী সদস্য দেশগুলোকে কমপক্ষে ৯০ দিনের তেল চাহিদার সমপরিমাণ মজুত রাখতে হয়। এই মজুত সাধারণত কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হয় না। বরং বিভিন্ন তেল কোম্পানি, টার্মিনাল, স্টোরেজ সুবিধা এবং শোধনাগারে এই তেল সংরক্ষিত থাকে।

উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাজ্যের কথা বলা যায়। সেখানে শেল বা বিপির মতো বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলো বিভিন্ন স্থানে তেল সংরক্ষণ করে রাখে। এই মজুত তেলই মূলত জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৌশলগত তেল মজুত থেকে তেল ছাড়া মানেই যে হঠাৎ করে বাজারে বিপুল পরিমাণ তেলের সরবরাহ বেড়ে যাবে, এমনটা নয়। বাস্তবে এটি অনেক সময় সীমিত আকারে করা হয় এবং মূল উদ্দেশ্য থাকে বাজারে আতঙ্ক কমানো।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে তেল শোধনের সক্ষমতায়ও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে মজুত তেল বাজারে ছাড়া হলেও তা সঙ্গে সঙ্গে পেট্রোল, ডিজেল বা জেট ফুয়েলের মতো পরিশোধিত জ্বালানিতে রূপান্তর করা সব সময় সম্ভব হয় না। তাই এর প্রভাব ধীরে ধীরে বাজারে দেখা যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বে প্রায় ১২০ কোটি ব্যারেলের মতো কৌশলগত তেল মজুত রয়েছে। তবে এই মজুত থেকে বারবার বড় পরিমাণ তেল ছাড়াও সম্ভব নয়। কারণ এসব মজুত মূলত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য রাখা হয়।

অনেক সময় দেখা যায়, সরকারগুলো বাস্তবে তেল ছাড়ার আগেই এই ধরনের ঘোষণা দেয়। এর মাধ্যমে তারা বাজারকে একটি বার্তা দেয় যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

এই ঘোষণার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বিনিয়োগকারী এবং তেল ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের আস্থা তৈরি হয়। ফলে হঠাৎ করে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কিছুটা কমে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক তেলের বাজার বর্তমানে নানা ভূরাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। তাই বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, জি–৭ দেশগুলোর স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ থেকে তেল ছাড়ার প্রস্তুতির ঘোষণা সরাসরি দাম কমানোর জন্য নয়। বরং এটি এমন একটি কৌশল, যা তেলের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে এবং সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে।