গাজীপুর , বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
নাসিরনগরে জাল টাকা উদ্ধার: ১২টি নোটসহ একজন গ্রেপ্তার মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান হলেন চট্টগ্রাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতে ২৪৫ কোটি টাকার প্রস্তাব গাজীপুরে ড্রেন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, দ্রুত ব্যবস্থা চাইলেন এলাকাবাসী উত্তরায় বাস দুর্ঘটনায় দুই সাংবাদিক নিহত, নিরাপদ সড়কের দাবিতে ক্ষোভ দোয়ারাবাজারে রেজাউল করিমকে ঘিরে বাড়ছে জনআলোচনা রাঙ্গামাটি হাসপাতালে ইএনটি বিশেষজ্ঞ ডা. ওমর ফারুকের অবসর ২০ জুলাই কারফিউ: বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সেনা মোতায়েন, স্তব্ধ ময়মনসিংহে জুলাই শহিদ দিবস ২০২৬ উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত ছাতকে রহস্যজনক মৃত্যু: পিতা-পুত্রের পাল্টাপাল্টি মামলা, তদন্তের দাবি
ভোটের হাওয়া
দোয়ারাবাজারে রেজাউল করিমকে ঘিরে বাড়ছে জনআলোচনা সোনাপুরে মানবিক কর্মকাণ্ডে জনসমর্থন পাচ্ছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ছারোয়ার সরিকল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম মৃধাকে ঘিরে আলোচনা ২৩ জুনকে ঘিরে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন আহমদ শফিক শুভ বাসন থানায় পুলিশের জালে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন মন্ডল মান্দা যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল: অপপ্রচার ও অশিষ্ট রাজনীতির প্রতিবাদ গাজীপুরে তারেক জিয়া পরিষদের ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা নাসিরনগরে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন, থানায় মামলা দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর নতুন সিদ্ধান্তে তরিকুল ইসলাম সজিব নেত্রকোণা ছাত্রদল কমিটিতে সহ-সভাপতি হলেন গোলাম কিবরিয়া

চট্টগ্রামের অর্ধশতাধিক গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে ঈদ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
  • ৭৯ Time View

চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। এই ব্যতিক্রমী ধর্মীয় অনুশীলন দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, যা স্থানীয়ভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের মির্জাখীল দরবার শরিফের খানকাহ মাঠে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে দরবারের অসংখ্য অনুসারী অংশ নেন এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে নামাজ আদায় করেন।

জানা যায়, মির্জাখীল দরবার শরিফের অনুসারীরা প্রায় আড়াইশ বছর ধরে হানাফি মাজহাবের নিয়ম অনুসরণ করে বিশ্বের যেকোনো দেশে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে রোজা ও ঈদসহ অন্যান্য ধর্মীয় আচার পালন করে আসছেন। এই প্রথা স্থানীয়ভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তা বহমান রয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে জানা যায়, প্রায় আড়াইশ বছর আগে সোনাকানিয়া ইউনিয়নের মির্জাখীল গ্রামে হযরত মাওলানা মোখলেছুর রহমান জাহাঁগীর (ক.) এ বিষয়ে একটি ফতোয়া প্রদান করেন। সেই ফতোয়ার ভিত্তিতেই এই অঞ্চলের মানুষ সৌদি আরবসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে চাঁদ দেখার তথ্য অনুযায়ী রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন।

বর্তমানে দরবার শরিফের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন হযরত শাহ জাহাঁগীর তাজুল আরেফীন (ক.)। তার নির্দেশনায় এবং ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ঈদের নামাজে ইমামতি করেন তার জানশিন হযরত ইমামুল আরেফীন ড. মাওলানা মুহাম্মদ মকছুদুর রহমান। ধর্মীয় নিয়ম-নীতি মেনে অত্যন্ত শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

শুধু মির্জাখীল নয়, সাতকানিয়া উপজেলার গারাংগিয়া, সোনাকানিয়া, ছোটহাতিয়া, আছারতলি, সাইরতলি, এওচিয়া, খাগরিয়া, ছদাহা, গাটিয়াডেঙ্গা ও বাজালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামেও একই দিনে ঈদ উদযাপন করা হয়।

এছাড়াও চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, বাঁশখালী, পটিয়া, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, বোয়ালখালী, হাটহাজারী, রাউজান, ফটিকছড়ি, হাতিয়া ও সন্দ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় এই প্রথা অনুসরণ করে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে।

শুধু চট্টগ্রামেই সীমাবদ্ধ নয়, দেশের অন্যান্য জেলাতেও এই অনুসারীদের উপস্থিতি রয়েছে। কক্সবাজার, ফেনী, কুমিল্লা, ঢাকা, সিলেট, নোয়াখালী, বরিশাল, পটুয়াখালী, চুয়াডাঙ্গা ও ভোলাসহ বিভিন্ন জেলার শতাধিক গ্রামে একই দিনে ঈদ পালন করা হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু একটি ধর্মীয় প্রথা নয়, বরং একটি ঐতিহ্য, যা তাদের আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন তাদের কাছে এক ধরনের ঐক্য ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সঙ্গে সংযোগের প্রতীক।

তবে এই বিষয়টি নিয়ে মাঝে মাঝে আলোচনা-সমালোচনাও দেখা যায়। কারণ, বাংলাদেশে সাধারণত চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদ উদযাপন করা হয়। তবুও এই অঞ্চলের অনুসারীরা তাদের পূর্বপুরুষদের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজস্ব নিয়ম মেনে চলতে অটল রয়েছেন।

সব মিলিয়ে, চট্টগ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন একটি ব্যতিক্রমী ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় চর্চা, যা স্থানীয় সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নাসিরনগরে জাল টাকা উদ্ধার: ১২টি নোটসহ একজন গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের অর্ধশতাধিক গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে ঈদ

Update Time : ০১:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। এই ব্যতিক্রমী ধর্মীয় অনুশীলন দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, যা স্থানীয়ভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের মির্জাখীল দরবার শরিফের খানকাহ মাঠে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে দরবারের অসংখ্য অনুসারী অংশ নেন এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে নামাজ আদায় করেন।

জানা যায়, মির্জাখীল দরবার শরিফের অনুসারীরা প্রায় আড়াইশ বছর ধরে হানাফি মাজহাবের নিয়ম অনুসরণ করে বিশ্বের যেকোনো দেশে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে রোজা ও ঈদসহ অন্যান্য ধর্মীয় আচার পালন করে আসছেন। এই প্রথা স্থানীয়ভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তা বহমান রয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে জানা যায়, প্রায় আড়াইশ বছর আগে সোনাকানিয়া ইউনিয়নের মির্জাখীল গ্রামে হযরত মাওলানা মোখলেছুর রহমান জাহাঁগীর (ক.) এ বিষয়ে একটি ফতোয়া প্রদান করেন। সেই ফতোয়ার ভিত্তিতেই এই অঞ্চলের মানুষ সৌদি আরবসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে চাঁদ দেখার তথ্য অনুযায়ী রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন।

বর্তমানে দরবার শরিফের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন হযরত শাহ জাহাঁগীর তাজুল আরেফীন (ক.)। তার নির্দেশনায় এবং ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ঈদের নামাজে ইমামতি করেন তার জানশিন হযরত ইমামুল আরেফীন ড. মাওলানা মুহাম্মদ মকছুদুর রহমান। ধর্মীয় নিয়ম-নীতি মেনে অত্যন্ত শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

শুধু মির্জাখীল নয়, সাতকানিয়া উপজেলার গারাংগিয়া, সোনাকানিয়া, ছোটহাতিয়া, আছারতলি, সাইরতলি, এওচিয়া, খাগরিয়া, ছদাহা, গাটিয়াডেঙ্গা ও বাজালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামেও একই দিনে ঈদ উদযাপন করা হয়।

এছাড়াও চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, বাঁশখালী, পটিয়া, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, বোয়ালখালী, হাটহাজারী, রাউজান, ফটিকছড়ি, হাতিয়া ও সন্দ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় এই প্রথা অনুসরণ করে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে।

শুধু চট্টগ্রামেই সীমাবদ্ধ নয়, দেশের অন্যান্য জেলাতেও এই অনুসারীদের উপস্থিতি রয়েছে। কক্সবাজার, ফেনী, কুমিল্লা, ঢাকা, সিলেট, নোয়াখালী, বরিশাল, পটুয়াখালী, চুয়াডাঙ্গা ও ভোলাসহ বিভিন্ন জেলার শতাধিক গ্রামে একই দিনে ঈদ পালন করা হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু একটি ধর্মীয় প্রথা নয়, বরং একটি ঐতিহ্য, যা তাদের আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন তাদের কাছে এক ধরনের ঐক্য ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সঙ্গে সংযোগের প্রতীক।

তবে এই বিষয়টি নিয়ে মাঝে মাঝে আলোচনা-সমালোচনাও দেখা যায়। কারণ, বাংলাদেশে সাধারণত চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদ উদযাপন করা হয়। তবুও এই অঞ্চলের অনুসারীরা তাদের পূর্বপুরুষদের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজস্ব নিয়ম মেনে চলতে অটল রয়েছেন।

সব মিলিয়ে, চট্টগ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন একটি ব্যতিক্রমী ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় চর্চা, যা স্থানীয় সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।