
এমডি ফারুক মিয়া দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় দোয়ারাবাজারে বালু ব্যবসায়ীর সংবাদ সম্মেলন ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি, হামলা, নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং চারটি স্টিল বডির নৌকা দখলের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক বালু ব্যবসায়ী। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছাতক উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. খোকন মিয়া। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নিয়ম মেনে রয়্যালটি পরিশোধ করে বৈধভাবে চেলা নদী থেকে বালু ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।
লিখিত বক্তব্যে খোকন মিয়া দাবি করেন, গত ২ আগস্ট বিকেলে দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের পূর্ব চাইরগাঁও এলাকার সোনালী চেলা নদীতে তাঁর বালুবাহী নৌকাগুলো অবস্থান করছিল। এ সময় স্থানীয় একটি পক্ষ তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর সঙ্গে থাকা শ্রমিক ও লোকজনের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, হামলার সময় তাঁদের কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা মূল্যের চারটি স্টিল বডির নৌকা জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনাকে তিনি চার নৌকা দখলের অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
খোকন মিয়ার অভিযোগ, ঘটনার পর আইনি সহায়তা নিতে গেলে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি দখল হওয়া নৌকা উদ্ধার, ছিনিয়ে নেওয়া অর্থ ফেরত এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সঙ্গে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে চেলা নদী থেকে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করা হচ্ছিল। তাই নৌকাগুলো আটক করা হয়েছিল। পরে সোমবার নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নৌকাগুলো উদ্ধার করে বলে তারা জানায়।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার বিষয়ে নৌ পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের কারণে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করা জরুরি। এতে প্রকৃত দোষী শনাক্ত হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।

Reporter Name 









