গাজীপুর , রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকা বাইচে চ্যাম্পিয়ন ক্ষমতাপুর শাপলা বয়েজ ক্লাব প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ, বাধা দেওয়ায় হামলার দাবি ধামইরহাট চেয়ারম্যান প্রার্থী রুহুল আমিন হাসপাতালে সুজনের খোঁজ নিলেন নওগাঁ জেলা কমিউনিটি পুলিশিং সমন্বয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি আমিনুল ইসলামের বগুড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি বিরলে ব্যবসায়ীকে মারধর ও ৯৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সখীপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, সবুজায়নে মানব কল্যাণ যুব সংঘ তিন কমিটি গঠনে প্রধানমন্ত্রীকে পিসিএনপির ধন্যবাদ ও অভিনন্দন গফরগাঁওয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬ শুরু
ভোটের হাওয়া
সোনাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সরোয়ার হোসেনের দোয়া-সমর্থন বাটাজোড়ের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী আনোয়ারা বেগম পত্নীতলায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশাল আনন্দ র‍্যালি গাইবান্ধায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আনন্দ র‍্যালি পাঁচুপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচন: গণসংযোগে ব্যস্ত নিয়ামত আলী বাবু দোয়ারাবাজারে রেজাউল করিমকে ঘিরে বাড়ছে জনআলোচনা সোনাপুরে মানবিক কর্মকাণ্ডে জনসমর্থন পাচ্ছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ছারোয়ার সরিকল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম মৃধাকে ঘিরে আলোচনা ২৩ জুনকে ঘিরে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন আহমদ শফিক শুভ বাসন থানায় পুলিশের জালে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন মন্ডল

চট্টগ্রামে হামের প্রকোপ ভয়াবহ, ৯ ওয়ার্ড হটস্পট, শয্যা সংকট

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • ৫৪ Time View

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ
চট্টগ্রামে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। রোগীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে দেখা দিয়েছে তীব্র শয্যা সংকট। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নগরীর ৯টি ওয়ার্ডকে ইতোমধ্যে হামের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার হাম ওয়ার্ডে বর্তমানে প্রায় ৮০ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। রোগীর চাপ এতটাই বেশি যে অনেক ক্ষেত্রে একটি শয্যায় দুই শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১১৬ জন রোগী। তাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু হলেও কয়েকজন প্রাপ্তবয়স্কও আক্রান্ত হয়েছেন।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, হাম ওয়ার্ডে রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে অভিভাবকদের দুর্ভোগ বেড়েছে। গরম ও সংকীর্ণ পরিবেশে শিশুদের নিয়ে থাকতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে। জটিল অবস্থার রোগীদের অক্সিজেন ও স্যালাইনের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন জানিয়েছেন, রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৪ থেকে ২৪ বছর বয়সী কয়েকজন তরুণও রয়েছেন। এমনকি রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকও হামে আক্রান্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি চলছে। চট্টগ্রাম নগরীর জালালাবাদ, চান্দগাঁও, উত্তর পাহাড়তলী, লালখান বাজার, পূর্ব বাকলিয়া, আলকরণ, দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর, দক্ষিণ হালিশহর এবং উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডকে হামের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে হামের প্রকোপ বৃদ্ধির ফলে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩১৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মহানগরে ২ হাজার ২১৫ জন এবং বিভিন্ন উপজেলায় ৯৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। হামে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও চট্টগ্রামে এখনও পূর্ণাঙ্গ হাম শনাক্তকরণ পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু হয়নি। রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজলস-রুবেলা ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হচ্ছে। ফলে রিপোর্ট পেতে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি)-এ হাম পরীক্ষার সক্ষমতা থাকলেও কিট সংকট ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অভাবে পরীক্ষা শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত কিট সরবরাহ ও অনুমোদনের দাবি জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের শিশুদের টিকা নিশ্চিত করা, জ্বর-কাশি ও র‍্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকা বাইচে চ্যাম্পিয়ন ক্ষমতাপুর শাপলা বয়েজ ক্লাব

চট্টগ্রামে হামের প্রকোপ ভয়াবহ, ৯ ওয়ার্ড হটস্পট, শয্যা সংকট

Update Time : ১২:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ
চট্টগ্রামে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। রোগীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে দেখা দিয়েছে তীব্র শয্যা সংকট। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নগরীর ৯টি ওয়ার্ডকে ইতোমধ্যে হামের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার হাম ওয়ার্ডে বর্তমানে প্রায় ৮০ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। রোগীর চাপ এতটাই বেশি যে অনেক ক্ষেত্রে একটি শয্যায় দুই শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১১৬ জন রোগী। তাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু হলেও কয়েকজন প্রাপ্তবয়স্কও আক্রান্ত হয়েছেন।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, হাম ওয়ার্ডে রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে অভিভাবকদের দুর্ভোগ বেড়েছে। গরম ও সংকীর্ণ পরিবেশে শিশুদের নিয়ে থাকতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে। জটিল অবস্থার রোগীদের অক্সিজেন ও স্যালাইনের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন জানিয়েছেন, রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৪ থেকে ২৪ বছর বয়সী কয়েকজন তরুণও রয়েছেন। এমনকি রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকও হামে আক্রান্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি চলছে। চট্টগ্রাম নগরীর জালালাবাদ, চান্দগাঁও, উত্তর পাহাড়তলী, লালখান বাজার, পূর্ব বাকলিয়া, আলকরণ, দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর, দক্ষিণ হালিশহর এবং উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডকে হামের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে হামের প্রকোপ বৃদ্ধির ফলে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩১৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মহানগরে ২ হাজার ২১৫ জন এবং বিভিন্ন উপজেলায় ৯৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। হামে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও চট্টগ্রামে এখনও পূর্ণাঙ্গ হাম শনাক্তকরণ পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু হয়নি। রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজলস-রুবেলা ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হচ্ছে। ফলে রিপোর্ট পেতে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি)-এ হাম পরীক্ষার সক্ষমতা থাকলেও কিট সংকট ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অভাবে পরীক্ষা শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত কিট সরবরাহ ও অনুমোদনের দাবি জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের শিশুদের টিকা নিশ্চিত করা, জ্বর-কাশি ও র‍্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।