গাজীপুর , রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
বিশ্ব বাবা দিবস ২০২৬: বাবার ভালোবাসা ও ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি রাঙ্গামাটির কর্ণফুলীতে ভাসমান অবস্থায় নারীর মরদেহ উদ্ধার বিরামপুরে জিআর চাল বিতরণ উদ্বোধন, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে মন্ত্রী কুতুবউদ্দিনকে বাঁচাতে দুদকের ভেতরে সক্রিয় ছিল কারা ধনবাড়ীতে ব্রাজিল ভক্তদের বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট মৃ/ত্যু: রাঙ্গামাটিতে শিক্ষিকা শতাব্দী চাকমার অকাল মৃ/ত্যু হাকিমপুরে কৃষি প্রণোদনা বিতরণে মন্ত্রীর উন্নয়ন বার্তা হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গাছ কর্তন: ওসি নির্দেশ নিয়ে তীব্র বিতর্ক ক্যাডেট এএসআই নিয়োগ পরীক্ষা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সম্পন্ন বরিশাল জেলা সাংবাদিক সংস্থায় মামুন-আরিফের নতুন নেতৃত্ব

কুতুবউদ্দিনকে বাঁচাতে দুদকের ভেতরে সক্রিয় ছিল কারা

  • Reporter Name
  • Update Time : ৩ ঘন্টা আগে
  • ২৩ Time View

এনভয় গ্রুপ ও শেলটেকের প্রতিষ্ঠাতা কুতুবউদ্দিন আহমেদ এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা অর্থপাচার অভিযোগ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, কুতুবউদ্দিন আহমেদ, তার স্ত্রী রাশিদা আহমেদ, ছেলে তানভীর আহমেদ এবং মেয়ে সুমাইয়া আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, কালোটাকা সাদা করা এবং হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক অনুসন্ধান শুরু করেছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠিয়ে ব্যাংক হিসাব, আর্থিক লেনদেন এবং সম্পদের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়। তবে অনুসন্ধান চলমান থাকা অবস্থায় রহস্যজনকভাবে অভিযোগটি নিষ্পত্তি করা হয় এবং পরবর্তীতে বিষয়টি আর এগোয়নি।

এ বিষয়ে শেলটেক গ্রুপের জনসংযোগ কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী তানিম দাবি করেন, অভিযোগকারী ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করায় অভিযোগটি নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই ব্যাখ্যা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

দুদকের সাবেক ও বর্তমান একাধিক কর্মকর্তার মতে, দুর্নীতি বা অর্থপাচার অভিযোগ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়। অভিযোগকারী মারা গেলেও যদি অভিযোগে দুর্নীতির উপাদান থাকে, তাহলে কমিশন নিজ উদ্যোগে অনুসন্ধান চালিয়ে যেতে পারে। ফলে শুধুমাত্র অভিযোগকারীর মৃত্যুকে ভিত্তি করে অনুসন্ধান বন্ধ করার যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আইন বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, দুদকের অনুসন্ধান কোনো ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয় নয়। এটি রাষ্ট্রীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রক্রিয়া। অনেক ক্ষেত্রে তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখার বিধানও রয়েছে। তাই অভিযোগকারীর মৃত্যু অনুসন্ধান বন্ধের একমাত্র কারণ হতে পারে কি না, তা নিয়ে আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, অভিযোগে আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ, প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম মূল্য দেখিয়ে সম্পদ হস্তান্তর, কালোটাকা বৈধকরণ এবং বিদেশে অর্থপাচারের মতো গুরুতর বিষয় উল্লেখ ছিল। এসব অভিযোগের প্রাথমিক তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

দুদকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রয়োজন হলে বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করে পুনঃতদন্তের সুযোগ রয়েছে। এ বক্তব্যের পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—যদি পুনঃতদন্ত সম্ভব হয়, তাহলে অতীতে দুদক অনুসন্ধান কেন বন্ধ হয়েছিল এবং সেই সিদ্ধান্ত কারা নিয়েছিল?

সুশীল সমাজ ও দুর্নীতিবিরোধী কর্মীদের মতে, কুতুবউদ্দিন আহমেদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অতীতের অনুসন্ধান কেন থেমে গিয়েছিল, সেই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণও জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত। তাদের ভাষায়, অভিযোগকারী জীবিত না মৃত—সেটি মূল বিষয় নয়; বরং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করাই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বিশ্ব বাবা দিবস ২০২৬: বাবার ভালোবাসা ও ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি

কুতুবউদ্দিনকে বাঁচাতে দুদকের ভেতরে সক্রিয় ছিল কারা

Update Time : ৩ ঘন্টা আগে

এনভয় গ্রুপ ও শেলটেকের প্রতিষ্ঠাতা কুতুবউদ্দিন আহমেদ এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা অর্থপাচার অভিযোগ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, কুতুবউদ্দিন আহমেদ, তার স্ত্রী রাশিদা আহমেদ, ছেলে তানভীর আহমেদ এবং মেয়ে সুমাইয়া আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, কালোটাকা সাদা করা এবং হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক অনুসন্ধান শুরু করেছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠিয়ে ব্যাংক হিসাব, আর্থিক লেনদেন এবং সম্পদের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়। তবে অনুসন্ধান চলমান থাকা অবস্থায় রহস্যজনকভাবে অভিযোগটি নিষ্পত্তি করা হয় এবং পরবর্তীতে বিষয়টি আর এগোয়নি।

এ বিষয়ে শেলটেক গ্রুপের জনসংযোগ কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী তানিম দাবি করেন, অভিযোগকারী ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করায় অভিযোগটি নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই ব্যাখ্যা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

দুদকের সাবেক ও বর্তমান একাধিক কর্মকর্তার মতে, দুর্নীতি বা অর্থপাচার অভিযোগ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়। অভিযোগকারী মারা গেলেও যদি অভিযোগে দুর্নীতির উপাদান থাকে, তাহলে কমিশন নিজ উদ্যোগে অনুসন্ধান চালিয়ে যেতে পারে। ফলে শুধুমাত্র অভিযোগকারীর মৃত্যুকে ভিত্তি করে অনুসন্ধান বন্ধ করার যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আইন বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, দুদকের অনুসন্ধান কোনো ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয় নয়। এটি রাষ্ট্রীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রক্রিয়া। অনেক ক্ষেত্রে তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখার বিধানও রয়েছে। তাই অভিযোগকারীর মৃত্যু অনুসন্ধান বন্ধের একমাত্র কারণ হতে পারে কি না, তা নিয়ে আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, অভিযোগে আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ, প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম মূল্য দেখিয়ে সম্পদ হস্তান্তর, কালোটাকা বৈধকরণ এবং বিদেশে অর্থপাচারের মতো গুরুতর বিষয় উল্লেখ ছিল। এসব অভিযোগের প্রাথমিক তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

দুদকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রয়োজন হলে বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করে পুনঃতদন্তের সুযোগ রয়েছে। এ বক্তব্যের পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—যদি পুনঃতদন্ত সম্ভব হয়, তাহলে অতীতে দুদক অনুসন্ধান কেন বন্ধ হয়েছিল এবং সেই সিদ্ধান্ত কারা নিয়েছিল?

সুশীল সমাজ ও দুর্নীতিবিরোধী কর্মীদের মতে, কুতুবউদ্দিন আহমেদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অতীতের অনুসন্ধান কেন থেমে গিয়েছিল, সেই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণও জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত। তাদের ভাষায়, অভিযোগকারী জীবিত না মৃত—সেটি মূল বিষয় নয়; বরং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করাই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।