গাজীপুর , বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
নাসিরনগরে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন, থানায় মামলা ফরিদপুরের শ্রেষ্ঠ সার্কেল অফিসার নির্বাচিত এএসপি আল ফাহাদ নরসিংদীর শিবপুরে প্রান্তিক পেশাজীবীদের সফট স্কিল প্রশিক্ষণ উদ্বোধন দোয়ারাবাজারে আনজুমানে আল ইসলাহ সম্মেলন, জাতীয় ঐক্যের আহ্বান সাইকেলে দেশভ্রমণে ঠাকুরগাঁওয়ে আলোচনায় তরুণ মোবাশ্বের আলী কালিহাতী বিএনপির সভাপতি হিসেবে শাহ আলমকে চান নেতাকর্মীরা বেগমগঞ্জে তিনটি বিদেশি পিস্তলসহ যুবক আটক, অস্ত্র উদ্ধার অভিযান কাশিমপুর কারাগার কারারক্ষী বরখাস্ত, মাদক অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা ফুলবাড়ী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ২৫৫০ নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে অচল চিকিৎসাসেবা চরম সংকট
ভোটের হাওয়া

কাশিমপুর কারাগার কারারক্ষী বরখাস্ত, মাদক অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • ৩৪ Time View

টুটুল তালুকদার, গাজীপুর :

গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার–এ দায়িত্বে থাকা এক কারারক্ষীর বিরুদ্ধে গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কারারক্ষী মো. মশিউরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই কারা প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, “কাশিমপুর কারাগার কারারক্ষী বরখাস্ত” সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয় প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর। অভিযুক্ত কারারক্ষীর বিরুদ্ধে শুধু মাদক সেবন নয়, বরং মাদক সরবরাহের মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে, যা কারা নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রোববার (৭ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেন কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরই দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, অভিযুক্ত কারারক্ষী মো. মশিউর দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে মাদক সেবনের মতো সন্দেহজনক অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি কারা প্রশাসনের নজরে আসে এবং তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, মশিউরের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ ছিল। কারা রেকর্ড অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে পূর্বে নয়টি পৃথক বিভাগীয় মামলা ছিল। সর্বশেষ অভিযোগ যুক্ত হওয়ার পর এখন তার বিরুদ্ধে মোট ১০টি বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে। এটি কারা বিভাগের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি শুধু কারাগারের ভেতরেই নয়, বাইরের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে মাদক সেবনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে হরিণাচালা এলাকার আশপাশে তার চলাচল এবং স্থানীয় কিছু মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে তদন্তে উল্লেখ রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে “মাদক সেবনের অভিযোগ” বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়।

কারা সূত্র আরও দাবি করেছে, অভিযুক্ত কারারক্ষী কারাগারের অভ্যন্তরে থাকা বন্দীদের কাছেও অবৈধভাবে মাদক সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগ এখনো যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। তবে প্রাথমিক প্রমাণ এবং ভিডিও ফুটেজ বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,

“অভিযোগ পাওয়ার পরপরই প্রাথমিক অনুসন্ধান করা হয়েছে। অনুসন্ধানে কিছু অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে এই ঘটনার পর কারা প্রশাসনের ভেতরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কর্মীদের আচরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কারাগারের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বে থাকা কারও বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং তা পুরো ব্যবস্থার ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

বর্তমানে তদন্ত কমিটি গঠন করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারা প্রশাসন জানিয়েছে, সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনা ঘিরে স্থানীয় এলাকাতেও ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি রাখে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নাসিরনগরে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন, থানায় মামলা

কাশিমপুর কারাগার কারারক্ষী বরখাস্ত, মাদক অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা

Update Time : ০৭:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

টুটুল তালুকদার, গাজীপুর :

গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার–এ দায়িত্বে থাকা এক কারারক্ষীর বিরুদ্ধে গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কারারক্ষী মো. মশিউরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই কারা প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, “কাশিমপুর কারাগার কারারক্ষী বরখাস্ত” সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয় প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর। অভিযুক্ত কারারক্ষীর বিরুদ্ধে শুধু মাদক সেবন নয়, বরং মাদক সরবরাহের মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে, যা কারা নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রোববার (৭ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেন কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরই দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, অভিযুক্ত কারারক্ষী মো. মশিউর দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে মাদক সেবনের মতো সন্দেহজনক অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি কারা প্রশাসনের নজরে আসে এবং তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, মশিউরের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ ছিল। কারা রেকর্ড অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে পূর্বে নয়টি পৃথক বিভাগীয় মামলা ছিল। সর্বশেষ অভিযোগ যুক্ত হওয়ার পর এখন তার বিরুদ্ধে মোট ১০টি বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে। এটি কারা বিভাগের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি শুধু কারাগারের ভেতরেই নয়, বাইরের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে মাদক সেবনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে হরিণাচালা এলাকার আশপাশে তার চলাচল এবং স্থানীয় কিছু মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে তদন্তে উল্লেখ রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে “মাদক সেবনের অভিযোগ” বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়।

কারা সূত্র আরও দাবি করেছে, অভিযুক্ত কারারক্ষী কারাগারের অভ্যন্তরে থাকা বন্দীদের কাছেও অবৈধভাবে মাদক সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগ এখনো যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। তবে প্রাথমিক প্রমাণ এবং ভিডিও ফুটেজ বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,

“অভিযোগ পাওয়ার পরপরই প্রাথমিক অনুসন্ধান করা হয়েছে। অনুসন্ধানে কিছু অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে এই ঘটনার পর কারা প্রশাসনের ভেতরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কর্মীদের আচরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কারাগারের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বে থাকা কারও বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং তা পুরো ব্যবস্থার ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

বর্তমানে তদন্ত কমিটি গঠন করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারা প্রশাসন জানিয়েছে, সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনা ঘিরে স্থানীয় এলাকাতেও ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি রাখে।