
শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর বর্জ্য তিন দিন পার হলেও অপসারণ না করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও রোগীরা। বিশেষ করে কালিয়াকৈরে কোরবানির বর্জ্য দীর্ঘ সময় ধরে খোলা স্থানে পড়ে থাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চন্দ্রা, হরতকিতলা, ডাইনকিনি, সফিপুর, চন্দ্রা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশু জবাইয়ের পর সৃষ্ট বর্জ্য এখনো সড়কের পাশে ও জনবহুল এলাকায় পড়ে রয়েছে। চন্দ্রা ত্রিমোড়, ফায়ার সার্ভিস রুট, আমতলা, বাদশা হাউজ এলাকা, চারতলা মাইওয়ান মোড়, সফিপুর বাজার, তানহা হেলথ কেয়ার হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা এবং আন্দরমানিক সড়কের মাথায় মহাসড়কের ফ্লাইওভারের নিচে বর্জ্যের স্তূপ দেখা গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, ঈদের দিন কোরবানির পশুর চামড়া ও অন্যান্য বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে না নিয়ে সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়। ফলে কয়েক দিন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। বাজারে আসা ক্রেতা, পথচারী এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
চন্দ্রা বাজারের একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের দায়িত্বহীনতার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত কোরবানির বর্জ্য অপসারণ না করলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, ইজারাদারের সহকারী শাহজাহান মিয়া ঈদের দিন এসব চামড়া ও বর্জ্য মহাসড়কের পাশে রেখে যান। তবে পরবর্তীতে সেগুলো সরানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সফিপুর বাজারের ইজারাদার মো. নজরুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি বর্তমানে গ্রামের বাড়িতে আছি। বিষয়টি দেখছি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।”
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল আলম তালুকদার বলেন, “বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। এখন অবগত হয়েছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে সাধারণ জনগণ, ব্যবসায়ী, পথচারী এবং রোগীরা দ্রুত বর্জ্য অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ঈদের তিন দিন পরও কোরবানির বর্জ্য পড়ে থাকা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকেই তুলে ধরছে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Reporter Name 


















