
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম পর্যায়ে অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই ভোটগ্রহণকে অনেকেই “ঐতিহাসিক নির্বাচন” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল নজরকাড়া। অনেক কেন্দ্রেই ৯৪ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত ভোট পড়েছে, যা দেশের স্বাধীনতার পর অন্যতম সর্বোচ্চ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই নির্বাচনের আগে এসআইআর ভোটার তালিকা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ৯০ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ তৈরি হয়। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ভোট দিতে না পারলে ভবিষ্যতে নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
নির্বাচনের দিন কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া বড় ধরনের কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। ফলে ভোটারদের একটি বড় অংশ এই নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও এই বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন।
এই সময় রাজ্যে প্রচারে অংশ নেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah। তারা দাবি করেন, বিপুল ভোট পড়া রাজ্যের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি বৈধ ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে।
এই নির্বাচনে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, মালদহ, মুর্শিদাবাদসহ মোট ১৬টি জেলায় ভোটগ্রহণ হয়। অনেক ভোটারের অভিযোগ, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও তাদের নাম হঠাৎ বাদ পড়েছে। এমনকি একই পরিবারের মধ্যে সন্তানদের নাম থাকলেও পিতার নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।
বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগ বেশি উঠে এসেছে। এই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার গঠন করতে পারলে বঞ্চিত ভোটারদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, এসআইআর বিতর্কের মধ্যেও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ব্যাপক অংশগ্রহণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় এটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Reporter Name 

















