গাজীপুর , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
নরসিংদীতে নামাজরত বৃদ্ধা হ/ত্যা: গ্রে”প্তার তিন কাপ্তাইয়ে বিজিবির অভিযানে ২৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা জব্দ, আটক ২ রাঙামাটি সদর জোনে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ-২০২৬ উদ্বোধন আউশকান্দিতে শিক্ষার অগ্রগতি ও গভর্নিং বডি নির্বাচন নিয়ে মতবিনিময় মিরসরাইয়ে বিএনপি নেতা আলীউল কবিরের চেয়ারম্যান মনোনয়ন চাওয়া ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ রিফাত বিন হামিদ রাফি রোবটিক্স ও STEM অলিম্পিয়াডে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকা বাইচে চ্যাম্পিয়ন ক্ষমতাপুর শাপলা বয়েজ ক্লাব প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ, বাধা দেওয়ায় হামলার দাবি ধামইরহাট চেয়ারম্যান প্রার্থী রুহুল আমিন হাসপাতালে সুজনের খোঁজ নিলেন
ভোটের হাওয়া
সোনাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সরোয়ার হোসেনের দোয়া-সমর্থন বাটাজোড়ের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী আনোয়ারা বেগম পত্নীতলায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশাল আনন্দ র‍্যালি গাইবান্ধায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আনন্দ র‍্যালি পাঁচুপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচন: গণসংযোগে ব্যস্ত নিয়ামত আলী বাবু দোয়ারাবাজারে রেজাউল করিমকে ঘিরে বাড়ছে জনআলোচনা সোনাপুরে মানবিক কর্মকাণ্ডে জনসমর্থন পাচ্ছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ছারোয়ার সরিকল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম মৃধাকে ঘিরে আলোচনা ২৩ জুনকে ঘিরে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন আহমদ শফিক শুভ বাসন থানায় পুলিশের জালে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন মন্ডল

আনোয়ারায় চীনা শিল্পাঞ্চল, এক লাখ কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • ৩৬ Time View

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বহুল প্রতীক্ষিত চীনা শিল্পাঞ্চল স্থাপনের জন্য ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। শিল্পায়ন, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে গৃহীত এই প্রকল্পকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দেবে চীন সরকার। অবশিষ্ট অর্থ সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) জানিয়েছে, আনোয়ারা অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত এই প্রকল্পটি প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হবে। কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি কৌশলগত অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্পাঞ্চলটি চালু হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বস্ত্র, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল, ইলেকট্রনিকস এবং রপ্তানিমুখী বিভিন্ন শিল্পখাতে চীনা বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ দেখাতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হয় ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে। ২০১৬ সালে ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলেও বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতায় বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন স্থবির ছিল। পরে ২০২২ সালে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি)-কে ডেভেলপার হিসেবে নির্বাচন করা হয় এবং বর্তমানে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এই চীনা শিল্পাঞ্চল প্রকল্পের আওতায় আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে জেটি সংযোগ সড়ক, চার লেনের সড়ক, বহুমুখী জেটি, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা, সাবস্টেশন, সঞ্চালন লাইন, জলাধার এবং সীমানা প্রাচীর।

বেজা সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ডেভেলপার চুক্তি ও অর্থায়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর মূল অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আনোয়ারা অর্থনৈতিক অঞ্চল বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, কর্ণফুলী টানেল, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বে টার্মিনাল এবং আনোয়ারা-কর্ণফুলী শিল্পবেল্টের উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং দেশের শিল্পখাতে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নরসিংদীতে নামাজরত বৃদ্ধা হ/ত্যা: গ্রে”প্তার তিন

আনোয়ারায় চীনা শিল্পাঞ্চল, এক লাখ কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা

Update Time : ০৭:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বহুল প্রতীক্ষিত চীনা শিল্পাঞ্চল স্থাপনের জন্য ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। শিল্পায়ন, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে গৃহীত এই প্রকল্পকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দেবে চীন সরকার। অবশিষ্ট অর্থ সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) জানিয়েছে, আনোয়ারা অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত এই প্রকল্পটি প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হবে। কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি কৌশলগত অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্পাঞ্চলটি চালু হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বস্ত্র, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল, ইলেকট্রনিকস এবং রপ্তানিমুখী বিভিন্ন শিল্পখাতে চীনা বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ দেখাতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হয় ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে। ২০১৬ সালে ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলেও বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতায় বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন স্থবির ছিল। পরে ২০২২ সালে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি)-কে ডেভেলপার হিসেবে নির্বাচন করা হয় এবং বর্তমানে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এই চীনা শিল্পাঞ্চল প্রকল্পের আওতায় আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে জেটি সংযোগ সড়ক, চার লেনের সড়ক, বহুমুখী জেটি, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা, সাবস্টেশন, সঞ্চালন লাইন, জলাধার এবং সীমানা প্রাচীর।

বেজা সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ডেভেলপার চুক্তি ও অর্থায়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর মূল অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আনোয়ারা অর্থনৈতিক অঞ্চল বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, কর্ণফুলী টানেল, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বে টার্মিনাল এবং আনোয়ারা-কর্ণফুলী শিল্পবেল্টের উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় করে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং দেশের শিল্পখাতে নতুন গতি সঞ্চার হবে।