গাজীপুর , রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকা বাইচে চ্যাম্পিয়ন ক্ষমতাপুর শাপলা বয়েজ ক্লাব প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ, বাধা দেওয়ায় হামলার দাবি ধামইরহাট চেয়ারম্যান প্রার্থী রুহুল আমিন হাসপাতালে সুজনের খোঁজ নিলেন নওগাঁ জেলা কমিউনিটি পুলিশিং সমন্বয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি আমিনুল ইসলামের বগুড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি বিরলে ব্যবসায়ীকে মারধর ও ৯৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সখীপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, সবুজায়নে মানব কল্যাণ যুব সংঘ তিন কমিটি গঠনে প্রধানমন্ত্রীকে পিসিএনপির ধন্যবাদ ও অভিনন্দন গফরগাঁওয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬ শুরু
ভোটের হাওয়া
সোনাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সরোয়ার হোসেনের দোয়া-সমর্থন বাটাজোড়ের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী আনোয়ারা বেগম পত্নীতলায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশাল আনন্দ র‍্যালি গাইবান্ধায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আনন্দ র‍্যালি পাঁচুপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচন: গণসংযোগে ব্যস্ত নিয়ামত আলী বাবু দোয়ারাবাজারে রেজাউল করিমকে ঘিরে বাড়ছে জনআলোচনা সোনাপুরে মানবিক কর্মকাণ্ডে জনসমর্থন পাচ্ছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ছারোয়ার সরিকল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম মৃধাকে ঘিরে আলোচনা ২৩ জুনকে ঘিরে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন আহমদ শফিক শুভ বাসন থানায় পুলিশের জালে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন মন্ডল

কঠোর নজরদারিতে চট্টগ্রাম বন্দরে দস্যুতা শূন্যে, বাড়ছে আন্তর্জাতিক আস্থা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • ৪৯ Time View

চট্টগ্রামঃ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের কঠোর নজরদারির কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে দস্যুতা ও চুরির ঘটনা প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আবারও আস্থা বাড়ছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হওয়ায় বিদেশি জাহাজ চলাচল সহজ হচ্ছে এবং কমছে জাহাজ পরিচালনা ব্যয়।

আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা রিক্যাপের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে কোনো দস্যুতা বা চুরির ঘটনা ঘটেনি। এই তথ্য দেশের সমুদ্র বাণিজ্য নিরাপত্তার জন্য বড় ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, গত দেড় বছরে ১ হাজার ৩২০টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৪৭টি মার্চেন্ট জাহাজে দস্যুতার চেষ্টা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি চুরি হওয়া পাঁচটি জাহাজের মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় নিয়মিত টহল, আধুনিক রাডার প্রযুক্তি ব্যবহার এবং তিন বাহিনীর সমন্বিত অভিযান নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অনেক উন্নত করেছে। কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে আলফা, ব্রেভো ও চার্লি অ্যাংকারেজ এলাকায় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের মেটাল শার্ক বোট নিয়মিত টহল দিচ্ছে। এতে দেশি-বিদেশি জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারছে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান মশিউল আলম স্বপন বলেন, কোনো বন্দরে দস্যুতা কমে গেলে আন্তর্জাতিক বীমা প্রিমিয়াম কমে যায়। এতে জাহাজ পরিচালনা ব্যয়ও হ্রাস পায়। তিনি মনে করেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল থাকলে বিদেশি বিনিয়োগ ও কার্গো হ্যান্ডলিং আরও বাড়বে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য কমোডর আহমেদ আমিন আব্দুল্লাহ বলেন, সাগরে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর নজরদারি চলছে। নিয়মিত টহল ও সমন্বিত অভিযানের কারণে জলদস্যুরা সুযোগ পাচ্ছে না।

বন্দর সচিব সৈয়দ রেফাত হামিম বলেন, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষের যৌথ পদক্ষেপের কারণে বহির্নোঙরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর আস্থা বেড়েছে এবং দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

প্রতি বছর চট্টগ্রাম বন্দরে চার হাজারের বেশি দেশি-বিদেশি জাহাজ পণ্য নিয়ে আসে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ায় ভবিষ্যতে সমুদ্র বাণিজ্য নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকা বাইচে চ্যাম্পিয়ন ক্ষমতাপুর শাপলা বয়েজ ক্লাব

কঠোর নজরদারিতে চট্টগ্রাম বন্দরে দস্যুতা শূন্যে, বাড়ছে আন্তর্জাতিক আস্থা

Update Time : ০২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

চট্টগ্রামঃ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের কঠোর নজরদারির কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে দস্যুতা ও চুরির ঘটনা প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আবারও আস্থা বাড়ছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হওয়ায় বিদেশি জাহাজ চলাচল সহজ হচ্ছে এবং কমছে জাহাজ পরিচালনা ব্যয়।

আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা রিক্যাপের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে কোনো দস্যুতা বা চুরির ঘটনা ঘটেনি। এই তথ্য দেশের সমুদ্র বাণিজ্য নিরাপত্তার জন্য বড় ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, গত দেড় বছরে ১ হাজার ৩২০টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৪৭টি মার্চেন্ট জাহাজে দস্যুতার চেষ্টা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি চুরি হওয়া পাঁচটি জাহাজের মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় নিয়মিত টহল, আধুনিক রাডার প্রযুক্তি ব্যবহার এবং তিন বাহিনীর সমন্বিত অভিযান নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অনেক উন্নত করেছে। কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে আলফা, ব্রেভো ও চার্লি অ্যাংকারেজ এলাকায় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের মেটাল শার্ক বোট নিয়মিত টহল দিচ্ছে। এতে দেশি-বিদেশি জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারছে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান মশিউল আলম স্বপন বলেন, কোনো বন্দরে দস্যুতা কমে গেলে আন্তর্জাতিক বীমা প্রিমিয়াম কমে যায়। এতে জাহাজ পরিচালনা ব্যয়ও হ্রাস পায়। তিনি মনে করেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল থাকলে বিদেশি বিনিয়োগ ও কার্গো হ্যান্ডলিং আরও বাড়বে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য কমোডর আহমেদ আমিন আব্দুল্লাহ বলেন, সাগরে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর নজরদারি চলছে। নিয়মিত টহল ও সমন্বিত অভিযানের কারণে জলদস্যুরা সুযোগ পাচ্ছে না।

বন্দর সচিব সৈয়দ রেফাত হামিম বলেন, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষের যৌথ পদক্ষেপের কারণে বহির্নোঙরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর আস্থা বেড়েছে এবং দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

প্রতি বছর চট্টগ্রাম বন্দরে চার হাজারের বেশি দেশি-বিদেশি জাহাজ পণ্য নিয়ে আসে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ায় ভবিষ্যতে সমুদ্র বাণিজ্য নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।