গাজীপুর , বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
নাসিরনগরে জাল টাকা উদ্ধার: ১২টি নোটসহ একজন গ্রেপ্তার মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান হলেন চট্টগ্রাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতে ২৪৫ কোটি টাকার প্রস্তাব গাজীপুরে ড্রেন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, দ্রুত ব্যবস্থা চাইলেন এলাকাবাসী উত্তরায় বাস দুর্ঘটনায় দুই সাংবাদিক নিহত, নিরাপদ সড়কের দাবিতে ক্ষোভ দোয়ারাবাজারে রেজাউল করিমকে ঘিরে বাড়ছে জনআলোচনা রাঙ্গামাটি হাসপাতালে ইএনটি বিশেষজ্ঞ ডা. ওমর ফারুকের অবসর ২০ জুলাই কারফিউ: বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সেনা মোতায়েন, স্তব্ধ ময়মনসিংহে জুলাই শহিদ দিবস ২০২৬ উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত ছাতকে রহস্যজনক মৃত্যু: পিতা-পুত্রের পাল্টাপাল্টি মামলা, তদন্তের দাবি
ভোটের হাওয়া
দোয়ারাবাজারে রেজাউল করিমকে ঘিরে বাড়ছে জনআলোচনা সোনাপুরে মানবিক কর্মকাণ্ডে জনসমর্থন পাচ্ছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ছারোয়ার সরিকল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম মৃধাকে ঘিরে আলোচনা ২৩ জুনকে ঘিরে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন আহমদ শফিক শুভ বাসন থানায় পুলিশের জালে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন মন্ডল মান্দা যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল: অপপ্রচার ও অশিষ্ট রাজনীতির প্রতিবাদ গাজীপুরে তারেক জিয়া পরিষদের ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা নাসিরনগরে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন, থানায় মামলা দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর নতুন সিদ্ধান্তে তরিকুল ইসলাম সজিব নেত্রকোণা ছাত্রদল কমিটিতে সহ-সভাপতি হলেন গোলাম কিবরিয়া

কঠোর নজরদারিতে চট্টগ্রাম বন্দরে দস্যুতা শূন্যে, বাড়ছে আন্তর্জাতিক আস্থা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
  • ৪২ Time View

চট্টগ্রামঃ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের কঠোর নজরদারির কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে দস্যুতা ও চুরির ঘটনা প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আবারও আস্থা বাড়ছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হওয়ায় বিদেশি জাহাজ চলাচল সহজ হচ্ছে এবং কমছে জাহাজ পরিচালনা ব্যয়।

আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা রিক্যাপের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে কোনো দস্যুতা বা চুরির ঘটনা ঘটেনি। এই তথ্য দেশের সমুদ্র বাণিজ্য নিরাপত্তার জন্য বড় ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, গত দেড় বছরে ১ হাজার ৩২০টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৪৭টি মার্চেন্ট জাহাজে দস্যুতার চেষ্টা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি চুরি হওয়া পাঁচটি জাহাজের মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় নিয়মিত টহল, আধুনিক রাডার প্রযুক্তি ব্যবহার এবং তিন বাহিনীর সমন্বিত অভিযান নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অনেক উন্নত করেছে। কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে আলফা, ব্রেভো ও চার্লি অ্যাংকারেজ এলাকায় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের মেটাল শার্ক বোট নিয়মিত টহল দিচ্ছে। এতে দেশি-বিদেশি জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারছে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান মশিউল আলম স্বপন বলেন, কোনো বন্দরে দস্যুতা কমে গেলে আন্তর্জাতিক বীমা প্রিমিয়াম কমে যায়। এতে জাহাজ পরিচালনা ব্যয়ও হ্রাস পায়। তিনি মনে করেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল থাকলে বিদেশি বিনিয়োগ ও কার্গো হ্যান্ডলিং আরও বাড়বে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য কমোডর আহমেদ আমিন আব্দুল্লাহ বলেন, সাগরে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর নজরদারি চলছে। নিয়মিত টহল ও সমন্বিত অভিযানের কারণে জলদস্যুরা সুযোগ পাচ্ছে না।

বন্দর সচিব সৈয়দ রেফাত হামিম বলেন, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষের যৌথ পদক্ষেপের কারণে বহির্নোঙরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর আস্থা বেড়েছে এবং দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

প্রতি বছর চট্টগ্রাম বন্দরে চার হাজারের বেশি দেশি-বিদেশি জাহাজ পণ্য নিয়ে আসে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ায় ভবিষ্যতে সমুদ্র বাণিজ্য নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নাসিরনগরে জাল টাকা উদ্ধার: ১২টি নোটসহ একজন গ্রেপ্তার

কঠোর নজরদারিতে চট্টগ্রাম বন্দরে দস্যুতা শূন্যে, বাড়ছে আন্তর্জাতিক আস্থা

Update Time : ০২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

চট্টগ্রামঃ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের কঠোর নজরদারির কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে দস্যুতা ও চুরির ঘটনা প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আবারও আস্থা বাড়ছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হওয়ায় বিদেশি জাহাজ চলাচল সহজ হচ্ছে এবং কমছে জাহাজ পরিচালনা ব্যয়।

আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা রিক্যাপের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে কোনো দস্যুতা বা চুরির ঘটনা ঘটেনি। এই তথ্য দেশের সমুদ্র বাণিজ্য নিরাপত্তার জন্য বড় ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, গত দেড় বছরে ১ হাজার ৩২০টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৪৭টি মার্চেন্ট জাহাজে দস্যুতার চেষ্টা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি চুরি হওয়া পাঁচটি জাহাজের মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় নিয়মিত টহল, আধুনিক রাডার প্রযুক্তি ব্যবহার এবং তিন বাহিনীর সমন্বিত অভিযান নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অনেক উন্নত করেছে। কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে আলফা, ব্রেভো ও চার্লি অ্যাংকারেজ এলাকায় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের মেটাল শার্ক বোট নিয়মিত টহল দিচ্ছে। এতে দেশি-বিদেশি জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারছে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান মশিউল আলম স্বপন বলেন, কোনো বন্দরে দস্যুতা কমে গেলে আন্তর্জাতিক বীমা প্রিমিয়াম কমে যায়। এতে জাহাজ পরিচালনা ব্যয়ও হ্রাস পায়। তিনি মনে করেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল থাকলে বিদেশি বিনিয়োগ ও কার্গো হ্যান্ডলিং আরও বাড়বে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য কমোডর আহমেদ আমিন আব্দুল্লাহ বলেন, সাগরে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর নজরদারি চলছে। নিয়মিত টহল ও সমন্বিত অভিযানের কারণে জলদস্যুরা সুযোগ পাচ্ছে না।

বন্দর সচিব সৈয়দ রেফাত হামিম বলেন, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষের যৌথ পদক্ষেপের কারণে বহির্নোঙরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর আস্থা বেড়েছে এবং দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

প্রতি বছর চট্টগ্রাম বন্দরে চার হাজারের বেশি দেশি-বিদেশি জাহাজ পণ্য নিয়ে আসে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ায় ভবিষ্যতে সমুদ্র বাণিজ্য নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।