
এম এ মান্নান স্টাফ রিপোর্টার নিয়ামতপুর (নওগাঁ)
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়েও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার নন-এমপিও শিক্ষক। বছরের পর বছর বিনা বেতন কিংবা অল্প সম্মানীতে পাঠদান করেও তারা পাচ্ছেন না ন্যায্য স্বীকৃতি। ফলে আবারও জোরালো হয়েছে এমপিওভুক্তির দাবি।
নওগাঁর নিয়ামতপুর থেকে স্টাফ রিপোর্টার এম এ মান্নান জানান, দেশের বিভিন্ন নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করেও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন। অনেক শিক্ষক ২০ থেকে ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে কোনো সরকারি বেতন ছাড়াই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়লেও তারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সম্প্রতি এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে পাবনার এক শিক্ষক মৃত্যুবরণ করেন। এর আগেও আন্দোলন, অনশন ও অসুস্থতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। তারপরও তারা শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করেননি।
একজন শিক্ষিকা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,
“বিনা বেতনে চাকরি করছি ৩২ বছর। জাতির কারিগর হয়েও না খেয়ে শিক্ষা দিতে হচ্ছে।”
শিক্ষকদের অভিযোগ, সরকার বহুবার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে নতুন করে এমপিওভুক্তির কার্যকর উদ্যোগ খুব কম দেখা যায়। নানা শর্ত ও জটিল প্রক্রিয়ার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও তালিকার বাইরে রয়ে গেছে। অথচ শিক্ষার মান ধরে রাখা, পরীক্ষার ফল ভালো করা এবং শিক্ষার্থী ধরে রাখার দায়িত্ব তাদেরই পালন করতে হচ্ছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। একজন শিক্ষক যখন নিজের সংসার চালাতে হিমশিম খান, তখন তার পক্ষে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের উন্নয়ন এবং শিক্ষার মান উন্নত করতে হলে দ্রুত নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করতে হবে। এতে শিক্ষকরা আর্থিক নিরাপত্তা পাবেন এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।
সচেতন মহল বলছে, শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। কারণ শিক্ষকদের বাঁচাতে পারলেই টিকে থাকবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং গড়ে উঠবে একটি উন্নত জাতি।

Reporter Name 


















