গাজীপুর , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
নরসিংদীতে নামাজরত বৃদ্ধা হ/ত্যা: গ্রে”প্তার তিন কাপ্তাইয়ে বিজিবির অভিযানে ২৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা জব্দ, আটক ২ রাঙামাটি সদর জোনে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ-২০২৬ উদ্বোধন আউশকান্দিতে শিক্ষার অগ্রগতি ও গভর্নিং বডি নির্বাচন নিয়ে মতবিনিময় মিরসরাইয়ে বিএনপি নেতা আলীউল কবিরের চেয়ারম্যান মনোনয়ন চাওয়া ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ রিফাত বিন হামিদ রাফি রোবটিক্স ও STEM অলিম্পিয়াডে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকা বাইচে চ্যাম্পিয়ন ক্ষমতাপুর শাপলা বয়েজ ক্লাব প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ, বাধা দেওয়ায় হামলার দাবি ধামইরহাট চেয়ারম্যান প্রার্থী রুহুল আমিন হাসপাতালে সুজনের খোঁজ নিলেন
ভোটের হাওয়া
সোনাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সরোয়ার হোসেনের দোয়া-সমর্থন বাটাজোড়ের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী আনোয়ারা বেগম পত্নীতলায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশাল আনন্দ র‍্যালি গাইবান্ধায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আনন্দ র‍্যালি পাঁচুপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচন: গণসংযোগে ব্যস্ত নিয়ামত আলী বাবু দোয়ারাবাজারে রেজাউল করিমকে ঘিরে বাড়ছে জনআলোচনা সোনাপুরে মানবিক কর্মকাণ্ডে জনসমর্থন পাচ্ছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ছারোয়ার সরিকল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম মৃধাকে ঘিরে আলোচনা ২৩ জুনকে ঘিরে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন আহমদ শফিক শুভ বাসন থানায় পুলিশের জালে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন মন্ডল

মান্দায় বিআরডিবি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অফিস ফাঁকির অভিযোগ ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • ৭১ Time View

নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলায় মান্দা বিআরডিবি কর্মকর্তা আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিস ফাঁকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অফিসে উপস্থিত না থাকা এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র এবং সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, উপজেলা বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আফজাল হোসেন প্রায়ই দেরিতে অফিসে আসেন এবং অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের আগেই অফিস ত্যাগ করেন। এ কারণে সাধারণ সেবা নিতে আসা মানুষদের নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বুধবার সকাল থেকেই কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী মান্দা উপজেলা বিআরডিবি কার্যালয়ে উপস্থিত হন। সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করলেও ওই কর্মকর্তার দেখা মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অফিসে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। সরকারি কর্মচারী আইন–২০১৮ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা–২০১৯ অনুযায়ী, দায়িত্বে অবহেলা বা নিয়মিত দেরিতে অফিসে উপস্থিত হওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এসব নিয়মের তোয়াক্কা না করেই আফজাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নিজের সুবিধামতো অফিস পরিচালনা করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরডিবির এক কর্মচারী জানান, আফজাল হোসেন মূলত রাজশাহী থেকে মান্দায় অফিস করেন। প্রায় প্রতিদিনই তিনি ১ থেকে ২ ঘণ্টা দেরিতে অফিসে আসেন এবং অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের আগেই অফিস ত্যাগ করেন। এতে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের কাজকর্ম বিলম্বিত হচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন সেবা প্রত্যাশী জানান, বিআরডিবি কার্যালয়ে বিভিন্ন সমবায় ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের বিষয়ে পরামর্শ এবং কাগজপত্র সংক্রান্ত কাজের জন্য প্রায়ই মানুষ আসেন। কিন্তু কর্মকর্তাকে সময়মতো অফিসে না পাওয়ায় অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন। ফলে জনগণের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হয়েও কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে অফিসটি।

এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্ত কর্মকর্তা আফজাল হোসেন গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি কখন অফিস করবো, সেই কৈফিয়ত কি আপনাদের দিতে হবে?” তার এই মন্তব্যকে অনেকেই দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মনে করছেন।

এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত এবং জনগণের সেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, অফিস ফাঁকির অভিযোগ যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তারা বলছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখতে হলে দায়িত্বে অবহেলার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা আশা করছেন, বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নরসিংদীতে নামাজরত বৃদ্ধা হ/ত্যা: গ্রে”প্তার তিন

মান্দায় বিআরডিবি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অফিস ফাঁকির অভিযোগ ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

Update Time : ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলায় মান্দা বিআরডিবি কর্মকর্তা আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিস ফাঁকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অফিসে উপস্থিত না থাকা এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র এবং সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, উপজেলা বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আফজাল হোসেন প্রায়ই দেরিতে অফিসে আসেন এবং অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের আগেই অফিস ত্যাগ করেন। এ কারণে সাধারণ সেবা নিতে আসা মানুষদের নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বুধবার সকাল থেকেই কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী মান্দা উপজেলা বিআরডিবি কার্যালয়ে উপস্থিত হন। সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করলেও ওই কর্মকর্তার দেখা মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অফিসে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। সরকারি কর্মচারী আইন–২০১৮ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা–২০১৯ অনুযায়ী, দায়িত্বে অবহেলা বা নিয়মিত দেরিতে অফিসে উপস্থিত হওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এসব নিয়মের তোয়াক্কা না করেই আফজাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নিজের সুবিধামতো অফিস পরিচালনা করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরডিবির এক কর্মচারী জানান, আফজাল হোসেন মূলত রাজশাহী থেকে মান্দায় অফিস করেন। প্রায় প্রতিদিনই তিনি ১ থেকে ২ ঘণ্টা দেরিতে অফিসে আসেন এবং অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের আগেই অফিস ত্যাগ করেন। এতে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের কাজকর্ম বিলম্বিত হচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন সেবা প্রত্যাশী জানান, বিআরডিবি কার্যালয়ে বিভিন্ন সমবায় ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের বিষয়ে পরামর্শ এবং কাগজপত্র সংক্রান্ত কাজের জন্য প্রায়ই মানুষ আসেন। কিন্তু কর্মকর্তাকে সময়মতো অফিসে না পাওয়ায় অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন। ফলে জনগণের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হয়েও কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে অফিসটি।

এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্ত কর্মকর্তা আফজাল হোসেন গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি কখন অফিস করবো, সেই কৈফিয়ত কি আপনাদের দিতে হবে?” তার এই মন্তব্যকে অনেকেই দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মনে করছেন।

এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত এবং জনগণের সেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, অফিস ফাঁকির অভিযোগ যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তারা বলছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখতে হলে দায়িত্বে অবহেলার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা আশা করছেন, বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।