গাজীপুর , শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
শিবপুরে সরকারি স্কুল শিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, শোক নেমে এসেছে বৃষ্টি ভালোবাসি কবিতা: তাছলিমা মুক্তার হৃদয়ছোঁয়া প্রকৃতি প্রেম লালমনিরহাট শিশু হত্যা: দ্রুত বিচার দাবি ত্রাণমন্ত্রীর ময়মনসিংহে এসডিজি ও পরিসংখ্যান সক্ষমতা বৃদ্ধির সেমিনার অনুষ্ঠিত হোমনায় সংবাদ প্রকাশে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ঠাকুরগাঁও জব ফেয়ারে সিভি জমা দিয়ে মিলছে চাকরির সুযোগ মাদক সেবনের কথিত ভিডিওতে আক্কেলপুরে চা”ঞ্চ’ল্য, তদন্ত দাবি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্রাফিক অভিযানে হেলমেট সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার ঠাকুরগাঁও টাঙ্গন নদীতে স্কুল ছাত্র নিখোঁজের পর মরদেহ উদ্ধার কালাকৈরে মতবিনিময় সভা শেষে উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রশাসক

ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে মাঠে নামলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
  • ৩৮ Time View

ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে মাঠে নামলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

“কখনো ভাবিনি জেলা প্রশাসক নিজে বাসায় এসে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহে নিজে হাজির হয়ে তথ্য যাচাই করবেন। তার আচরণে আমরা মুগ্ধ।”

চট্টগ্রামে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিতে কোনো ধরনের ভুল যেন না থাকে, সে লক্ষ্য নিয়ে ‘জিরো এরর’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। পরীক্ষামূলকভাবে মহানগরের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

১ মার্চ(রোববার) নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে জেলা প্রশাসক নিজেই কয়েকটি বাসায় গিয়ে তথ্য সংগ্রহের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে বলেন, তথ্য সংগ্রহে কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না।

পরিদর্শনকালে তিনি পতেঙ্গার বাটারফ্লাই এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত নাবিক নুর বক্সের বাসায় গিয়ে তথ্য যাচাই কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। নুর বক্স বলেন, কখনো ভাবিনি জেলা প্রশাসক নিজে বাসায় এসে তথ্য যাচাই করবেন। তার আচরণে আমরা মুগ্ধ।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিটি পরিবারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার সঠিক চিত্র তুলে ধরতেই এই কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পরে ধাপে ধাপে সব পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

তিনি তথ্য সংগ্রহকারীদের উদ্দেশে বলেন, সঠিক তথ্য ছাড়া সঠিক সিদ্ধান্ত সম্ভব নয়। কোনো পরিবার যেন ভুল তথ্যের কারণে রাষ্ট্রীয় সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

পরিদর্শনের সময় রোকেয়া বেগম নামের এক নারীর কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে জেলা প্রশাসক সহজ ভাষায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারগুলোকে রাষ্ট্র সহায়তা করবে। তবে এজন্য সঠিক তথ্য দেওয়া জরুরি।

জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত পরীক্ষামূলক এই কার্যক্রমে প্রায় ৯০০ কর্মী মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, আয়-ব্যয় ও সামাজিক অবস্থার তথ্য সংগ্রহ করছেন।

পরিদর্শনকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দীন হাসান, সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ফরিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

শিবপুরে সরকারি স্কুল শিক্ষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, শোক নেমে এসেছে

ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে মাঠে নামলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

Update Time : ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে মাঠে নামলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

“কখনো ভাবিনি জেলা প্রশাসক নিজে বাসায় এসে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহে নিজে হাজির হয়ে তথ্য যাচাই করবেন। তার আচরণে আমরা মুগ্ধ।”

চট্টগ্রামে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিতে কোনো ধরনের ভুল যেন না থাকে, সে লক্ষ্য নিয়ে ‘জিরো এরর’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। পরীক্ষামূলকভাবে মহানগরের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

১ মার্চ(রোববার) নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে জেলা প্রশাসক নিজেই কয়েকটি বাসায় গিয়ে তথ্য সংগ্রহের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে বলেন, তথ্য সংগ্রহে কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না।

পরিদর্শনকালে তিনি পতেঙ্গার বাটারফ্লাই এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত নাবিক নুর বক্সের বাসায় গিয়ে তথ্য যাচাই কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। নুর বক্স বলেন, কখনো ভাবিনি জেলা প্রশাসক নিজে বাসায় এসে তথ্য যাচাই করবেন। তার আচরণে আমরা মুগ্ধ।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিটি পরিবারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার সঠিক চিত্র তুলে ধরতেই এই কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পরে ধাপে ধাপে সব পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

তিনি তথ্য সংগ্রহকারীদের উদ্দেশে বলেন, সঠিক তথ্য ছাড়া সঠিক সিদ্ধান্ত সম্ভব নয়। কোনো পরিবার যেন ভুল তথ্যের কারণে রাষ্ট্রীয় সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

পরিদর্শনের সময় রোকেয়া বেগম নামের এক নারীর কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে জেলা প্রশাসক সহজ ভাষায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারগুলোকে রাষ্ট্র সহায়তা করবে। তবে এজন্য সঠিক তথ্য দেওয়া জরুরি।

জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত পরীক্ষামূলক এই কার্যক্রমে প্রায় ৯০০ কর্মী মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, আয়-ব্যয় ও সামাজিক অবস্থার তথ্য সংগ্রহ করছেন।

পরিদর্শনকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দীন হাসান, সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ফরিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।