
মোঃ ইলিয়াছ খান, সালথা উপজেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুর:
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গুরদিয়া বাজার সংলগ্ন দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত কৃষি অফিস ভবনটি সংস্কার করে পুনরায় চালুর জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। দীর্ঘ প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে ভবনটিতে কোনো কার্যক্রম না থাকায় এটি বর্তমানে অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে আছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গুরদিয়া বাজারের পাশে থাকা গুরদিয়া কৃষি অফিস ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার না হওয়ায় জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের আশপাশে আগাছা ও জঙ্গল তৈরি হয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটি অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
স্থানীয়রা জানান, একসময় এই কৃষি অফিসটি এলাকার কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিতেন। জমিতে কোন ফসলের জন্য কী ধরনের পরিচর্যা প্রয়োজন, কখন কোন উপকরণ ব্যবহার করতে হবে এবং কৃষি উৎপাদন বাড়াতে কী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার—এসব বিষয়ে কৃষকরা এখান থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেতেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতা ফিরোজ খান ও মাহফুজ খান বলেন, আগে এই অফিসে কৃষি কর্মকর্তারা এসে সাধারণ কৃষকদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতেন। অফিসটি চালু থাকায় কৃষকরাও সহজেই কৃষি সংক্রান্ত পরামর্শ নিতে পারতেন। এতে এলাকার কৃষকরা অনেক উপকৃত হয়েছেন।
স্থানীয় কৃষকরাও দ্রুত সালথা কৃষি অফিস সংস্কার করে ভবনটি পুনরায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কৃষিপ্রধান এই এলাকার কৃষকদের কাছে কৃষি সম্প্রসারণ সেবা আরও সহজে পৌঁছে দিতে অফিসটি চালু করা প্রয়োজন।
তারা বলেন, প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে ভবনটি অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। দ্রুত সংস্কার করে আগের মতো কৃষি কার্যক্রম চালু করা হলে এলাকার কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি সেবা ও পরামর্শও কৃষকদের কাছে সহজে পৌঁছাবে।
স্থানীয়রা এ বিষয়ে সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। পাশাপাশি ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছেও ভবনটি সংস্কার করে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, ভবনটি পুনরায় সংস্কার করে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় কৃষি সম্প্রসারণের সেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত বরাদ্দ নিশ্চিত করে ভবনটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কৃষি কার্যক্রম আবারও চালু হবে। এতে সালথার গুরদিয়া এলাকার কৃষকরা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা সহজে পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

Reporter Name 



















