
এম এস শ্রাবণ মাহমুদ স্টাফ রিপোর্টার
রাঙ্গামাটিতে নিখোঁজ নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। জেলার সদর উপজেলার রিজার্ভ মুখ এলাকায় কর্ণফুলী নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রবিবার (২১ জুন) সকালে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়।
নিহত নারী মুক্তা বড়ুয়া (২৮)। তিনি রাঙ্গামাটি শহরের বিজিবি রোড এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত শুক্রবার ভোরে তিনি পরিবারের অজান্তে বাসা থেকে বের হয়ে যান। এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে শনিবার রাঙ্গামাটি কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এদিকে রবিবার সকালে স্থানীয় এক শিশু কর্ণফুলী নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখতে পায়। পরে সে বিষয়টি আশপাশের লোকজনকে জানায়। স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
সংবাদ পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে রাঙ্গামাটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
রাঙ্গামাটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লিডার মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। প্রয়োজনীয় উদ্ধার কার্যক্রম শেষে মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রাঙ্গামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসীম উদ্দিন বলেন, নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে পরিবারের করা একটি সাধারণ ডায়েরি থানায় রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মুক্তা বড়ুয়া মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
স্থানীয়দের মতে, এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, রাঙ্গামাটিতে নিখোঁজ নারীর মরদেহ উদ্ধার এবং কর্ণফুলী নদীতে মরদেহ উদ্ধার ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

Reporter Name 


















