
সাংবাদিক মোঃ মোতালেব হোসেন:
গাজীপুর মহানগরের ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা চান্দনা চৌরাস্তায় সংঘটিত একটি চুরির ঘটনা ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গাজীপুরে কাপড় চুরির এ ঘটনায় একটি কাপড়ের বড় বাক্সের তালা ভেঙে বিপুল পরিমাণ শার্ট নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর দাবি, অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে চুরি সংঘটিত করে প্রায় ৭৫ হাজার ৩০০ টাকার মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় কাপড় ব্যবসায়ী মো. আলমগীর আলী (৫৫) দীর্ঘদিন ধরে কাপড়ের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ব্যক্তিগত কাজে তিনি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকায় অবস্থান করছিলেন। তার অনুপস্থিতির সুযোগে দুর্বৃত্তরা তার ব্যবসায়িক মালামালের দিকে নজর দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, চান্দনা চৌরাস্তা ঢাকা রোড এলাকায় তার বড় ভাইয়ের হার্ডওয়্যার দোকানের সামনে একটি বড় কাপড়ের বাক্স রাখা ছিল। ওই বাক্সে প্রায় ২৫১ পিস শার্ট সংরক্ষিত ছিল। প্রতিটি শার্ট বিক্রির জন্য প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়েছিল। কিন্তু ব্যবসায়ীর অনুপস্থিতিতে সেই বাক্সই চোরের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সকাল প্রায় ১০টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এসে কৌশলে বাক্সের তালা ভেঙে ফেলে। এরপর বাক্সের ভেতরে থাকা শার্টগুলো একে একে বের করে নিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি এতটাই পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে যে, আশপাশের কেউ তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বুঝতে পারেননি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরায় পুরো ঘটনার দৃশ্য ধারণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বাক্সের কাছে আসে এবং কিছু সময় অবস্থান করার পর তালা খুলে ভেতরের কাপড় বের করতে শুরু করে। পরে সে শার্টগুলো নিয়ে স্থান ত্যাগ করে।
এই চান্দনা চৌরাস্তায় চুরির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, এলাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে দিনের আলোতে এমন ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। অনেক ব্যবসায়ী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হতে পারে।
ভুক্তভোগী মো. আলমগীর আলী বাড়িতে ফিরে মালামাল না পেয়ে প্রথমে বিস্মিত হন। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হন বলে জানান। তিনি বলেন, তার ব্যবসার জন্য শার্টগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এসব পণ্য বিক্রির মাধ্যমে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু চুরির ঘটনায় তিনি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মতে, চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। সেখানে প্রকাশ্যে তালা ভেঙে মালামাল চুরি হয়ে যাওয়া সাধারণ মানুষের মধ্যেও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু সিসিটিভি স্থাপন করলেই হবে না; নিয়মিত টহল এবং নিরাপত্তা তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
এদিকে ঘটনার পর ভুক্তভোগী বাসন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি চুরির ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছেন এবং সিসিটিভি ফুটেজের কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফুটেজে থাকা ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা মনে করছেন, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে অপরাধপ্রবণতা কমবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বর্তমানে গাজীপুরে কাপড় চুরি এবং চান্দনা চৌরাস্তায় চুরির এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ন্যায়বিচার পাবেন।

Reporter Name 


















