গাজীপুর , সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ খবর :
রাঙামাটি সদর জোনে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ-২০২৬ উদ্বোধন আউশকান্দিতে শিক্ষার অগ্রগতি ও গভর্নিং বডি নির্বাচন নিয়ে মতবিনিময় মিরসরাইয়ে বিএনপি নেতা আলীউল কবিরের চেয়ারম্যান মনোনয়ন চাওয়া ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ রিফাত বিন হামিদ রাফি রোবটিক্স ও STEM অলিম্পিয়াডে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকা বাইচে চ্যাম্পিয়ন ক্ষমতাপুর শাপলা বয়েজ ক্লাব প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ, বাধা দেওয়ায় হামলার দাবি ধামইরহাট চেয়ারম্যান প্রার্থী রুহুল আমিন হাসপাতালে সুজনের খোঁজ নিলেন নওগাঁ জেলা কমিউনিটি পুলিশিং সমন্বয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি আমিনুল ইসলামের
ভোটের হাওয়া
সোনাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সরোয়ার হোসেনের দোয়া-সমর্থন বাটাজোড়ের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী আনোয়ারা বেগম পত্নীতলায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশাল আনন্দ র‍্যালি গাইবান্ধায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আনন্দ র‍্যালি পাঁচুপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচন: গণসংযোগে ব্যস্ত নিয়ামত আলী বাবু দোয়ারাবাজারে রেজাউল করিমকে ঘিরে বাড়ছে জনআলোচনা সোনাপুরে মানবিক কর্মকাণ্ডে জনসমর্থন পাচ্ছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ছারোয়ার সরিকল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম মৃধাকে ঘিরে আলোচনা ২৩ জুনকে ঘিরে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন আহমদ শফিক শুভ বাসন থানায় পুলিশের জালে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন মন্ডল

শিবির নেতা সাইফুল্লাহ হত্যা মামলার প্রধান আসামি যুবদল নেতা মুকুল গ্রেপ্তার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ৪১ Time View

ফয়সাল রহমান জনি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার আলোচিত সাইফুল্লাহ হত্যা মামলা নতুন মোড় নিয়েছে। মামলার প্রধান আসামি এবং বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সদ্য বহিষ্কৃত নেতা মোকলেসুর রহমান মুকুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মুকুল গ্রেপ্তার হওয়ার পর এ মামলায় মোট গ্রেপ্তার হওয়া আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে।

জেলা প্রতিনিধি ফয়সল রহমান জনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে বুধবার (১ জুলাই) রাতে গাজীপুরের হারিকেন কোম্পানি এলাকা থেকে সাঘাটা থানা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত মোকলেসুর রহমান মুকুল সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জাহিদুল ইসলামের ছেলে এবং বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। সাম্প্রতিক ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

ওসি মাহবুব আলম বলেন, সাইফুল্লাহ হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুন বিকেলে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চারমাথা এলাকায় প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে নিহত হন বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী। তিনি শিমুলতাইড় গোরস্থানপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান মাওলানার ছেলে এবং রংপুর ধাপের সাতগড়া মডেল কামিল মাদরাসার আল-কুরআন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন বিকেল পৌনে ৩টার দিকে মুকুল ও তার সহযোগীরা সাইফুল্লাহ বারীর ওপর হামলা চালিয়ে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও তিনি মারা যান।

ঘটনার পর ২২ জুন নিহতের বাবা হাবিবুর রহমান সাঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১৪ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। এরপর থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে একে একে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ জনতা মুকুলের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। একই সঙ্গে গাইবান্ধা ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।

২২ জুন বাদ আসর বোনারপাড়া সরকারি আজহার আলী স্কুল মাঠে সাইফুল্লাহ বারীর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মী, বিপুলসংখ্যক মুসল্লি এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন। পরে তাকে বোনারপাড়া সরকারি কবরস্থানে দাফন করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, সাইফুল্লাহ হত্যা মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রাঙামাটি সদর জোনে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ-২০২৬ উদ্বোধন

শিবির নেতা সাইফুল্লাহ হত্যা মামলার প্রধান আসামি যুবদল নেতা মুকুল গ্রেপ্তার

Update Time : ১১:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

ফয়সাল রহমান জনি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার আলোচিত সাইফুল্লাহ হত্যা মামলা নতুন মোড় নিয়েছে। মামলার প্রধান আসামি এবং বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সদ্য বহিষ্কৃত নেতা মোকলেসুর রহমান মুকুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মুকুল গ্রেপ্তার হওয়ার পর এ মামলায় মোট গ্রেপ্তার হওয়া আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে।

জেলা প্রতিনিধি ফয়সল রহমান জনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে বুধবার (১ জুলাই) রাতে গাজীপুরের হারিকেন কোম্পানি এলাকা থেকে সাঘাটা থানা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত মোকলেসুর রহমান মুকুল সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জাহিদুল ইসলামের ছেলে এবং বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। সাম্প্রতিক ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

ওসি মাহবুব আলম বলেন, সাইফুল্লাহ হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুন বিকেলে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চারমাথা এলাকায় প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে নিহত হন বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী। তিনি শিমুলতাইড় গোরস্থানপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান মাওলানার ছেলে এবং রংপুর ধাপের সাতগড়া মডেল কামিল মাদরাসার আল-কুরআন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন বিকেল পৌনে ৩টার দিকে মুকুল ও তার সহযোগীরা সাইফুল্লাহ বারীর ওপর হামলা চালিয়ে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও তিনি মারা যান।

ঘটনার পর ২২ জুন নিহতের বাবা হাবিবুর রহমান সাঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১৪ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। এরপর থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে একে একে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ জনতা মুকুলের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। একই সঙ্গে গাইবান্ধা ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।

২২ জুন বাদ আসর বোনারপাড়া সরকারি আজহার আলী স্কুল মাঠে সাইফুল্লাহ বারীর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মী, বিপুলসংখ্যক মুসল্লি এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন। পরে তাকে বোনারপাড়া সরকারি কবরস্থানে দাফন করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, সাইফুল্লাহ হত্যা মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।